বাড়িতে বসেই কীভাবে আপনার শরীরকে প্রাকৃতিকভাবে নির্বিষ এবং পরিশুদ্ধ করবেন?

বাড়িতে বসেই দেহের শোধন করা এবং দেহকে বৃহত্তর সম্ভাবনার জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব। সদগুরু দেহতন্ত্রের পঞ্চভূত বা পাঁচটি মূল উপাদানের শোধন করার কিছু সহজ উপায় নিয়ে বলছেন।
Wie man den Körper zuhause auf natürliche Weise reinigen kann
 

শরীরকে নিয়মিত সময় অন্তর অন্তর পরিশুদ্ধ করা এটিকে বৃহত্তম সম্ভাবনার প্রতি গ্রহণযোগ্য করে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রাকৃতিকভাবে আপনার দেহটিকে নির্বিষ করাই সবচেয়ে ভালো এবং এটা বাড়িতেই শুরু করা যায়। যোগী এবং অতীন্দ্রিয়বাদী সদগুরু আমাদের দেহতন্ত্রের পাঁচটি উপাদানকে পরিশুদ্ধ করার সহজ কিছু পদ্ধতি দিচ্ছেন এবং আলোচনা করছেন কীভাবে প্রাকৃতিকভাবে আপনার শরীরকে নির্বিষ ও পরিশুদ্ধ করা যায়।

সদগুরু: মূলত, দেহ হল পাঁচটি উপাদানের খেলা - জল, মাটি, বায়ু, আগুন ও আকাশ।দেহকে এই পাঁচটা উপাদানে তৈরি একটা পুতুল হিসেবে উল্লেখ করা ভারতে খুবই সাধারণ বিষয়। গঠনগতভাবে, দেহটা বাহাত্তর শতাংশ জল, বারো শতাংশ মাটি, ছয় শতাংশ বায়ু, চার শতাংশ আগুন এবং বাকী ছয় শতাংশ আকাশ

এই পাঁচটি উপাদান আপনার মধ্যে কীভাবে আচরণ করে সেটাই মূলত সবকিছু নির্ধারণ করবে। “ভূত” মানে উপাদান; "ভূত শুদ্ধি" মানে উপাদানগুলির দোষ থেকে মুক্ত হওয়া। এর অর্থ ভৌত উপাদান থেকে মুক্ত হওয়া। যোগে 'ভূত শুদ্ধি' একটি ভিত্তিগত সাধনা - ভৌতের সীমাবদ্ধতাগুলিকে অতিক্রম করে ভৌতের উর্ধ্বের একটি মাত্রার প্রতি গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার জন্য।

এমন কয়েকটি সহজ জিনিস আছে,যেগুলো আপনি প্রাকৃতিক উপায়ে 'ভূত শুদ্ধি' করার জন্য করতে পারেন। এটি চূড়ান্ত রকমের ভূত শুদ্ধি নয়, তবে আপনি পাঁচটি উপাদানের কিছুটা পরিশুদ্ধি ঘটাতে পারেন।

জল

পাঁচটি উপাদানের মধ্যে আমাদের সবচেয়ে বড় চিন্তা হল জলকে নিয়ে। আপনাকে অবশ্যই জলের ব্যাপারে প্রচুর যত্ন নিতে হবে কারণ এটি বাহাত্তর শতাংশ আর এর মধ্যে প্রচণ্ড পরিমাণে স্মৃতি রয়েছে। একটি জিনিস আপনি করতে পারেন যে, এতে কেবল কয়েকটি নিম বা তুলসী পাতা ফেলে দিন। এগুলি রাসায়নিক অশুদ্ধি দূর করবে না তবে এগুলি জলকে খুবই প্রাণবন্ত এবং শক্তিময় করে তুলবে। আরেকটি জিনিস হ'ল একটি তামার পাত্রে জল ভরে রাখা, যাতে করে জল তামা থেকে একটা উপকারী গুণ অর্জন করে।

মাটি

মাটি হল বারো শতাংশ। কীভাবে আপনার ভেতর খাবারটা যায়, কার হাতে থেকে এটি আপনার কাছে আসে, আপনি কীভাবে এটিকে খান, আপনার আচরণ এর প্রতি কীরূপ, এই সমস্ত বিষয়গুলি গুরুত্বপূর্ণ। সর্বোপরি, আপনি যে খাবারটি খান সেটাও জীবন। আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে অন্য প্রাণীরা তাদের জীবন দান করছে। আমাদের জীবন বাঁচিয়ে রাখতে যেই সমস্ত জীবন্ত প্রাণ তাদের নিজেদের জীবন দান করে, আমরা যদি তাদের সবার প্রতি ভীষণ কৃতজ্ঞতা সহকারে খেতে পারি, খাদ্য আপনার ভেতর একেবারেই আলাদাভাবে আচরণ করবে।

