যোগ সম্পর্কে সাতটি প্রচলিত ধারণা

আজকাল পৃথিবী জুড়ে যোগের প্রচুর চল হয়েছে যার সাথে প্রকৃত যোগের কোনও সম্পর্ক নেই। এই সুপ্রাচীন পদ্ধতিটি সম্পর্কে অনেক ভুল ধারনা দীর্ঘদিন ধরে সত্যের বেশে প্রচারিত হচ্ছে। সদগুরু নিজে সে সম্পর্কে যে ব্যখ্যা দিয়েছেন তার মাধ্যমে এবার যোগের প্রকৃত সত্য উন্মোচোনের সময় এসেছে।
যোগ সম্পর্কে সাতটি প্রচলিত ধারণা
 

আজকাল পৃথিবী জুড়ে যোগের প্রচুর চল হয়েছে যার সাথে প্রকৃত যোগের কোনও সম্পর্ক নেই। এই সুপ্রাচীন পদ্ধতিটি সম্পর্কে অনেক ভুল ধারনা দীর্ঘদিন ধরে সত্যের বেশে প্রচারিত হচ্ছে। সদগুরু নিজে সে সম্পর্কে যে ব্যখ্যা দিয়েছেন তার মাধ্যমে এবার যোগের প্রকৃত সত্য উন্মোচোনের সময় এসেছে।

প্রচলিত ধারণা # ১: যোগের উৎপত্তি হিন্দুধর্ম থেকে

সদগুরু: যোগ ততটাই হিন্দুধর্মের যতটা মাধ্যাকর্ষণ খ্রীস্ট ধর্মের। আইজ্যাক নিউটন খ্রীস্ট ধর্মাবলম্বী ছিলেন আর মাধ্যাকর্ষণের তত্ত্বটি তিনি আবিষ্কার করেছিলেন বলেই কি মধ্যাকর্ষণ খ্রীস্ট ধর্মের হয়ে যায়? যোগ একটি প্রযুক্তি। এই প্রযুক্তি যিনি চাইবেন, তিনিই কাজে লাগাতে পারেন।

কিছু অজ্ঞ মানুষের দৌলতে যোগ বিজ্ঞান যে হিন্দুত্বের তকমা পেয়েছে তার কারণ, এই বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিটির জন্ম এবং প্রসার এই সংস্কৃতিতে আর স্বাভাবিক ভাবেই মানুষের মনে এটি হিন্দু জীবনশৈলীর অঙ্গ হিসেবে পরিচিত হয়েছে। “হিন্দু” শব্দটি এসেছে মূল শব্দ “সিন্ধু” থেকে, যা একটি নদীর নাম। যেহেতু এই সভ্যতা সিন্ধু তথা ইন্ডাস নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল, তাই এই সভ্যতার নাম হয়ে গেল হিন্দু। হিন্দু কোনও ধর্মমত নয় - এটা একটা ভৌগলিক তথা সাংস্কৃতিক পরিচয়।

প্রচলিত ধারণা # ২:যোগ মানে, জিলিপির মতো,অসম্ভব কিছু অঙ্গভঙ্গি

সদগুরু: আমরা যখন ‘যোগ’ শব্দটা বলি, পৃথিবীর বেশির ভাগ মানুষই যোগাসনের কথা ভাবেন। জীবনের প্রায় সব দিকগুলিতেই যোগ বিজ্ঞান অবদান রেখেছে, কিন্তু তার মধ্যে শারীরিক ভঙ্গীকেই মানুষ আজ যোগকে উপস্থাপন করার জন্য বেছে নিয়েছে। অথচ যোগ শাস্ত্রে আসনগুলিকেই সব থেকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় দুশোর কিছু বেশি যোগসূত্রের মধ্যে শুধুমাত্র একটি সূত্রই উৎসর্গ করা হয়েছে যোগাসনের জন্য। কিন্তু আধুনিক যুগে এই একটি সূত্র বাকি সূত্রগুলির থেকে বেশি গুরুত্ব পেয়ে বসেছে।

