সকল অশুভ শক্তির সমাপ্তি

কে না চাইবে সকল অশুভ শক্তি বিনাশ করে একটা শান্তিপূর্ণ বিশ্বে বাস করতে? কিন্তু "অশুভ শক্তি" ঠিক কি, আর কি ভাবেই বা একে ধ্বংস করা যাবে? সদগুরু একটি সর্বজনীন সমস্যাকে এক বিরল দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে বিষয়টির বিশদ ব্যাখ্যা করছেন।
The End of All Evil
 

সদগুরু: অশুভ শক্তি, না তো কোন গুণ আর না তো কোন কাজ, এটা অজ্ঞানতার একটা পরিণাম। অনেক রকম ভাবে এটা প্রকাশ করা হয়েছে। আপনারা নিশ্চয়ই এই উক্তিটি শুনেছেন, "ওরা জানেনা ওরা কি করছে"। যেখানে অজ্ঞানতা রয়েছে - অশুভ শক্তি স্বাভাবিক ভাবেই থাকবে, তা সেটা এভাবে শনাক্ত করা হোক বা না হোক।

● অশুভ শক্তি, না তো কোন গুণ আর না তো কোন কাজ, এটা অজ্ঞানতার একটা পরিণাম।

বেশিরভাগ সাংঘাতিক ঘটনাগুলো ঘটে কোন মানুষ অশুভ বলে নয়, বরং তিনি অজ্ঞ বলে। জঘন্য কোন কাজে যদি কোন মানুষ লিপ্ত থাকে, তাহলে সেটা অশুভ বলে চিহ্নিত হবে, কি হবে না - সেটা পুরোপুরি সংখ্যা এবং শক্তির প্রশ্ন। এটা পুরোটাই নির্ভর করছে আপনার সঙ্গে কত সংখ্যক মানুষ আছেন তার উপর। আপনি যদি পুরো শহরটাকে কোন ভাবে কোন অশুভ কাজে লিপ্ত করতে পারেন, তাহলে সেটাই ঠিক কাজ হিসেবে গণ্য হবে। আজকের দিনে, আমরা অতীতে যে সব 'ঠিক কাজ' লোকজন করেছিলেন, সেসবের সঙ্গে কোন রকম ভাবে যুক্ত হতে চাই না -কারণ সেগুলো তাদের করা সবথেকে জঘন্য সব কাজ ছিল। অতীতের ভালো মানুষেরা যা করতেন, আজকালকার সব থেকে দুষ্ট লোকেরাও সেই কাজ করার যোগ্য নয়। আর এমনও নয় যে পরিস্থিতি আজকের দিনে পৃথক কিছু। 

বেশিরভাগ সাংঘাতিক ঘটনাগুলো ঘটে কোন মানুষ অশুভ বলে নয়, বরং তিনি অজ্ঞ বলে। জঘন্য কোন কাজে যদি কোন মানুষ লিপ্ত থাকে, তাহলে সেটা অশুভ বলে চিহ্নিত হবে, কি হবে না - সেটা পুরোপুরি সংখ্যা এবং শক্তির প্রশ্ন। এটা পুরোটাই নির্ভর করছে আপনার সঙ্গে কত সংখ্যক মানুষ আছেন তার উপর। আপনি যদি পুরো শহরটাকে কোন ভাবে কোন অশুভ কাজে লিপ্ত করতে পারেন, তাহলে সেটাই ঠিক কাজ হিসেবে গণ্য হবে। আজকের দিনে, আমরা অতীতে যে সব 'ঠিক কাজ' লোকজন করেছিলেন, সেসবের সঙ্গে কোন রকম ভাবে যুক্ত হতে চাই না -কারণ সেগুলো তাদের করা সবথেকে জঘন্য সব কাজ ছিল। অতীতের ভালো মানুষেরা যা করতেন, আজকালকার সব থেকে দুষ্ট লোকেরাও সেই কাজ করার যোগ্য নয়। আর এমনও নয় যে পরিস্থিতি আজকের দিনে পৃথক কিছু। 

অস্তিত্বকে জানতে হলে প্রথমে আমাদের এটা বুঝতে হবে যে আপনার মন এবং শরীর এই বিশ্ব এবং বিশ্বের মানুষের তৈরি। আপনার প্রকৃত স্বরূপ আপনার উপলব্ধিতে নেই কারণ এটা আছে মনের উল্টো দিকে। একরকম ভাবে,আপনার মন একটি আয়নার মত। এটা বিকৃত হতে পারে, তবুও এটা আয়না। আপনি জগৎটাকে দেখেন কারণ এটা আপনার মনে প্রতিফলিত হয়। কিন্তু মন কখনো আত্মাকে প্রতিফলিত করে না। আমি আপনার ভৌতিক বা মানসিক অস্তিত্বের কথা বলছি না। আপনি আপনার চিন্তা এবং আবেগ গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, কিন্তু আপনি আপনার আত্মাকে গভীরভাবে নিরীক্ষণ করতে পারেন না। আপনার অস্তিত্বকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা যায় না - এটা কেবলমাত্র উপলব্ধি করা যেতে পারে। মন আপনার চারপাশের জগতটাকে প্রতিফলিত করছে, কিন্তু আপনি নিজেকে একটা জীবন হিসেবে উপলব্ধি করছেন না।

সুতরাং আপনি যদি এই "আয়নার" প্রকৃতি জানেন, তাহলে আপনি এর প্রতিফলিত সমস্ত ছবি গুলোর প্রকৃতিও বোঝেন। তাই অজ্ঞানতা শুধু এক ধরনের - তা হল আপনি জানেন না এই আয়নাটা কি। যদি এই একটা জিনিস সমাধান হয়ে যায়, তাহলে আপনাকে বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সমস্ত কিছুর সম্বন্ধে আলোকপ্রাপ্ত হতে হবে না। আপনি যদি শুধু জানেন এটা কি, তাহলেই অজ্ঞানতা শেষ এবং অশুভ শক্তিরও সমাপ্তি। 

 

Editor’s Note: Curious to know if there is such a thing as “necessary evil”? Click here to read Sadhguru’s take.