মহাভারত পর্ব ২ : চন্দ্রবংশীদের উদ্ভব

প্রথম পর্বে আমরা দেখেছি কীভাবে বৃহস্পতি - যিনি ইন্দ্রের পুরোহিত এবং দেবতাদের গুরু, চারিদিকে প্রেম করে বেড়াচ্ছিলেন এবং তাঁর উপেক্ষিত স্ত্রী তারা চন্দ্র দেবের প্রেমে পড়েন। ক্রুদ্ধ বৃহস্পতি তারা এবং চন্দ্রের সন্তানকে অভিশাপ দিলেন সে যেন পুরুষ বা নারী কোনটাই না হয়; বুধ -যিনি বুধগ্রহের প্রতীক, জন্মগ্রহণ করলেন।
 

Mahabharat All Episodes

చంద్రవంశం ఎలా ఆరంభమైంది..? – మొదటి భాగం

রাজা সুদ্যুম্ন গেলেন শিকারে

সদগুরু: একদিন রাজা সুদ্যুম্ন যে বনে শিব এবং তাঁর স্ত্রী পার্বতী থাকতেন সেখানে শিকার করতে গেলেন। জীব-জন্তুগুলোর দিকে তাকিয়ে পার্বতী খেয়ালের বশে বললেন, "আপনার প্রতি আমার ভালবাসা এমনই যে এইসব পুরুষ হাতি, বড়ো বড়ো কেশরে ঢাকা সিংহ, এইসব চমৎকার পুচ্ছশোভিত ময়ূর সবই যেন আপনার পক্ষে অবমাননাকর মনে হয়। আমি চাই এই অরণ্যকে আপনি এমন ভাবে তৈরি করুন যাতে আপনি ছাড়া আর অন্য কোনও পুরুষ এখানে না থাকে।" শিবও ভাবপ্রবণ মেজাজে ছিলেন। তিনি বললেন, "তাই হোক। এই বনের সবকিছু স্ত্রী রূপ লাভ করুক।" সেই বনের সবকিছু স্ত্রী রূপে পরিণত হল। সিংহ হলো সিংহী, পুরুষ হাতি মেয়ে হাতিতে পরিণত হল, ময়ূর ময়ূরীর রূপ লাভ করল এবং রাজা সুদ্যুম্ন একজন নারীতে রূপান্তরিত হলেন!

তিনি নিজের দিকে তাকালেন - একজন সাহসী রাজা, যিনি জঙ্গলে শিকার করতে এসেছিলেন হঠাৎই একজন নারী হয়ে গেলেন। তিনি চিৎকার করে উঠলেন, "কে আমার সঙ্গে এরকম করলেন? কোন যক্ষ, কোন অপদেবতা আমাকে এরকম অভিশাপ দিলেন?" চরম নৈরাশ্যে তিনি চর্তুদিকে খুঁজতে লাগলেন। তখন তিনি শিব এবং পার্বতীকে প্রেমরত অবস্থায় খুঁজে পেলেন। তিনি শিবের চরণে উপনীত হয়ে বললেন, "এটা ঠিক নয়। আমি একজন রাজা। আমি একজন পুরুষ। আমার একটি পরিবার আছে। আমি শুধুমাত্র শিকার করতে এসেছিলাম আর আপনি আমাকে একজন স্ত্রীলোকে রূপান্তরিত করে দিলেন। আমি কীভাবে এই অবস্থায় সেখানে ফিরে যাবো?" শিব বললেন, "আমি যা করেছি তা পুরোপুরি ফিরিয়ে নিতে পারি না তবে কিছুটা সংশোধন করতে পারি। আমরা এটাকে এভাবে করব যে চাঁদের ক্ষয়িষ্ণু পর্যায়ে আপনি একজন স্ত্রীলোক হবেন। এবং চাঁদের বর্ধিষ্ণু অবস্থায় আপনি একজন পুরুষ হবেন।"

চন্দ্রবংশীদের উদ্ভব

সুদ্যুম্ন রাজপ্রাসাদে ফিরে যেতে অস্বীকার করলেন। তিনি বনেই থেকে গেলেন এবং ইলা নামে পরিচিত হলেন- যিনি মাসের অর্ধকাল পুরুষ ও বাকি অর্ধকাল নারী হয়ে যেতেন। একদিন এরকম ঘটল যে বুধ এবং ইলার সাক্ষাৎ হল। এটা একদম যথাযথ মিলন ছিল। উভয়ে একইরকমভাবে পুরুষ ও নারী ছিলেন। তাদের দুজনের মধ্যে অনেক সন্তান হয়েছিল। এই সন্তানরাই হলেন প্রথম চন্দ্রবংশী।

