মহাভারত পর্ব ৬: দেবব্রতর জন্ম

মহাভারতের এই পর্বে আমরা দেখবো শান্তনু ও গঙ্গার সাক্ষাতের পরিণাম, যা বশিষ্ঠ মুনির একটি অভিশাপের সঙ্গে জড়িত।
Mahabharat Episode 6: The Birth of Devavrata
 

Mahabharat All Episodes

మహాభారత కథ : భీష్మ పితామహుడి జననం

সদগুরু: গঙ্গা একটি সুন্দর পুত্রসন্তান প্রসব করলেন, কিন্তু তৎক্ষণাৎ তিনি শিশুটিকে নিয়ে নদীতে গেলেন এবং ডুবিয়ে দিলেন। শান্তনু এটা বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। তাঁর হৃদয় ফেটে যাচ্ছিল কিন্তু তিনি মনে রেখেছিলেন যে তিনি যদি গঙ্গাকে জিজ্ঞাসা করেন যে কেন তিনি এই কাজটি করেছেন, তিনি ছেড়ে চলে যাবেন। এই মানুষটি, যিনি সোহাগে-আহ্লাদে ভেসে বেড়াচ্ছিলেন, তিনি শোকাহত হয়ে পড়লেন এবং স্ত্রীকে ভয় পেতে লাগলেন। কিন্তু তবুও তিনি তাঁকে এতটাই ভালবাসতেন যে তাঁরা একসাথেই বাস করতে লাগলেন। আরেকটি সন্তানের জন্ম হল, কিন্তু কোনো কথা ছাড়াই গঙ্গা এই শিশুটিকেও নিয়ে গিয়ে ডুবিয়ে দিলেন। শান্তনুর পাগল হয়ে যাওয়ার উপক্রম হল কিন্তু তিনি গঙ্গার শর্ত মনে রেখেছিলেন। এরকম চলতেই থাকল এবং সাতজন শিশুকে ডুবিয়ে দেওয়া হল।

যখন অষ্টমটির জন্ম হল- শান্তনু অসহায়ভাবে গঙ্গাকে নদী পর্যন্ত অনুসরণ করলেন। যেইমাত্র উনি শিশুটিকে ডুবিয়ে দিতে যাবেন তক্ষুনি শিশুটিকে ছিনিয়ে নিয়ে শান্তনু বললেন, “যথেষ্ট হয়েছে। কেন তুমি এরকম অমানবিক কাজ করছো?” গঙ্গা জবাব দিলেন, “আপনি শর্ত ভেঙেছেন। এবার আমার যাবার পালা। তবে আমি আপনাকে কৈফিয়ত দিতে বাধ্য, তাই এর কারণ আমি বলছি।"

বহুকাল আগে বশিষ্ঠ মুনি তাঁর আশ্রমে বাস করছিলেন, সেখানে নন্দিনী নামে দৈবগুণসম্পন্ন একটি বিশেষ গরু ছিল। একদিন অষ্টবসুরা ওই এলাকায় ছুটি কাটাচ্ছিলেন। বসুদের বর্ণনা করে শাস্ত্রে বলা হয়েছে - এঁরা এমন লোকজন, যাঁরা বিমান বা কোনোরকম আকাশযানে করে উড়ে বেড়াতেন। এই যন্ত্রগুলি স্ব-চালিত ছিল। এমনকি তাঁরা এটাও বলেছেন যে যন্ত্রগুলির পৃষ্ঠতল তরল পারদের মতো মসৃণ ছিল। তাঁরা বলেন, এইসব যন্ত্রের ভিতর আলো থাকত কিন্তু কোনো আগুন বা তেল নয়। নিজে থেকেই আলো জ্বলতো।

এই বসুরা আশেপাশে ঘুরতে ঘুরতে বশিষ্ঠর আশ্রমে এসে পড়লেন আর সেখানে তাঁরা নন্দিনীকে দেখতে পেলেন। বসুদের মধ্যে একজন, যার নাম ছিল প্রভাস - তাঁর স্ত্রী বললেন, "আমার ঐ গরুটিকে চাই।" কিছু না ভেবেই প্রভাস বললেন, “চলো, গরুটিকে নিয়ে যাই।” তাঁদের মধ্যে দু-একজন বললেন, “কিন্তু এটি তো আমাদের গরু নয়। এটি একজন ঋষির গরু। আমরা কেন এটাকে নিয়ে যাবো?" প্রভাসের স্ত্রী উত্তর দিলেন, "কাপুরুষরা সবসময়ই অজুহাত খাড়া করে। তোমরা গরুটি নিতে পারবে না তাই তোমরা ধর্মের দোহাই দিচ্ছো।" একথা শুনে প্রভাসের পৌরুষ জেগে ওঠল এবং সঙ্গীদের সহায়তায় তাঁরা গিয়ে গরুটি চুরি করে নিয়ে এলেন।

