মহাভারত পর্ব ১৪: ধর্ম ও কর্মের মধ্যে কী সম্বন্ধ?

মহাভারতের এই পর্বে, সদগুরু ধর্ম এবং কর্মের মাঝের সম্পর্ককে বিশ্লেষণ করছেন। তিনি বলছেন, একমাত্র ধর্ম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই আপনি আপনার কর্ম করতে পারেন এবং আপনার ঈপ্শিত লক্ষ্যের দিকে নিজের জীবন রচনা করতে পারেন।
Mahabharat Episode 14: Dharma and Karma – What’s the Connection?
 

Mahabharat All Episodes

অংশগ্রহণকারী: সদগুরু, আপনি বলেছেন যে অন্য কারোর ধর্মের সাথে সংঘাতে না গিয়েও সবার নিজস্ব জীবনযাত্রা, স্বাধীনতা ও ধর্ম থাকতে পারে। কিন্তু আজকালকার দিনে কি ঠিক এর উল্টোটা হচ্ছে না যে আমরা আমাদের ব্যক্তিত্বের ওপর ভিত্তি করে নিজেদের ধর্মকে গড়ে তুলছি আর এই করে পরস্পর সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছি?

সদগুরু: এইজন্যই আমি বলেছিলাম যে এটা খুবই পরিশীলিত একটা চিন্তাধারা। আমরা যদি নিজেদের সাধারণ চাহিদাগুলোকে ঘিরে আমাদের ধর্মকে গড়ে তুলি তাহলে অবশ্যম্ভাবীভাবে অন্যের সাথে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ব। সেইজন্যই মানুষজন তাদের স্বতন্ত্র ধর্ম এমনভাবে গড়ে তুলেছিলেন যে তাদের চূড়ান্ত আকাঙ্ক্ষা যেন অন্য কারোর সাথে সংঘাতে না জড়ায়; তবে পথে ঘাটে, বাড়িতে এবং বাজার-হাটে কাজ চালানোর জন্য একটা সার্বজনীন ধর্ম ছিল যেটা সবাইকে মেনে চলতে হতো। রাস্তায় যান চলাচলের ক্ষেত্রে এটা প্রতিষ্ঠিত যে কোন্ দিকে যাব তার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সকলেই রাস্তার এক ধার দিয়ে গাড়ি চালাবো। এটি একটি সার্বজনীন ধর্ম - আপনার একটা আলাদা স্বতন্ত্র ধর্ম আছে বলেই আপনি এটা লঙ্ঘন করতে পারেন না।

ধর্ম হল বহু -স্তরীয়।

আপনার স্বতন্ত্র ধর্ম আপনার চরম প্রকৃতিতে উপনীত হওয়ার ব্যাপারে। মূলত এটি একটি অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া, কাজেই অন্য কারোর ধর্মের সাথে সংঘাত ঘটবে না। অন্যদিকে, বহির্জগতের নিয়ম-কানুনগুলো হল সার্বজনীন ধর্ম, সকলকেই এগুলো মেনে চলতে হবে। এটা মেনে না চললে 'দ্বন্দ্ব-বিরোধ' ঘটতে বাধ্য। ধর্ম হল বহু-স্তরীয়। পরিবারের মধ্যে থাকতে হলে এক ধরণের ধর্ম, তপস্বী হতে হলে আরেক ধরণের ধর্ম, রাজা হতে গেলে একেবারে আলাদা এক ধর্ম, বণিক হতে গেলে আরও এক ধরণের ধর্ম ইত্যাদি। কিন্তু একজন সত্তা হিসেবে আপনার নিজস্ব ধর্ম নির্বাচন করা ও তাতে স্থির থাকার স্বাধীনতা আপনার আছে। নির্দিষ্ট কিছু করলে তবেই চরম মুক্তিলাভ ঘটবে, তা নয় বরং অবিচলিতভাবে কোনো কিছুতে একাগ্র থাকাই – নিশ্চল তত্ত্বম, জীবন মুক্তি। আপনি রোজ রোজ যদি দিক পরিবর্তন করতে থাকেন, স্পষ্টতই আপনি একই বৃত্তে ঘুরপাক খেতে থাকবেন।

অংশগ্রহণকারীt: সদগুরু, আপনি যখন পরম প্রকৃতি ও ধর্মের কথা বলছেন - ধর্ম বলতে আমি কিছু নির্দিষ্ট নিয়মাবলী বুঝি। জীবন ও পরিস্থিতি যখন যেভাবে আসবে সেভাবেই তার মোকাবিলা করার বদলে নির্দিষ্ট কিছু নিয়মাবলী থাকা কেন?