চন্দ্রবংশীরা প্রত্যেক দিন আলাদা। তাঁরা খুবই আবেগপ্রবণ, শিল্পী মনোভাবাপন্ন, এবং একেবারেই নির্ভরযোগ্য নয়।

এই দেশের রাজ পরম্পরায় সূর্যবংশী এবং চন্দ্রবংশীরা আছেন - সূর্য দেবের বংশধর এবং চন্দ্র দেবের সন্তানসন্ততি। তাঁরা একেবারেই আলাদা ধরনের মানুষ। সূর্যবংশীরা বিজেতা - স্পষ্ট, সাদা বা কালো ধরনের লোক। চন্দ্রবংশীরা এক এক দিন, এক এক রকম। তাঁরা খুবই আবেগপ্রবণ, শিল্পী মনোভাবাপন্ন, এবং একেবারেই নির্ভরযোগ্য নয়। স্বয়ং মনু ছিলেন সূর্যবংশীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ; তারপর এসেছিলেন ইক্ষ্বাকু। বংশানুক্রমে আরও অনেকে ছিলেন - যেমন ভাগীরথ, দশরথ, অযোধ্যার রাম, এবং হরিশ্চন্দ্র। এখানে আমরা চন্দ্রবংশীদের ব্যাপারে কথা বলব কারণ কৌরবরা হলেন প্রধানত চন্দ্রবংশী। তারা যেভাবে আবেগের বশবর্তী হয়ে কাজ করতেন‌ - তা থেকে এটা বোঝাই যায়।

নাহুষা - সম্রাট থেকে অজগর

বুধ এবং ইলার সন্তানদের মধ্যে একজন ছিলেন নাহুষা, যিনি একজন মহান সম্রাট হয়েছিলেন। একবার তিনি দেবলোক- ইন্দ্রের প্রাসাদে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। ইন্দ্রের কোথাও যাবার ছিল তাই তিনি নাহুষাকে বলেছিলেন, " কিছু সময়ের জন্য আমার দেবলোকের দেখাশোনা করো। এখানে থাকো, আনন্দ উপভোগ করো এবং স্থানটি যথাযথভাবে পরিচালনা করো।" যে মুহূর্তে ইন্দ্র প্রস্থান করলেন, ইন্দ্রের অনুপুস্থিতিতে সেই স্থানটির দেখাশোনা করা এবং অন্যান্য টুকিটাকি যে সব কাজ তাঁকে দেওয়া হয়েছিল - তার জন্য নাহুষা অত্যন্ত গর্বিত বোধ করলেন। তিনি ইন্দ্রের সিংহাসনে বসলেন। তিনি নিজের ইচ্ছামত যেকোন অপ্সরাকে ডেকে পাঠাতেন।

সেটাই যথেষ্ট ছিল না - ইন্দ্রের স্ত্রী শচীর উপর তাঁর নজর পড়ল। তিনি তাঁর উপর জোর খাটাতে শুরু করলেন, "এখন আমি সিংহাসনে বিরাজ করি। আমি ইন্দ্র। তুমি আমার।" শচী নানাভাবে তাঁকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেন কিন্তু তবুও তিনি তাঁর ওপর জোর খাটাতে লাগলেন। শচী বললেন, "হ্যাঁ, এখন আপনি ইন্দ্র। একমাত্র সপ্তর্ষি- সাতজন মহাঋষি যদি একটি পালকিতে করে আপনাকে আমার কাছে নিয়ে আসেন তবেই আমি আপনার হব।" নাহুষা সপ্তঋষিকে আদেশ করলেন -একটি পালকিতে করে তাঁকে শচীর প্রাসাদে নিয়ে যেতে, যা তাঁরা করেছিলেন।

নাহুষা দেবলোক থেকে পতিত হলেন

তিনি প্রচণ্ড গর্বিত ছিলেন এবং অত্যন্ত ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তাঁর মনে হচ্ছিল যে তাঁরা যথেষ্ট দ্রুত হাঁটছেন না। তাই তিনি অগস্ত্য মুনির মাথায় লাথি মারলেন - যিনি পালকির ডানদিকটা ধরেছিলেন, এবং বললেন, "তাড়াতাড়ি চলো।" অগস্ত্য তাঁর দিকে তাকালেন এবং বললেন, "এই পুরো ব্যাপারটা তোমার মাথায় ঢুকে গেছে। তুমি এতটা নিকৃষ্ট হয়ে গেছ যে তুমি শুধুমাত্র দেবলোকে থাকার অযোগ্য নও, মানুষ হবারও অনুপযুক্ত, তুমি অজগর হয়ে যাও।" একটি অজগর খুবই নিম্ন শ্রেণীর প্রাণী। নাহুষা অজগর হয়ে দেবলোক থেকে নীচে পতিত হলেন। আমরা এই অজগরের কাছে পরে ফিরে আসবো।

