কর্মের উৎস

সদগুরু ব্যাখ্যা করছেন যে কিভাবে কর্ম, নিষ্পাদিত কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বরং কাজের পেছনে যে অভিপ্রায় থাকে তার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা যদি কোনো পরিস্থিতিতে যেমন প্রয়োজন শুধুমাত্র সেভাবে কাজ করি তাহলে কোন কর্ম সৃষ্টি হয় না। পড়তে থাকুন।
The Source of Karma
 

প্রশ্ন: সদগুরু, আপনি আমাদের অনেকবার বলেছেন যে আমাদের জীবনে তিক্ত অভিজ্ঞতা, নিজেদের অতীত কার্যকলাপের কারণে ঘটে। আজকের দিনে আমাদের কি ধরণের কাজ করা উচিৎ যাতে ভবিষ্যতে তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দূরে থাকতে পারি?

కర్మకు మూలం ఏది..?

সদগুরু: কোনো অভিজ্ঞতার তিক্ততা, কি ঘটেছে তার উপর নয় বরং আপনি সেটাকে কিভাবে গ্রহণ করছেন তার ওপর নির্ভর করে। যেটা আপনার কাছে খুব বেদনাদায়ক সেটাই আরেকজনের কাছে আশীর্বাদ হতে পারে। একবার এক শোকগ্রস্থ ব্যক্তি কবরখানায় গিয়ে হাজির হলো আর মাথা ঠুকতে ঠুকতে তীব্র বিলাপ করতে লাগলো, "হায়রে জীবন! হায়, কত অর্থহীন! তুমি চলে গেছো বলে আমার এই শরীরটা কত মূল্যহীন! যদি শুধু আজ বেঁচে থাকতে! যদি বিধি এতো নিষ্ঠুর না হতো তোমাকে এই জগৎ থেকে কেড়ে না নিতো! তাহলে সব কিছু কত আলাদা হতো!" কাছেই ছিলেন একজন পাদ্রী, এগুলো শুনতে পেয়ে জিজ্ঞেস করলেন, "মনে হয় এই মাটির নিচে যিনি শুয়ে আছেন তিনি আপনার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ কোনো একজন।" "গুরুত্বপূর্ণ? হ্যাঁ, সে তো বটেই," বলে লোকটি আরো জোরে কাঁদতে লাগলো। "ইনি আমার বৌয়ের প্রথম স্বামী ছিলেন!" কি ঘটেছে তার ওপর তিক্ততা নির্ভর করে না। আপনি নিজেকে কিভাবে ঘটনাটি অনুভব করতে দেন তার ওপর নির্ভর করে। তেমনি অতীতের নিষ্পাদিত কাজ বা কর্ম-ও কার্যকলাপের সঙ্গে সম্পর্কিত নয় বরং যে অভিপ্রায়ে কাজটা করা হচ্ছে তার সঙ্গে সম্পর্কিত।

কর্ম শুধুমাত্র আপনার কোনোকিছু করার প্রয়োজনের সাথে সম্পর্কিত। যখন আপনার কিছু করার প্রয়োজন নেই এবং যেটা জরুরী আপনি কেবল সেটাই করছেন তখন তার সাথে কর্মের কোন সংযোগ থাকে না।

আপনি যদি আমাকে বা আমার শিক্ষাকে একটু গ্রহণ করেন তখন নিজের ইচ্ছেটা সরে যায় সুতরাং আপনি যা প্রয়োজন কেবল তাই করেন। সচেতনতা বলতে সেটাই বোঝায়; সেখানে কোনো অভিপ্রায় নেই। যেখানে কোনো অভিপ্রায় নেই সেখানে কর্মও নেই। গ্রহণ মানে আপনি শুধু যেটা দরকার সেটাই করছেন। অপরিসীম দায়িত্ব বলতে বোঝায় আপনার কোনো কিছু সম্পর্কে কোনো বাছাই নেই। প্রত্যেকটি পরিস্থিতিতে, আপনি আপনার সচেতনতা অনুযায়ী যেটা জরুরী বলে মনে করেন, আপনার সামর্থ্য মতো শুধু সেটাই করেন। আপনার ইচ্ছের তীব্রতাই কর্ম সৃষ্টি করে; তা সে ভালো বা খারাপ যাই হোক না কেন সেটা কোনো ব্যাপার নয়।

 

মানুষজন আমাকে একই প্রশ্ন বার বার জিজ্ঞেস করেন, "আপনার জীবনের ব্রত বা মিশন কি?" যখন আমি বলি, "আমার কোনো মিশন নেই, আমি এমনি এমনিই ঘুরে বেড়াচ্ছি," তাঁরা মনে করেন আমি কৌতুক করছি। তাঁরা বোঝেন না, এই জগতে বেঁচে থাকার ব্যাপারে এই গভীরতম উক্তিটিই আমি করতে পারি; কারণ কোনো নির্দিষ্ট অভিপ্রায় নেই, শুধুমাত্র যা প্রয়োজন তা করে যাওয়া, এটাই সব। এতে আপনি যার মধ্যে দিয়েই যান, কোনো কর্ম নেই। আপনি যা কিছু করছেন তা ঘটে চলেছে শুধু প্রয়োজন অনুসারে। কর্ম শুধু আপনার প্রয়োজনমতো কোনো কিছু করার সঙ্গে সম্পর্কিত। আপনার যখন কোনো কিছু করার প্রয়োজন নেই এবং আপনি শুধু সেটাই করছেন যেটা প্রয়োজন, তাতে কর্মের কোনো সংযোগ নেই। সেটা ভালোও নয় কিংবা খারাপও নয়।