সাফল্যের মন্ত্রঃ ১০টি পরামর্শ

সকলেই সাফল্যের আশায় থাকে। কেউ কেউ অনেকের চেয়ে খুব সহজেই সফল হয় বলে যদি মনে হয়, নতুন ভাবে সবকিছুকে দেখার সময় এসে গেছে। সদগুরুর দেওয়া দশটি পরামর্শ সাফল্যের চাবিকাঠি হতে পারে।
সাফল্যের মন্ত্রঃ ১০টি পরামর্শ
 

জীবনে সফল হওয়া বা সাফল্য পাওয়াকে যদি তোমার অলীক বা মায়াবী মনে হয়, তাহলে তোমার নতুন ভাবে চেষ্টা করার সময় এসে গেছে। এই নিবন্ধে সাফল্যের মন্ত্র হিসেবে দশটি পরামর্শ দেওয়া হল, যেগুলি নিশ্চিত ভাবে তোমার উপকারে আসবে।

#১ ভাগ্যকে ভুলে যাও, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হও –

সদগুরুঃ ঘটনাচক্রে বা বরাতজোরে কখনও কিছু ভাল ঘটনা ঘটতেই পারে তোমার জীবনে। কিন্তু দৈবক্রম বা ভাগ্যের ভরসায় তুমি যদি সব সময় বসে থাকো, সেক্ষেত্রে তোমার মৃত্যুর পরেই ভাল কিছু ঘটার সম্ভাবনা তৈরি হবে। কারণ যাই ঘটুক, ঘটনা তার নিজস্ব সময়েই ঘটবে। কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী, এমনকি তুমি একটি শক্ত দেওয়ালের মধ্যে দিয়েও হেঁটে যেতে পারো, কিন্তু তার সম্ভাবনা অতি ক্ষীণ, অপরিমেয় বারের (zillion times) চেষ্টায় তুমি সফল হলেও হতে পারো, কিন্তু ততদিনে তোমার খুলিটি যে আস্ত থাকবে না তা বলাই বাহুল্য। ভাগ্য বা দৈব সম্ভাবনার হাতে জীবনকে ছেড়ে রাখার অর্থ হল ভয় ও উদ্বেগ তোমার নিত্যসঙ্গী হয়ে থাকবে। কিন্তু নিজের সামর্থ্য ও অভিপ্রায়কে সঙ্গী করে বেঁচে থাকলে, চারপাশে কী ঘটল না ঘটল তার জন্য তোমার ভিতরটা প্রভাবিত হবে না, তোমার ভিতরের নিয়ত্রণ পুরোপুরি তোমার হাতেই থাকবে। এটিই হল স্থিতিশীল জীবনের নমুনা।

#২ ব্যর্থতায় আটকে যেও না –

সদগুরুঃ কোনও কিছুতে নিজেকে উৎসর্গ করতে পারে যে, তার কাছে ব্যর্থতা বলে কিছু হয় না। যদি তুমি সারাদিনে একশো বারও পতিত হও, সেটা একশোটা ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার সমার্থক হয়ে ওঠে। যা করতে তুমি ভালবাসো, তার প্রতি যদি তুমি নিবেদিত প্রাণ হও, তোমার মনও সেভাবেই নিজেকে বিন্যস্ত করে নেবে; মনের সঙ্গে তোমার আবেগও সেভাবেই নিজেকে সাজিয়ে নেবে কারণ তোমার ভাবনা চিন্তা যে পথে যায়, স্বাভাবিক নিয়মে আবেগও সে পথকেই অনুসরণ করে; তোমার ভাবনা-চিন্তা ও আবেগ যে খাতে বইবে, ভৌত দেহ ও প্রাণশক্তিও ঠিক সেভাবেই সংগঠিত হয়ে উঠবে। একবার যদি তোমার শরীর, ভাবনা-চিন্তা, আবেগ ও প্রাণশক্তি একমুখী ও একাগ্র হয়ে ওঠে, কোনও কিছু সৃষ্টি বা প্রকাশের ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবেই অভাবনীয় সামর্থ্যের অধিকারী হয়ে উঠবে তুমি।