এই অষ্টবসু তখন গঙ্গার কাছে মিনতি করলেন, “আপনার গর্ভেই আমাদের জন্ম নিশ্চিত করুন। ওই গ্রহে আমাদের জীবন যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করে তুলুন।”

বশিষ্ঠ যখন বুঝতে পারলেন যে তাঁর প্রিয় গাভীটি চুরি হয়ে গেছে, তখন তিনি তাঁদের ধরলেন এবং অভিশাপ দিয়ে বললেন, "তোমাদের এতো সাহস হয় কী করে! তোমরা অতিথি হিসেবে এলে, আমরা তোমাদের ভালভাবে আপ্যায়ন করলাম আর শেষে কিনা তোমরা আমার গরু চুরি করে নিয়ে যেতে চাও। তোমাদের যেন মানুষ হিসেবে জন্ম হয়, সকল সীমাবদ্ধতা সমেত। তোমাদের ডানাগুলি যেন ছেঁটে দেওয়া হয় যাতে তোমরা উড়তে না পারো। এই পৃথিবীতে তোমাদের পায়ে হেঁটে বেড়াতে হবে, ভৌত শরীর বহন করতে হবে, তোমাদের জন্ম নিতে হবে এবং অন্য সকলের মতো তোমাদেরকেও মরতে হবে।" এই আটজন বসু তখন গঙ্গার কাছে মিনতি করলেন, “আপনার গর্ভেই আমাদের জন্ম নিশ্চিত করুন। ওই গ্রহে আমাদের জীবন যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত করে তুলুন।”

গঙ্গা শান্তনুকে বললেন, “আমি কেবল তাঁদের বাসনা পূরণ করছিলাম। তাঁরা শুধুমাত্র জন্মগ্রহণ করেই অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে চেয়েছিলেন। আমি তাঁদের সাতজনকে উদ্ধার করেছি কিন্তু অষ্টমটিকে আপনি রক্ষা করলেন। যাই হোক ইনি হলেন প্রভাস, যে চুরির জন্য প্ররোচনা দিয়েছিল। হয়তো এই গ্রহে তাঁর আরও দীর্ঘ জীবন প্রাপ্য, তবে যেহেতু সে এখন শিশু আমি তাঁকে আমার সঙ্গে করে নিয়ে যাব। যখন এর ষোল বছর বয়স হবে, আমি একে ফিরিয়ে আনব। আমি সুনিশ্চিত করব যেন তার শিক্ষা সম্পূর্ণ হয়। একজন ভালো রাজা হওয়ার জন্য যা যা দরকার - সেসব আমি তাঁকে শেখাব এবং ষোল বছর বয়সে তাঁকে আপনার কাছে রেখে যাব।” এই কথা বলে শিশুটিকে নিয়ে তিনি চলে গেলেন।

শান্তনু অবসাদগ্রস্ত এবং দিশেহারা হয়ে পড়লেন। তিনি নিরাশ হয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন এবং তাঁর রাজ্যের প্রতিও সব আগ্রহ হারিয়ে ফেললেন। যিনি একজন মহান রাজা ছিলেন- তিনি হয়ে উঠলেন একজন হতাশ, বিষণ্ণ মানুষ। কী করবেন বুঝতে না পেরে তিনি কেবল চারিদিকে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন।

ষোল বছর পর গঙ্গা ছেলেটিকে সঙ্গে নিয়ে ফিরে এলেন, তাঁর নাম দেওয়া হয়েছিল দেবব্রত এবং গঙ্গা তাঁকে শান্তনুর হাতে তুলে দিলেন। দেবব্রত ধনুর্বিদ্যার শিক্ষা নিয়েছিলেন স্বয়ং পরশুরামের কাছ থেকে। বৃহস্পতির কাছ থেকে শিখেছিলেন বেদ। তিনি সম্ভাব্য সেরা শিক্ষকদের কাছ থেকে সমস্ত রকম শিক্ষা লাভ করেছিলেন এবং রাজা হওয়ার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত ছিলেন। শান্তনু যখন তাঁকে দেখলেন, তাঁর সমস্ত হতাশা দূর হয়ে গেল এবং তিনি অত্যন্ত স্নেহ-উদ্দীপনার সঙ্গে ছেলেকে কাছে টেনে নিয়ে তাঁকে যুবরাজ হিসেবে অভিষিক্ত করলেন।

দেবব্রত প্রশাসনের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন এবং শান্তনুর নির্দেশে সব কাজ ভালভাবে নির্বাহ করছিলেন, তাই তিনি আবার মুক্ত ও হাসিখুশি হয়ে উঠলেন। একদিন শান্তনু মৃগয়ায় বের হলেন এবং আবার প্রেমে পড়লেন!

চলবে...

More Mahabharat Stories

Editor’s Note: A version of this article was originally published in Isha Forest Flower June 2015. Download as PDF on a “name your price, no minimum” basis or subscribe to the print version.