পৃথিবী আজ কোন দিকে চলেছে তা নানাভাবে স্পষ্ট। আধুনিক পৃথিবীর যাত্রা একটি দিকেই – গভীরতর অন্তর্জগত থেকে শরীরের দিকে। ঠিক এই ব্যপারটাকেই আমরা পাল্টে দিতে চাই। আমরা চাই মানুষ তার শরীর থেকে শুরু করে অন্তর প্রকৃতির দিকে যাক।

আমি বিষাদগ্রস্থ হতে পারিনা, তা না হলে সারা পৃথিবী জুড়ে যেভাবে হঠযোগ অভ্যাস করা হচ্ছে আর মানুষ ভাবছে এটাই সঠিক, তাতে আমিও হতাশ হয়ে যেতাম। আপনারা যেটা অনুশীলন করতে দেখেন, অর্থাৎ এর পদ্ধতিটা, সেটা নিতান্তই শারীরিক। আপনাকে শ্বাসপ্রশ্বাস দিয়ে এর মধ্যে প্রাণ সঞ্চার করতে হবে। তা না হলে এটা জীবন্ত হয়ে উঠবে না। এই কারণেই সনাতন প্রথায়, গুরুর উপস্থিতির উপর এত বেশি জোর দেওয়া হয়েছিল- একে জীবন্ত করার জন্য। যোগ প্রক্রিয়া হল আপনার দেহ তন্ত্রটিকে অত্যন্ত নিপুনভাবে পরিচালনা করে তাকে আরও উন্নত মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার এক সূক্ষ্ম কৌশল। যোগ মানে হল, যা আপনার উন্নততর প্রকৃতির উন্মেষ ঘটায়। প্রত্যেকটি আসন, প্রত্যেকটি মূদ্রা, প্রতিটি শ্বাসপ্রশ্বাসের নিয়ম – সব কিছু ওই দিকেই কেন্দ্রীভূত।

প্রচলিত ধারণা # ৩:সিক্স প্যাক অ্যাব চাই?যোগ অসাধারণ ব্যায়াম অনুশাসন

সদগুরু: যদি শুধু একটি সুঠাম শরীর আপনার কাম্য হয়, যদি আপনি ‘সিক্স-প্যাক-অ্যাবস্‌’(six-pack abs) বা এক কথায় পেশীবহুল শরীর চান, আমি বলব আপনি টেনিস খেলুন, পাহাড়ে চড়ুন। কারণ, যোগ কোনও শরীর চর্চা নয়, এর সঙ্গে ভিন্নতর মাত্রা সংযুক্ত আছে। এটি এক অন্য মাত্রার সুস্থতা – অবশ্যই এর থেকে সুস্বাস্থ্য পাবেন আপনি, কিন্তু সিক্স-প্যাক-অ্যাবস্‌ নয়। যদি আপনি ক্যালরি খরচ করার জন্য বা পেশী শক্তি বাড়ানোর জন্য যোগ করেন তাহলে এটা পরিস্কার যে আপনি ভুল পদ্ধতিতে যোগ করছেন, সে ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। পেশী তৈরীর জন্য আপনি জিমে যেতে পারেন। যোগাভ্যাস খুব সূক্ষ্ম এবং প্রশান্ত ভাবে করা প্রয়োজন, সর্বশক্তি প্রয়োগ করে নয়, কারণ যোগ কোনও শরীর চর্চা নয়।

এই ভৌত শরীরে স্মৃতির একটা গোটা কাঠামো আছে। যদি এই শরীরটাকে ভাল করে পর্যবেক্ষণ করার সদিচ্ছা থাকে আপনার, তাহলে বুঝতে পারবেন, সব কিছু – কীভাবে শূন্য থেকে সৃষ্টি হয়ে ব্রহ্মান্ড আজকের এই রূপ পেল- এই শরীরের মধ্যেই সেই রহস্য নিহীত আছে। আপনি যখন আসন করেন তখন সেই স্মৃতিগুলিকে উন্মুক্ত করেন এবং এই জীবনের পুনর্গঠন করে এক অপার সম্ভাবনার দিকে নিয়ে যান। যদি হঠযোগ সঠিক পরিবেশে শেখানো যায়, তাহলে এটি আপনার শরীরকে দেবত্বের অমৃত গ্রহণের উপযুক্ত করে তোলার জন্য একটি দারুণ প্রক্রিয়া।