সদগুরু: জীবন শুধু শুধুই এসে যায় না - জীবন প্রতিনিয়ত রচিত হয়ে চলেছে। আজ আপনার সাথে যা ঘটছে হয় গতকাল আপনি তা রচনা করেছেন অথবা আজকেই তা সক্রিয়ভাবে রচনা করছেন। কোনকিছুই আপনা হতে ঘটে না। দুটো আঙ্গিক আছে - ধর্ম এবং কর্ম। সঠিক ধরণের কর্ম করার জন্য আপনার প্রয়োজন ধর্ম। তা নাহলে প্রতিদিন, প্রতি মুহূর্তে আপনার কর্মগুলো ধারাবাহিক বিভ্রান্তি হয়ে উঠবে। আপনি কীভাবে কর্ম করবেন ধর্ম তা প্রতিষ্ঠা করে দেয়, যাতে আপনি যে দিশায় যেতে চান, সে দিশায় নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারেন। জীবন গড়ে তোলার অর্থ আপনার বাড়ি-গাড়ি বা স্বামী-স্ত্রী পছন্দ করার বিষয়ে নয়। এই বিষয়গুলো গৌণ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আপনি কী ধরণের সত্তা হয়ে উঠবেন। এটাই নির্ধারণ করে আপনি কে তার গুণমান, আপনার জীবনের গুণমান এবং আপনি যদি ভালোভাবে বাঁচেন, তবে আপনার ইহকাল ও পরকাল। আপনি কার সাথে রয়েছেন, আপনার আশপাশে কী রয়েছে, আপনি প্রাসাদে বাস করেন কিনা, আপনি খাবার খান না সোনা খান - এসবে কোন পার্থক্য হয় না। অবশ্য সোনা খেলে আপনি তাড়াতাড়ি মারা যাবেন! প্রথমত আপনি জানেন না যে জীবন আসলে কোথায়। আপনি সব ভুলভাল দরজায় কড়া নাড়ছেন, এতে কিছু কাজ হবে না। আপনার ধর্ম প্রতিষ্ঠা এটা নিশ্চিত করার জন্য যে আপনার কর্ম যেন জীবনের মৌলিক প্রক্রিয়া থেকে বিচ্যুত না হয়ে পড়ে। এটা যেন প্রতিনিয়ত আপনাকে মনে করাতে থাকে যে একটি নির্দিষ্টভাবে থাকা আপনার ধর্ম।

নিজের ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা

এটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নিয়মের ব্যাপার, এটা বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের ধর্ম, কারণ আপনি যা কিছুই করেন না কেন - যেভাবে আপনার হৃৎপিণ্ড স্পন্দিত হয়, যেভাবে আপনি শ্বাস-প্রশ্বাস নেন, যেভাবে আপনার শরীরতন্ত্র কাজ করে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের বাকি অংশের সঙ্গে তা গভীরভাবে জড়িত। আপনি যদি সচেতনভাবে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের নিয়মগুলি অনুসরণ করেন, আপনি বিস্ময়করভাবে কাজ করবেন। এই মুহূর্তে, আপনি শরীরে বা মনে কিছুতেই ভালো বোধ করেন না কারণ অচেতনতার বশে আপনি বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের মৌলিক নিয়মগুলোকে অনুসরণ করেন না। কিন্তু এটা সচেতনভাবে ঘটুক বা অচেতনভাবে - ফলাফল একইরকম। এটাই অস্তিত্বের ধরণ। আপনি সচেতনভাবে ছাদ থেকে পড়ে যান বা অচেতনভাবে, একইরকম ব্যথা লাগে। বিষয় শুধু এটাই যে আপনি যদি সচেতনভাবে পড়েন, পড়ার সময় হয়তো পায়ের পাতার উপর ভর করে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন আর তা নাহলে হয়তো মাথার দিকে পড়বেন। কিন্তু এছাড়া যন্ত্রণা ও ভোগান্তির অনুভূতি কিছু আলাদা হবে না। আপনি যদি অচেতনভাবেও লাইনের বাইরে যান, তবুও আপনি লাইনচ্যুত। ধর্ম এমন কারও জন্য কার্যকরী হবে না - যে মনে করে এটা সে বোঝে। যে ধর্মকে কাজে পরিণত করে ও ধর্ম হয়ে ওঠে, কেবলমাত্র তার জন্যই এটা কার্যকরী হবে।