নাহুষার সন্তানসন্ততি ছিল- গুরুত্বপূর্ণ দুজন হলেন যাতি এবং যযাতি। যাতি তাঁর চরিত্র এবং অসামান্য বুদ্ধির জন্য পরিচিত ছিলেন। তিনি পৃথিবীর দিকে একবার মাত্র দৃষ্টিপাত করেছিলেন এবং বলেছিলেন, "আমি এখানে কিছু করতে চাই না।" তিনি হিমালয়ে প্রস্থান করেছিলেন এবং একজন তপস্বী হয়েছিলেন। যযাতি রাজা হয়েছিলেন।

দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে অবিরাম যুদ্ধ

আগেই উল্লেখ করা হয়েছে বৃহস্পতি দেবতাদের পূজারী ছিলেন এবং তাদের জন্য শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠান সম্পাদন করতেন। শুক্রাচার্য ছিলেন অসুরদের পুরোহিত। দেবতা এবং অসুরদের মধ্যে অবিরাম যুদ্ধ চলত গাঙ্গেয় উপত্যকায়। দেবতারা উঁচু এলাকা থেকে নীচে নামার চেষ্টা করছিলেন এবং অসুরেরা মরুভূমি থেকে ভারতের আরও উর্বর মূল ভূখণ্ডের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। এই একটানা যুদ্ধে অসুরদের একটি বিশেষ সুবিধা ছিল - তাদের সঙ্গে শুক্রাচার্য ছিলেন। তাঁর ক্ষমতা ছিল অপরিসীম। এবং তাঁর কাছে সঞ্জীবনী শক্তি ছিল। সঞ্জীবনী মন্ত্রের সাহায্যে যুদ্ধে মৃতদের তিনি পুনরুজ্জীবিত করতে পারতেন।

প্রত্যেক দিনের শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে যতজন অসুর মারা যেতেন তাঁরা আবার বেঁচে উঠতেন এবং পরদিন সকালে যুদ্ধক্ষেত্রে যাবার জন্য প্রস্তুত হয়ে যেতেন।

প্রত্যেক দিনের শেষে যুদ্ধক্ষেত্রে যতজন অসুর মারা যেতেন তারা আবার বেঁচে উঠতেন এবং পরদিন সকালে যুদ্ধক্ষেত্রে যাবার জন্য প্রস্তুত হয়ে যেতেন। আপনি কীভাবে এমন একটি সৈন্যদলের সঙ্গে যুদ্ধ করবেন - যাদের মেরে ফেললেও তাঁরা মৃত থাকবে না? শুক্রাচার্যের জন্যই তাঁরা বারবার পুনরুজ্জীবিত হয়ে যেতেন। দেবতারা মরিয়া হয়ে উঠলেন। তখন বৃহস্পতির ছেলে কচ শুক্রাচার্যের কাছে এলেন এবং তাঁকে প্রণাম করে বললেন, "আমি অঙ্গীরা'র নাতি এবং বৃহস্পতির পুত্র। আমি সম্ভ্রান্ত বংশ থেকে এসেছি। দয়া করে আমাকে আপনার শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করুন।"

কচ শুক্রাচার্যের শিষ্য হলেন

অসুরেরা শুক্রাচার্যকে সাবধান করলেন, "এই লোকটি শত্রু শিবির থেকে এসেছে। স্পষ্টতই সে সঞ্জীবনীর রহস্য শেখার জন্য এসেছে। একে এখনই মেরে ফেলা যাক।" শুক্রাচার্য বললেন, "না, এই ছেলেটি আমাদের কোন ক্ষতি করেনি। এবং আমার শিষ্য হবার জন্য ওর প্রয়োজনীয় যোগ্যতা আছে। আমি তাঁকে প্রত্যাখ্যান করতে পারি না।" সেই সময়ের ধর্ম বলত যে যদি কেউ শেখার যোগ্য হয়, তাঁকে প্রত্যাখ্যান করা যাবে না।