বায়ু

বায়ু হল ছয় শতাংশ। এর মধ্যে আপনার শ্বাস-প্রশ্বাস মাত্র এক শতাংশ বা তারও কম। বাকিটা আরো অনেক অন্যান্য উপায়ে ঘটছে। আপনার শ্বাস-প্রশ্বাসের বায়ুটাই যে আপনাকে শুধু প্রভাবিত করে তা নয়, আপনি বায়ুকে কীভাবে নিজের ভিতরে রাখছেন তার উপরেও এটা নির্ভর করে। আপনাকে অবশ্যই ঐ এক শতাংশেরও যত্ন নিতে হবে, তবে আপনি যদি কোনো শহরে বাস করেন তাহলে কী ধরণের বায়ু আপনি শ্বাস-প্রশ্বাসে নিচ্ছেন তা আপনার হাতে নাও থাকতে পারে। কাজেই কোনো পার্কে বা হ্রদের ধারে হাঁটতে যান।

বিশেষ করে আপনার যদি সন্তানসন্ততি থাকে তবে এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি মাসে অন্তত একবার তাদের নিয়ে বাইরে যান - সিনেমা হল বা সেরকম কোথাও নয় কারণ ঐসব হলের সীমিত বায়ু সেখানকার শব্দের দ্বারা, পর্দায় যেসব পরিস্থিতি ও আবেগ ঘটছে সেগুলির দ্বারা এবং মানুষের মনে ওগুলো যেভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে সেসবের দ্বারা প্রভাবিত হয়। তাদের সিনেমায় নিয়ে যাওয়ার বদলে বরং নদীর তীরে নিয়ে যান, কীভাবে সাঁতার কাটতে হয় বা পাহাড়ে চড়তে হয় সেসব শেখান। আপনার হিমালয় অবধি যাওয়ার দরকার নেই। একটি ছোট পাহাড়ই শিশুর কাছে পর্বত।এমনকি একটা বড় পাথর হলেও চলবে। যান, এর একটির ওপর চড়ে বসুন। শিশুরা এটা খুবই উপভোগ করবে এবং তাদের শরীরও মজবুত হবে। আপনার শরীরও মজবুত হয়ে উঠবে,আপনার শরীর এবং মন অন্যভাবে কাজ করবে এবং সর্বোপরি আপনি সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির সংস্পর্শে থাকবেন যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

আগুন

আপনার ভেতরে কী ধরণের আগুন জ্বলে আপনি তারও যত্ন নিতে পারেন। প্রতিদিন আপনার শরীরে কিছুটা সূর্যরশ্মি গ্রহণ করুন কারণ সূর্যের আলো এখনও খাঁটি। সৌভাগ্যক্রমে কেউ এটা দূষিত করতে পারে না আর আপনার ভিতরে কী ধরণের আগুন জ্বলে - এটা কি লোভের আগুন, ঘৃণার আগুন, ক্রোধের আগুন, প্রেমের আগুন, না করুণার আগুন। যদি আপনি এটির যত্ন নেন তবে আপনার শারীরিক এবং মানসিক কল্যাণের চিন্তা করার দরকার নেই। এর যত্ন নেওয়া হয়ে যায়।

আকাশ

আকাশ হল যা সৃষ্টি আর যা সৃষ্টির উৎস, এই দুইয়ের মধ্যবর্তী এক অবস্থান।

আমরা যদি অন্য চারটি উপাদান ভালোভাবে রাখতে পারি তবে আকাশ নিজেই তার যত্ন নেবে। আপনি যদি জানেন নিজের জীবনে কীকরে আকাশের সহযোগিতা লাভ করতে হয়, তবে এটি একটি ধন্য জীবন‌ হবে।

Editor’s Note: Excerpted from Sadhguru’s discourse at the Isha Hatha Yoga School’s 21-week Hatha Yoga Teacher Training program. The program offers an unparalleled opportunity to acquire a profound understanding of the yogic system and the proficiency to teach Hatha Yoga. The next 21-week session begins on July 16 to Dec 11, 2019. For more information, visit www.ishahathayoga.com or mail info@ishahatayoga.com