প্রথমে ধর্ম, তারপর কর্ম

ভীষ্ম বলেছিলেন, "আমার ধর্ম কঠোর - আমি এটিকে গ্রহণ করেছি এবং এটাই হয়ে উঠেছি। যাই হোক না কেন, এমনকি এতে যদি আমার জীবনও চলে যায়, আমি আমার ধর্ম পরিবর্তন করতে পারি না কারণ এটা আমার অংশ হয়ে উঠেছে।" আপনি যদি এরকম হন, ধর্ম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আপনি আপনার সত্তার ধরণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেন। যোগস্থঃ কুরু কর্মাণি অর্থাৎ, প্রথমে নিজের সত্তার ধরণ প্রতিষ্ঠা করুন - তারপর কর্ম করুন। প্রথমে আপনার ধর্ম - তারপর আপনার কর্ম। এখন আপনি নিজের ধর্ম না জেনেই প্রচুর কর্ম সৃষ্টি করে ফেলেছেন - এটাই হল সমস্যা।

আপনি যদি নিজের ধর্ম প্রতিষ্ঠা না করে থাকেন, কর্ম আপনার ভালো থাকায় বিঘ্ন ঘটাবে - কারণ আপনার কর্মের বেশিরভাগটাই হল অচেতন।

আপনি জগতে যেসব কাজকর্ম করে বেড়াচ্ছেন তাতেই কেবল কর্ম হয় তা নয় - আপনি নিজের মাথার ভেতর যেসব আবোলতাবোল ভাবনা-চিন্তা করে চলেছেন তাতেও কর্ম হয়। এটাই কর্ম। কর্ম মানে কাজ। কর্মের চারটে পর্যায় হয় - শারীরিক কর্ম, মানসিক কর্ম, আবেগজনিত কর্ম এবং প্রাণশক্তির কর্ম। আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে,‌ আপনি চারটে মাত্রায় কর্ম করে চলেছেন। আপনি যদি খান, এটা ঘটছে; আপনি যখন হাঁটেন, এটা ঘটে চলে; আপনি যখন গভীর নিদ্রামগ্ন, তখনও আপনি চারটে মাত্রায় কর্ম করে চলেছেন - আপনার জীবনের প্রতিটা মুহূর্তেই, জাগ্রত কিংবা ঘুমন্ত সব সময়। এই কর্ম যাতে আপনার ভালো-থাকায় বিঘ্ন না ঘটায় তার জন্য আপনাকে অবশ্যই নিজের ধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

আপনি যদি নিজের ধর্ম প্রতিষ্ঠা না করে থাকেন, কর্ম আপনার ভালো-থাকায় বিঘ্ন ঘটাবে কারণ আপনার কর্মের বেশিরভাগটাই হল অচেতন। কিন্তু আপনি যদি নিজের ধর্ম প্রতিষ্ঠা করেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই আপনার কর্ম সেই ধাঁচটা অনুসরণ করবে - আপনার কর্মের একটা ধারা থাকবে, একটা দিশা, একটা লক্ষ্য ও পরিপূর্ণতা থাকবে। আপনি যদি নিজের ধর্ম প্রতিষ্ঠা না করে থাকেন, আপনার কর্ম সব জায়গায় এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে পড়বে। আপনি যাই দেখবেন - আপনার মন, আবেগ ও শরীর হয়তো তার পিছু ধাওয়া করবে। এইভাবে আপনি এক বিভ্রান্ত সত্তা হয়ে উঠবেন। আপনার সত্তা যখন এই শরীর ত্যাগ করবে, এমনকি তখনও সে জানবে না যে কোথায় যেতে হবে - কারণ সে তো বিভ্রান্ত। আমি কোনো বিভ্রান্ত মনের কথা বলছি না, সেটা আপনি খুব ভাল করেই জানেন - আমি বিভ্রান্ত সত্তার কথা বলছি। সত্তাটি বিভ্রান্ত কেননা কোনো ধর্ম নেই। আপনি যখন এই শরীরটা থেকে বেরিয়ে যান আর এই সত্তাটা জানে না যে কোন পথে যেতে হবে, সেটাই হল চরম ভোগান্তি। কোন মানুষের সাথে ঘটার জন্য এটাই হল সবচেয়ে খারাপ জিনিস। এবং দুর্ভাগ্যবশত এমনটাই বহুল পরিমাণে ঘটছে, কারণ লোকজন নিজেদের জন্য কোনোরকম ধর্ম প্রতিষ্ঠা করে না আর এটাকে তারা স্বাধীনতা বলে মনে করে।