কচকে শিষ্য হিসেবে গ্রহণ করা হল এবং তিনি সুযোগ্য শিষ্য হিসেবে প্রমাণিত হলেন। তিনি গুরুর সেবা করতেন, তাঁর প্রতিটি নির্দেশ পালন করতেন এবং সবকিছুর সঙ্গে ভীষণভাবে যুক্ত ছিলেন। শুক্রাচার্যের একটি কন্যা ছিল - যার নাম দেবযানী। দেবযানী এই যুবকটিকে দেখেন এবং ধীরে ধীরে তাঁর প্রেমে পড়ে যান। কিন্তু এই যুবতী কন্যাটির প্রতি তাঁর কোনও মনোযোগ ছিল না। অনেক চেষ্টা করেও দেবযানী এক মুহূর্তের জন্যও তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেননি। যে উদ্দেশ্যে তাঁর এখানে আসা, তা থেকে তিনি বিচ্যুত হবেন না এবং অসুরেরা জানত তিনি সঞ্জীবনীর জন্যই এসেছেন।

অসুরেরা কচকে শারীরিকভাবে আক্রমণ করলেন

একদিন কচ জঙ্গলে তাঁর গুরুর গবাদিপশু চরাচ্ছিলেন। অসুরেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে হত্যা করলো এবং টুকরো টুকরো করে বন্য পশুদের দিকে ছুঁড়ে দিল। সন্ধ্যেবেলায় যখন শুধুমাত্র গরুগুলো ফিরে এল কিন্তু ছেলেটি এলো না, দেবযানী উতলা হয়ে পড়লেন। তিনি তাঁর পিতার নিকটে গিয়ে কাঁদতে লাগলেন, "কচ ফিরে আসেনি। কেউ তাঁর সাথে নিশ্চয়ই কিছু করেছে। সে যেখানেই থাকুক আপনাকে তাঁকে জীবিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনতেই হবে।" মেয়ের আবেদনের কাছে নতি স্বীকার করে শুক্রাচার্য সঞ্জীবনী ব্যবহার করে কচের জীবন ফিরিয়ে আনলেন।

মেয়ের আবেদনের কাছে নতি স্বীকার করে শুক্রাচার্য সঞ্জীবনী ব্যবহার করে কচের জীবন ফিরিয়ে আনলেন।

তাঁকে যখন জিজ্ঞেস করা হল কী ঘটেছিল, কচ বর্ণনা করলেন কীভাবে অসুরেরা তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাঁকে হত্যা করেছিল। শুক্রাচার্য বললেন, "সাবধানে থেকো। অসুরেরা তোমাকে পছন্দ করে না, কারণ তুমি শত্রু শিবির থেকে এসেছো। তা সত্ত্বেও আমি তোমাকে শিষ্য হিসেবে রেখেছি।" কয়েকদিন পর কচ সকালের পূজার জন্য ফুল তুলতে গিয়েছিলেন। অসুরেরা তাঁকে ধরে মেরে ফেলে এবং তাঁর হাড়- মাংস থেঁতলে দেয়, সেটাকে সমুদ্রের লবণাক্ত জলের সঙ্গে মিশিয়ে তাঁর প্রত্যঙ্গগুলিকে পিষ্ট করে সেটা সামান্য পরিমাণে শুক্রাচার্যের মদিরায় মিশিয়ে দেয়। না জেনে শুক্রাচার্য সেটা পান করে ফেলেন।

আবার যখন কচ সন্ধ্যেবেলা ফিরে এল না, দেবযানী চিৎকার- চেঁচামেচি শুরু করলেন। কিন্তু শুক্রাচার্য বললেন, "মনে হচ্ছে মারা যাওয়াই তার নিয়তি। সে বারবার মৃত্যুবরণ করছে। তাঁকে ফিরিয়ে এনে কোনও লাভ নেই। তোমার মতো বুদ্ধিমতী মেয়ে, যেরকম বংশে তোমার জন্ম এবং জীবন সম্মন্ধে তোমার যেরকম জ্ঞান - তাতে করে জীবন-মৃত্যু নিয়ে কান্নাকাটি করা তোমার উচিত নয়। প্রত্যেকটি জীবেরই তো মৃত্যু ঘটে। তাঁকে মৃত থাকতে দাও। কাউকে বারবার পুনরুজ্জীবিত করা ভালো নয়।" কিন্তু দেবযানি ভগ্নহৃদয় ছিলেন। "হয় কচ ফিরে আসবে নয়তো আমি পুকুরের জলে ডুবে মারা যাবো।" শুক্রাচার্য সেটা হতে দিতে চান না, তিনি বললেন, "এটা শেষবারের মতো করছি।"