#৩ স্বচ্ছ দৃষ্টি নিয়ে কাজ করো –

সদগুরুঃ <প্রতিটি মানুষের স্বচ্ছ দৃষ্টির প্রয়োজন,আত্মবিশ্বাস নয়। জনারণ্যের মধ্যে দিয়ে হাঁটার সময় দৃষ্টি যদি তোমার স্বচ্ছ হয়, তবেই তুমি প্রত্যেকের অবস্থান সম্পর্কে অবগত হবে, একজনকেও স্পর্শ না করে অনায়াসেই জনারণ্যের মধ্যে দিয়ে হেঁটে যেতে সক্ষম হবে তুমি। কিন্তু প্রভূত আত্মবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও, দৃষ্টি যদি তোমার ঝাপসা বা অস্বচ্ছ হয়, অনিবার্যভাবেই তুমি সকলের গায়ে পা লাগিয়ে ফেলবে। স্বচ্ছ দৃষ্টির অভাব রয়েছে বলেই, আত্মবিশ্বাসই একমাত্র বিকল্প বলে মনে করে সকলেই। কিন্তু তা কোনভাবেই সম্ভব নয়। এভাবে চলার অর্থ হল, একটি মুদ্রাকে নিয়ে হেড বা টেলের হাতে জীবনের যাবতীয় সিদ্ধান্তকে ছেড়ে দেওয়া। এভাবে তুমি খুব বেশি হলে ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিক হলেও হতে পারো। এই ৫০ শতাংশ সঠিক হওয়াকে তুমি যদি মেনে নাও, তাহলে আবহাওয়াবিদ অথবা জ্যোতিষী হয়ে বসাই তোমার উপযুক্ত পেশা, এই গ্রহটির বুকে অন্য কোনও পেশার যোগ্য হয়ে ওঠোনি তুমি।

#৪  যা কিছু অপচ্ছন্দ, তার কাছে যাও –

সদগুরুঃ জীবনের বিভিন্ন পরিস্থিতিকে সুন্দর ভাবে সামলাতে হলে পাথুরে কঠিন ব্যক্তিত্বের ধরাচূড়াটি খুলে রেখে দেওয়া প্রয়োজন। বেঁচে থাকতে গেলে ভিন্ন ভিন্ন আইডেন্টিটির প্রয়োজন হয়, কিন্তু তার মানে এই নয় যে, সর্বদা একই রকম ব্যক্তিত্বের বর্ম পরে থাকতে হবে। ব্যক্তিত্ব হল বাহ্যিক আইডেন্টিটি, এটিকে যথা সম্ভব নমনীয় করে রাখতে শিখলে, পরিস্থিতির প্রয়োজন অনুযায়ী তুমি ধরাচূড়াটিকে সহজেই বদলে নিতে পারবে। কিন্তু আর সকলের মতো, তুমিও যদি ব্যক্তিত্বের খোলসটিকে পাথরের মতো অনমনীয় করে ফেলো, তাহলে তোমার অপচ্ছন্দের কোনও কিছু ঘটলেই সেটি তোমার যন্ত্রণার কারণ হয়ে উঠবে।

এই পরিস্থিতির হাত থেকে রেহাই পেতে গেলে, এর বিপরীত কিছু না করে উপায় নেই তোমার। একটি সহজ কাজ তুমি শুরু করতে পারো। আজ পর্যন্ত যে সব মানুষ তোমার অপচ্ছন্দের তালিকায় আছে, তাদের সঙ্গে ভালবেসে, আনন্দ নিয়ে সময় কাটানো শুরু করো। যে কাজ করতে তোমার বরাবর আপত্তি ছিল, সেই কাজটিই ভালবেসে করা শুরু করো। খুব সহজেই তুমি নিজস্বতা বজায় রেখেই, সচেতন ভাবে পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী চলতে শিখবে।

#৫ আমিত্বের হিসেব নিকেশ বন্ধ করো –

সদগুরুঃ মহৎ মানুষ হওয়ার চেষ্টা করার কোনও প্রয়োজন নেই। শুধু আত্মসুখ আর আত্মস্বার্থের কথা ভাবা বন্ধ করো, তাহলেই তোমার প্রতিটা কাজ মানবিক মহত্বে পরিপূর্ণ হয়ে উঠবে। যাদের তুমি মহামানব হিসেবে দেখো, তাঁরা কেউই কিন্তু চেষ্টা করে মহামানব হননি। তাঁরা মহামানবিক হয়ে উঠেছিলেন কারণ, শুধু এই আত্মগত ভাবনায় তারা আটকে থাকেননি যে, “আমার কী হবে” ?

“আমার কী হবে?” – শুধুই ‘আমি’ কেন্দ্রিক এই ভাবনাটুকু যদি মাথা থেকে তাড়াতে পারো, যদি তোমার সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে যে কোনও কাজ করতে পারো, তাহলেই তোমার দৃষ্টি চারপাশে ঘটে চলা জীবনের দিকে প্রসারিত হবে। আর সকলের জন্য আমি কী করতে পারি – এই ভাবনাটিই তোমার কর্মদক্ষতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

#৬ সাফল্যের জন্য যোগ -

সদগুরুঃমানবদেহ তন্ত্রে কাঁধ ও ঘাড়ের উপরের অংশটি স্নায়বিক ও শক্তি সঞ্চারণ ব্যবস্থার মূল কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সঙ্গত কারণেই, ঘাড় ও কাঁধের অঞ্চলটিকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় রাখা অত্যন্ত জরুরী। প্রতিদিন ৩ থেকে ৪ মিনিটের জন্য ঘাড়ের নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম অভ্যাস (Neck Practice) তোমাকে আরও সচেতন হয়ে উঠতে সাহায্য করবে। এই অভ্যাসগুলি স্নায়বিক সংবেদন, স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করার পাশাপাশি বুদ্ধিবৃত্তিকেও তীক্ষ্ণ করে তোলে।