জিনের খেলা বাতিল করা

স্বাধীনতার নামে যদি আমরা ট্রাফিক আইন নাকচ করে যেদিক দিয়ে যাওয়ার কথা, তার বদলে লোকে নিজেদের ইচ্ছেমত যেখান খুশি দিয়ে গাড়ি চালাতে পারত, এতে লোকে মুক্ত হত না - তারা কেবল আটকেই পড়ত। নিয়ম ভঙ্গ করার মাধ্যমে স্বাধীনতা আসে না - যদি সুস্পষ্ট রাস্তা থাকে তবেই কেবল স্বাধীনতা অভিব্যক্তি খুঁজে পায়। কাজেই, ভাববেন না যে এমনি এমনিই সবকিছু আপনার জীবনে এসে পড়ে আর আপনি নিজের খেয়ালখুশিমত সেগুলো সামলাতে পারবেন। এটা স্বতঃস্ফূর্ততা নয় - এটা হল বাধ্যবাধকতা। এমনকি স্বতঃস্ফূর্ততার জন্যও আপনার একটা ভিত্তি প্রয়োজন। যদি কোনো ভিত্তি না থাকে তাহলে কেবল বাধ্যবাধকতাই থাকবে, স্বতঃস্ফূর্ততা নয়, কারণ আপনার এই শরীরটা যেভাবে গঠিত তা আপনার নিজের দ্বারা নির্ধারিত নয়। আপনার শরীরটা এখনও কৃষ্ণের দ্বাপর যুগের। আমলে থাকা আমাদের পূর্বপুরুষদের মত দেখতে। যদিও এর মাঝে হয়তো মানুষজনের সংমিশ্রণ ঘটেছে, তবুও এইসব পূর্বপুরুষদের জিনগত উপাদান আপনার সাথে খেলা করে চলেছে।

আপনার নিজস্ব ধর্ম প্রতিষ্ঠার অর্থ, মৃতকে মৃতদের ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং আপনার নিজের জন্য একটা নতুন পথ তৈরী করা। এটাই হল স্বাধীনতা।

এমনকি দশ লক্ষ বছর আগে যেসব মানুষজন এখানে বাস করত, তাদের জিনগত বৈশিষ্ট্য আজও আপনার সাথে খেলা করে চলেছে। যা ভেতর থেকে খেলা করে চলেছে তার ঊর্ধ্বে গিয়ে নিজের ধর্ম প্রতিষ্ঠা করা সহজ ব্যাপার নয়। "এটা আমার ধর্ম" বলার অর্থ আপনি আপনার পিতা, আপনার পূর্বপুরুষ এবং আরও সকলের থেকে সরে যাচ্ছেন। আপনি নিজের জিনকে অগ্রাহ্য করে আপনি আপনার নিজস্ব পথ প্রতিষ্ঠা করছেন। ভীষ্ম উপলব্ধি করেছিলেন যে তাঁর পিতার আচরণের একটা নির্দিষ্ট ধরণ ছিল, তাড়নাবশত উনি একজন অসহায় প্রেমিক ছিলেন। থেকে থেকেই তিনি প্রেমে পড়তেন, যেটা না ছিল ভীষ্মের কর্ম না ছিল তাঁর ধর্ম। "আমি কখনোই নিজের ধর্ম থেকে বিচ্যুত হব না। আমার জীবন দেশের প্রতি উৎসর্গীকৃত এবং এটাই আমার সর্বস্ব।" তিনি তাঁর জিনগত বৈশিষ্ট্যের ধাঁচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজস্ব পথ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আধ্যাত্মিক সাধনা এই বিষয়েই - আপনার নিজের ধর্মকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠা করা যাতে অতীত আপনার জীবনের দখল নিতে না পারে। জানেন তো, যীশুকে যখন একজন বলেছিল যে সে তার মৃত বাবাকে কবর দিতে যেতে চায়, যীশু বলেছিলেন, "মৃতকে মৃতদের ওপরেই ছেড়ে দাও।''

এটা শুনে মনে হয় যে একজন মানুষ যখন তাঁর বাবাকে হারিয়েছেন তাঁকে বলার জন্য এটা খুবই অমানবিক ও নির্মম একটা কথা, কিন্তু তিনি ঠিক এটাই বলেছিলেন, কারণ তিনি কেবল মৃত বাবাকেই বিদায় দেওয়ার কথা বোঝাননি বরং আপনার ভেতরে নৃত্য করে চলা সমস্ত মৃত পূর্বপুরুষদের কথাও বুঝিয়েছেন। মৃতকে যদি আপনি মৃতদের ওপরেই ছেড়ে না দেন, আপনার যে নিজস্ব ধর্ম থাকবে না শুধু তাইই নয়, এমনকি আপনার নিজস্ব জীবন বলেও কিছু থাকবে না। এ যেন অন্য কেউ আপনার মধ্য দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করে চলেছে। আপনার নিজস্ব ধর্ম প্রতিষ্ঠার অর্থ, মৃতকে মৃতদের ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং আপনার নিজের জন্য একটা নতুন পথ তৈরী করা। এটাই হল স্বাধীনতা।

চলবে...

More Mahabharat Stories

Editor's Note: A version of this article was originally published in Isha Forest Flower, January 2016.