প্রচলিত ধারণা # ৪: মাত্র গত শতাব্দীতেই যোগ বিশ্বের দরবারে পৌছতে পেরেছে

সদগুরু: যদিও যোগ আজ বহু বিচিত্র রূপে এবং বিকৃত ভাবে অভ্যাস করা হচ্ছে, তবুও অন্তত ‘যোগ’ শব্দটা গোটা বিশ্বে পরিচিতি পাচ্ছে। এর প্রসার ঘটানোর জন্য কখনও কোনও সংগঠিত প্রতিষ্ঠান ছিল না, তা সত্ত্বেও, এটি টিকে গেছে এবং আজও বেঁচে আছে তার কারণ, দীর্ঘতম সময় ধরে মানুষের মঙ্গলের জন্য এর থেকে বেশি কার্যকরী আর কিছুই ছিল না।

লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ আজ যোগাভ্যাস করছে, কিন্তু যোগ এল কোথা থেকে? কে সৃষ্টি করল যোগ? সে এক দীর্ঘ কাহিনী। এই সুপ্রাচীন কাহিনী কালের ধূসরতায় হারিয়ে গেছে। যোগের সংস্কৃতিতে শিব ভগবান হিসেবে পরিচিত নন, তিনি পরিচিত আদিযোগী হিসেবে অর্থাৎ প্রথম যোগী – যোগের স্রষ্টা হিসেবে। তিনিই সেই মানুষ যিনি প্রথম এই বীজ বপন করেছিলে মানুষের চেতনায়।

শিব প্রথম প্রশিক্ষণ দিয়েছিলেন তার স্ত্রী পার্বতীকে। দ্বিতীয় দফার যোগ শিক্ষা দান করেন তার প্রথম সাতজন শিষ্যকে। সেটা ঘটেছিল কেদারনাথের কান্তি সরোবরের তীরে। এখানেই বিশ্বের প্রথম যোগ শিক্ষার কার্যক্রম হয়। বহু বছর পর, যখন যোগ শাস্ত্রের জ্ঞান দান সম্পূর্ণ হয়, তখন উদ্ভব হয় সাতজন পূর্ণরূপে আলোকপ্রাপ্ত সত্ত্বার- সাতজন সুপ্রসিদ্ধ ঋষি যাঁরা সপ্তঋষি নামে পরিচিত এবং ভারতীয় সংস্কৃতিতে পুজিত ও প্রশংসিত। শিব এই সাতজনের প্রত্যেককে যোগশাস্ত্রের একটি করে দিক প্রদান করেন, আর এই সাতটি দিক যোগের মূল সাতটি ধারা হয়ে যায়। আজও যোগের এই সাতটি পৃথক ধারাকে বজায় রাখা হয়েছে।

সপ্ত ঋষিদের বিশ্বের সাতটি ভিন্ন দিকে পাঠানো হয়েছিল, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে যোগের এই সাতটি ধারাকে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য, যার সাহায্যে মানুষ নিজেদের বর্তমান সীমাবদ্ধতা এবং অভ্যাসের দাসত্বের উর্দ্ধে উঠে বিকশিত হতে পারবে। একজন গেলেন মধ্য এশিয়ায়, একজন মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকায়, একজন দক্ষিণ আফ্রিকায়, একজন আদিযোগীর সঙ্গেই থেকে গেলেন, একজন হিমালয়ের নিম্ন অঞ্চলে এবং একজন দক্ষিণের ভারতীয় উপমহাদেশে চলে গেলেন। সময় অনেক কিছুই ধ্বংস করেছে, কিন্তু যদি ওই সব অঞ্চলের সংস্কৃতিকে গভীর ভাবে লক্ষ্য করা যায়, তাহলে দেখা যাবে সেখানকার মানুষদের ছোট ছোট লোকাচারের মধ্যে ঋষিদের সেই সংস্কার আজও বেঁচে আছে। হয়তো বিভিন্ন রঙ রূপ ধারণ করেছে, নিজস্ব রঙ হারিয়েছে হাজার রকম ভাবে, কিন্তু এই প্রবণতাগুলো আজও দেখা যায়।