 

সদগুরু নির্দেশিত যোগের শক্তিশালী প্রক্রিয়াগুলি অভ্যাসের জন্য মোবাইলেও পাওয়া যায়

#৭ সমাহিত হও, উচ্ছ্বসিত হও -

সদগুরুঃ পার্থিব জীবনে সাফল্যের মৌলিক ভিত্তি হল শরীর ও মনের শৌর্য। মনকে সঠিক ভাবে কাজে লাগাতে গেলে, সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ যে গুণটির প্রয়োজন সেটি হল স্থৈর্য বা সমাহিত ভাব। সহজাত প্রকৃতিতে প্রশান্ত বা সমাহিত ভাবটিই মনের গভীরতর স্তরের প্রবেশদ্বার। অবিচলিত বা আত্মস্থ হতে না শিখলে মনকে সঠিক লক্ষ্যে কাজে লাগানোর নৈপুণ্য বহুলাংশে হ্রাস পায়। জীবনের আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল প্রাণ প্রাচুর্য্যে ভরা উচ্ছ্বাস, যা একই সঙ্গে শরীর ও অন্তর্নিহিত শক্তির প্রাণবন্ততার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। শরীর ও মন একই সঙ্গে স্থিতধী ও উচ্ছ্বাসময় হয়ে উঠলে, বাধা বিপত্তি অতিক্রম করে অনায়াসে তুমি সাফল্যকে করায়ত্ত করতে সক্ষম হবে।

#৮ অন্তর্দৃষ্টিকে উন্মোচিত করো -

সদগুরুঃ জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহের প্রতি এমনভাবে মনোযোগী হও যাতে, অন্যদের কাছে যা ঝাপসা বা অস্পষ্ট, তাও যেন তোমার চোখে স্পষ্ট বা স্বচ্ছ হয়ে ধরা দেয়। অভ্রভেদী দৃষ্টির অধিকারী না হলে হাক্লান্ত পরিশ্রম দিয়ে কিছু হয় না। গভীর অন্তর্দৃষ্টি দিয়ে কোনও কিছুকে দেখার নৈপুণ্য অর্জন করলে পরেই মধ্যমেধার কাজগুলিও অসাধারণত্বে উন্নীত হতে পারে।

#৯ নিজেকে অনুপ্রাণিত করো -

সদগুরুঃ আরেকটি গুরুত্বপূর্ন দিক হলো সর্বদা প্রেরণার মধ্যে থাকা । আপনি যা করছেন, তা কেন করছেন তার কারণটি খুঁজুন , এবং বৃহত্তর চিত্রটি দেখার চেষ্ঠা করুন , দেখার চেষ্ঠা করুন প্রত্যেকটি ছোট ছোট কাজের মধ্যে দিয়ে আপনি কতটা অবদান করতে সক্ষম । মানুষের প্রত্যেকটি কাজ এই বিশ্বে কোনো একটা দিকে কিছু অবদান রেখে যায়। আপনি যাই করুন না কেন কেউ না কেউ তার দ্বারা উপকৃত হতে পারেন । আপনি যদি সচেতনতার সঙ্গে আপনার অবদান রাখতে পারেন, তাহলে সেটাই আপনাকে অনুপ্রেরণা দেবে।

#১০ মূল্যবোধের মানদন্ড তৈরি করো -

সদগুরুঃ পার্থিব জগতে সফল ও কার্যকরী ভুমিকা নিতে গেলে চারপাশের মানুষের আস্থা অর্জন করা অত্যন্ত জরুরী এবং মূল্যবোধে অবিচল হয়ে থাকার গুণটিই স্থির করে দেবে, কত মানুষের আস্থা অর্জনে তুমি সক্ষম হবে। চারপাশের পরিবেশে যত বেশি মানুষ তোমার প্রতি আস্থাশীল হবে, তত বেশি মসৃণ হবে তোমার কাজ। তোমার কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি পাবে তখনই, যখন তুমি প্রয়োজনীয় সংখ্যক মানুষের ভরসাস্থল হয়ে উঠবে। তোমার প্রতি আস্থাশীল যারা হবে তারাই যাবতীয় প্রতিবন্ধকতাকে সরিয়ে তোমার কাজের পথটিকে আরও সুগম করে দেবে।।

সম্পাদকের কথা :- অতীব শক্তিশালী ও কার্যকরী, ৫ মিনিট মেয়াদী রূপান্তরের উপায়গুলি যোগ দিবসের জন্য তৈরি করেছেন সদগুরু, যে কেউ এগুলি অনুশীলন করতে পারেন। প্রশিক্ষক হিসেবে আপনারা যোগ কর্মশালার আয়োজন করতে পারেন।

কোন পদ্ধতিতে আপনি সাফল্যের স্বাদ পেয়েছেন ? নীচের কমেন্ট সেকশনে জানাতে পারেন, সাফল্য ও ব্যর্থতার নিরিখে কোন বিষয়টি আপনার জীবনে কার্যকরী ভূমিকা নিয়েছে।