কচ সঞ্জীবনী মন্ত্র শিখলেন

শুক্রাচার্য যখন মন্ত্র ব্যবহার করার চেষ্টা করলেন, তাঁর পাকস্থলীতে গুড়গুড় শব্দ করে উঠলো। ওটা ছিল কচ। শুক্রাচার্য অগ্নিশর্মা হয়ে উঠলেন। "এসব কার কাজ? এটাও কি অসুরদের কীর্তি? তারা কীভাবে এটা করতে পারলো?" তাঁর পেটের ভেতর থেকে কচ পুরো ঘটনাটা বর্ননা করলেন - কীভাবে অসুররা তাঁকে হত্যা করে পিষ্ট করেছিল এবং নুন জলের সঙ্গে মিশিয়েছিল, কীভাবে তারা প্রত্যঙ্গগুলি নিয়ে সেগুলোকে পিষে তার কিছুটা অংশ মদিরার সঙ্গে মিশিয়েছিল। শুক্রাচার্য ভীষণভাবে ক্রুদ্ধ হলেন। "এটা খুব বাড়াবাড়ি হয়ে যাচ্ছে, এবার ওরা ওকে আমার পেটের ভিতরে রেখেছে। হয় ওকে মৃত থাকতে দিতে হবে নয়তো আমি যদি ওকে জীবনে ফিরিয়ে আনি- আমাকে মৃত্যু বরণ করতে হবে।" তিনি ভাবলেন, "এবার হয়তো আমার এই কাজে ইস্তফা দিয়ে দেবতাদের দলে যোগদান করা উচিত। আমার সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের কত বড় সাহস যে তারা ছেলেটিকে আমার পেটের মধ্যে রাখে?" কিন্তু দেবযানী কাঁদতে থাকলেন। তিনি বললেন, "আমি কচ বা আপনি কাউকে ছাড়া বাঁচতে চাই না। আপনাদের মধ্যে কোনও একজনেরও মৃত্যু হলে আমি জলে ডুবে প্রাণ দেব।"

তিনি যখন যেতে উদ্যত হলেন দেবযানী বললেন, "আপনি চলে যেতে পারেন না। আমি আপনাকে ভালবেসেছি।"

শুক্রাচার্য কচকে বললেন, "তুমি যে উদ্দেশ্যে এসেছিলে তাতে সফল হয়েছো। তুমি সঞ্জীবনীর রহস্য জানতে এসেছিলে এবং তুমি একজন যোগ্য প্রার্থী। এখন আমি তোমাকে এটা শেখাব। তারপর আমি তোমাকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য এটা ব্যবহার করব। তুমি আমার শরীর বিদীর্ন করে বেরিয়ে আসবে, যারফলে আমি মারা যাব। তারপর তুমি সঞ্জীবনী মন্ত্র ব্যবহার করে আমার জীবন ফিরিয়ে আনবে এবং তুমি অন্য কোথাও নতুন করে জীবন শুরু করবে।" শুক্রাচার্য সঞ্জীবনী মন্ত্র ব্যবহার করলেন এবং উদীয়মান চন্দ্রের মত কচ তাঁর পাকস্থলীর মধ্যে বেড়ে উঠলেন এবং তাঁকে বিদীর্ণ করে বেরিয়ে এলেন। শুক্রাচার্যের মৃত্যু হলো। দেবযানী চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন। তখন কচ সঞ্জীবনী মন্ত্র ব্যবহার করলেন এবং শুক্রাচার্য্যের জীবন ফিরিয়ে আনলেন।

যখন তিনি যেতে উদ্যত হলেন, দেবযানী বললেন, "আপনি চলে যেতে পারেন না। আমি আপনাকে ভালবেসেছি।" কিন্তু তিনি যতই অনুনয় বিনয় করুন - কচ বললেন, "আমি তোমার পিতার শিষ্য। সেই দিক থেকে তুমি আমার ভগ্নির মত। আরেকটা ব্যাপার হল আমি এইমাত্র তোমার পিতার শরীর থেকে বেরিয়ে এলাম, সুতরাং তিনি আমার মা। সেইভাবেও তুমি আমার বোন। কাজেই কোন উপায় নেই," এই বলে তিনি বেরিয়ে গেলেন।

চলবে...

More Mahabharat Stories

 

Editor’s Note: A version of this article was originally published in Isha Forest Flower May 2015. Download as PDF on a “name your price, no minimum” basis or subscribe to the print version.