প্রচলিত ধারণা # ৫: সঙ্গীত যোগের সহায়ক

সদগুরু: যোগাসন অভ্যাস করার সময় আয়না অথবা কোন সঙ্গীত থাকা উচিৎ নয়। হঠযোগে আপনার শরীর, মন, শক্তি এবং আপনার অন্তঃকরণ, এই সবকিছুর এক বিশেষ একাত্মতার প্রয়োজন। সৃষ্টির উৎসকে যদি আপনার মধ্যে একাত্ম করতে চান, তাহলে আপনার শরীর, মন, শক্তিকে অবশ্যই পূর্ণরূপে একাগ্র হতে হবে। আপনাকে বিশেষ নিষ্ঠা এবং মনযোগের সাথে এগোতে হবে। চলতে চলতে, গান শুনতে শুনতে, কাজ করতে করতে যোগ হয় না। যোগ স্টুডিওগুলির সব থেকে বড় সমস্যা হল এখানে শিক্ষক আসন করাকালীন কথা বলেন। এটা নিশ্চিত ভাবেই আপনার ক্ষতির কারণ হয়ে যায়।

আসন করার সময় কথা না বলাটা কোনও আদর্শ পদ্ধতি নয়, বরং এটাই নিয়ম। আসনে বসে আপনি কখনই কথা বলতে পারবেন না। আপনি যখন আসন করেন, আপনার শ্বাসপ্রশ্বাস, মনঃসংযোগ, শক্তি প্রভৃতির স্থিতিশীলতা সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। কথা বললে, আপনি এই সবকিছু বিনষ্ট করে ফেলবেন। এ পর্যন্ত অন্তত আট থেকে দশজন আমাদের কাছে এসেছেন গুরুতর কিছু সমস্যা নিয়ে যাদের আমরা সাহায্য করেছি। সম্ভবত তাদের মধ্যে চারজন এখন এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন কারণ তারা বুঝতে পেরেছেন যে তারা যেটা করছিলেন সেটা নির্বুদ্ধিতা।

কয়েক বছর আগে যখন আমি আমেরিকায় ছিলাম, একজন তার যোগের স্টুডিওতে আমাকে আলোচনার জন্য আমন্ত্রণ জানান। আমি যখন তার যোগ শালায় গেলাম সকলকে উৎসাহ দেওয়ার জন্য তখন সেখানে যন্ত্রসঙ্গীত চলছিল — আর তিনি নিজে অর্ধমৎসেন্দ্রাসনে বসে একদল লোকের সঙ্গে কথা বলছিলেন। তিনি যখন আমাকে দেখলেন, লাফ দিয়ে টেবিল থেকে নেমে এসে আমাকে আলিঙ্গন করলেন।

আমি তাকে একপাশে নিয়ে গিয়ে বললাম, “দেখুন, আপনি খুব গুরুতর শারীরিক সমস্যা ডেকে আনবেন, কতদিন ধরে এরকম করছেন আপনি?” তিনি বললেন প্রায় পনের ষোল বছর ধরে। আমি বললাম, “যদি পনের-ষোল বছর ধরে এরকম করে থাকেন, তবে আপনার এই, এই, এই সমস্যায় ভোগার কথা।“ তিনি আতঙ্কিত হয়ে তাকিয়ে রইলেন আমার দিকে। পরের দিন আমার কাছে এলেন এবং বললেন, “সদগুরু, আপনি যা যা বললেন সে সবই আমার হয়েছে। আমি ডাক্তারদের কাছে সব রকম চিকিৎসা করাচ্ছি। আমি বললাম, “আপনার ডাক্তারের প্রয়োজন নেই, আপনি নিজেই এই রোগ ডেকে আনছেন। এসব বন্ধ করুন, সব সেরে যাবে।” প্রায় দেড় বছর পর, তিনি যোগ শেখানো ছেড়ে দেন।

ভুল পদ্ধতিতে যোগাভ্যাস করে বহু মানুষ মানসিক ভারসাম্য হারিয়েছেন। তার মানে এই নয় যে যোগ বিপজ্জনক। এই পৃথিবীতে বোকামো সব সময়ই বিপদ ডেকে এনেছে। আপনি বোকামো করলে আপনারই ক্ষতি করবেন। সেই প্রাচীন কাল থেকে নির্বুদ্ধিতা সব সময় বিপদ ডেকে এনেছে পৃথিবীতে।

প্রচলিত ধারণা # ৬: যোগের নির্দেশিকা চাই? বই পড়ে যোগ শিখতে পারেন

সদগুরু: আজকাল, যে কোনও বই-এর দোকানে গেলে, অন্তত পনের-কুড়িটা যোগের বই পেয়ে যাবেন। ‘কীভাবে ৭ দিনে যোগ শিখবেন, কিভাবে ২১ দিনে যোগী হতে পারবেন’...বহু মানুষ এই সব যোগের বই থেকে যোগ শিখে প্রচণ্ডভাবে নিজেদের ক্ষতি করেছেন। আপাতদৃষ্টিতে এটা খুব সরল মনে হয়, কিন্তু যখন আপনি করতে যাবেন, এর সূক্ষ্ম দিকগুলো দেখতে পাবেন। যোগাভ্যাস করতে হবে সঠিক ধারণার মাধ্যমে এবং প্রকৃত শিক্ষকের সহায়তায়। এগুলো ছাড়া যোগ শিখতে গেলে এপনি গভীর বিপদে পড়তে পারেন। বই আপনাকে যোগ শেখার প্রেরণা দিতে পারে, কিন্তু বই কখনই যোগ শেখার জন্য নয়।

প্রচলিত ধারণা # ৭ : যোগ প্রতিদিন সকাল এবং সন্ধ্যায় অভ্যাস করতে হয়

সদগুরু: যোগ সকাল-সন্ধ্যায় অভ্যাস করার জন্য নয়। যোগ হল বিশেষ এক ভাবে বাঁচা। নিজেকে যোগ হয়ে উঠতে হয়। যদি সেটা সকাল-বিকেলের যোগ হয়, তবে বাকি সময়টা জটিলতায় জড়িয়ে থাকা - সেটা যোগ নয়, শুধুই যোগের অভ্যাস।

জীবনের এমন কোনও দিক নেই যা যোগ প্রক্রিয়ার বাইরে। যদি আপনার জীবনটাই যোগ হয়ে ওঠে, তাহলে আপনি সব কিছু করতে পারবেন। আপনি যাই করতে চান- সংসার, অফিস, ব্যবসা, কোনও কিছুতেই সমস্যা হবে না, যদি আপনার অস্তিত্বটাই হয়ে ওঠে যোগময়। জীবনের প্রতিটি দিককেই আপনি জড়িয়ে পড়ার ফাঁদ হিসেবে বা মুক্তির উপায় হিসেবে কাজে লাগাতে পারেন। যদি এটাকে আপনি নিজেকে বন্ধনে আবদ্ধ করার জন্য ব্যাবহার করেন, তাহলে আমরা তাকে বলি কর্ম। আর যদি মুক্তির জন্য একে ব্যবহার করেন, তখন তাকে বলি যোগ।

 
 
 
 
  0 Comments
 
 
Login / to join the conversation1