নতুন বসের সাথে কিভাবে মানিয়ে নেবেন?

কর্মক্ষেত্রে নতুন বসের সাথে মানিয়ে নেওয়া কি একটা যন্ত্রণাদায়ক ব্যাপার হতেই হবে? এধরনের পরিস্থিতিকে সামাল দেবার সেরা উপায় সম্পর্কে সদগুরু তাঁর একটি অনন্য দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সামনে তুলে ধরছেন।
নতুন বসের সাথে কিভাবে মানিয়ে নেবেন?
 

প্রশ্ন: কখনও কখনও আমরা দেখি যে কোনও নতুন বস যখন কোনও সংস্থায় আসেন, তিনি এমন অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসেন যা সংস্থার অতীত সংস্কৃতির বিরোধী। এটা সংস্থার মধ্যে প্রচুর অস্থিরতার জন্ম দেয়। আমাদের কীভাবে এর মোকাবেলা করা উচিত?

সদগুরু: প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানেই নেতা নির্বাচনের ক্ষেত্রে সর্বদা একটি পদ্ধতি থাকে। একবার আমরা কাউকে নেত্রী করে দেওয়ার পর, যদি প্রত্যেকে তাঁকে সমর্থন না করি তবে তিনি সেই সংগঠনটিকে কোথাও এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন না। যদি আপনি আপনার পুরানো অভ্যাসগুলি বজায় রাখেন কারণ আপনি ভাবেন যে সেগুলি আপনার পক্ষে ভাল, তাহলে একজন নতুন নেতা কী আর করতে পারেন? একজন কর্মচারী হিসাবে আপনি একটা স্থিতাবস্থা রাখতে চাইতে পারেন। তবে নতুন নেতা সম্ভবত সংগঠনটিকে অন্য দিকে নিয়ে যেতে চান, একেবারে আলাদা জায়গায় নিয়ে যেতে চান যা আপনি ভাবতেও পারছেন না। এই সমস্ত কিছু যদি আপনি ভাবতে পারতেন তবে তারা আপনার হাতেই নেতৃত্ব দিয়ে দিত।

আপনি যদি কোনও একটি ব্যবসায়িক সংস্থা, সংগঠন, জাতি বা বলতে গেলে যে কোনও প্রতিষ্ঠানে আগ্রহী থাকেন, একবার যদি আমরা কোনও নেতা নির্বাচন করে বা বেছে নিই, আমাদের অবশ্যই তাদের সঙ্গে সম্পূর্ণ সহায়তা করতে হবে।

আপনি যদি কোনও একটি ব্যবসায়িক সংস্থা, সংগঠন, জাতি বা সেই অর্থে যে কোনও প্রতিষ্ঠানের উন্নতি চান, তাহলে একবার যদি আমরা কোনও নেতা নির্বাচন করে বা বেছে নিই, আমাদের অবশ্যই তাঁদের সম্পূর্ণ সমর্থন করতে হবে। একজন নেতা তার উচ্চতা থেকে নেমে এসে সংস্থার সমস্ত কর্মীদের কাছে ব্যাখ্যা করতে পারবেন না যে তিনি কী পরিকল্পনা করছেন। এভাবে সেটা কার্যকরী হবে না। কেউ যখন সম্মুখে দাড়িয়ে নেতৃত্ব দেন সে সেখানে সর্বদাই একা কারণ এটি আপনার সবচেয়ে কাছাকাছি ব্যক্তিকেও আপনি বলতে পারবেন না। আপনি যদি খুব বেশি বলে ফেলেন, তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারে।

বড় কিছু ঘটানোর জন্য, একই সাথে অনেকগুলি পদক্ষেপ নিতে হয় এবং অনেক কিছুই কৌশলগত উপায়ে করতে হয়। কৌশল না থাকলে নেতৃত্বের কাজ হয় না। আপনি যদি নেতা হন তবে আপনাকে অবশ্যই একশো ধাপ এগিয়ে ভাবতে হবে। তবে আপনি যদি এই শত পদক্ষেপের কথা বলে বেড়ান তবে কেউ আপনার সাথে থাকবে না। একজন ব্যক্তির কাছে আপনি কয়েকটি বিষয় ব্যাখ্যা করতে পারেন; অন্য আরেকজনের কাছে আপনি আরও কিছু ব্যাখ্যা করতে পারেন; আবার আরও অনেক লোক আছেন যাদের কাছে আপনি হয়তো কোনও কিছুই ব্যাখ্যা করলেন না। আপনি যদি সকলকে সমস্ত কিছু ব্যাখ্যা করেন তবে কিছুই কার্যকর হবে না কারণ লোকেরা এ থেকে বিশৃঙ্খলা তৈরি করবে। 


যেই আপনার সংস্থার নেতা হন না কেন, আপনি জানেন না তাঁর মনে কী আছে। সমস্যাটি হ'ল, যে মুহুর্তে কোনও নেতা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন, উপর থেকে নীচে অবধি প্রত্যেকেই মনে করেন যে যিনি কর্তৃত্বে আছেন তিনি জানেন না তিনি কী করছেন। আপনার উচিত এটি তাঁর হাতে ছেড়ে দেওয়া কারণ নেতা যখন তিনি একবার হয়েছেন, তিনি যে কেবল ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারেন তা নয়, এটি সফল করার জন্যও তিনি দায়বদ্ধ। যদি তিনি ব্যর্থ হন, তবে তাঁর সাথে যা হবার তা হবে। তবে এর মধ্যে আপনাকে তাঁর পা টানাটানি করে এটিকে ব্যর্থ করার কোনও প্রয়োজন নেই। আপনার কাজ হল নির্দেশ অনুসরণ করা, তা সে যাই হোক না কেন।

আপনি যদি নেতা হয়ে উঠতে চান তবে আপনাকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেখাতে হবে এবং সর্বোপরি, যা-ই ঘটুক তার দায়ভার নিতে আপনাকে রাজি থাকতে হবে, তা সে ভালো বা মন্দ যাই হোক না কেন । 

সুতরাং এটি আপনার নতুন বসের উপর ছেড়ে দিন। তিনি যা করতে চান তা করতে দিন - কেবল তাকে সমর্থন করুন। তিনি যদি জানেন যে তিনি কী করছেন, তাহলে সেটা সফল্য পাবে। অন্যথায়, সেটা ব্যর্থতার সম্মুখীন হবে। তবে যাঁরাই তাকে নির্বাচন করে থাকুন না কেন, তাঁরা একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করেই তা করেছেন এবং তাঁরা বিশ্বাস করেন যে তিনি সফল হবেন।

আপনি যদি নেতা হয়ে উঠতে চান তবে আপনাকে প্রয়োজনীয় দক্ষতা দেখাতে হবে এবং সর্বোপরি, যা-ই ঘটুক তার দায়ভার নিতে আপনাকে রাজি থাকতে হবে, তা সে ভালো বা মন্দ যাই হোক না কেন। আপনাকে বসে বসে হিসেব করবেন না যে আপনি সারাদিনে কত কাজ করেছেন। সর্বদা দিনের শেষে আপনি যদি দেখতে পান, "আরও অনেক কিছু করার ছিল, কিন্তু আমি আজ এগুলো করতে পারিনি কারণ আমার সময় বা শক্তি শেষ হয়ে গিয়েছিল," আপনি স্বাভাবিকভাবেই নেতৃত্বের পদে গিয়ে পৌঁছবেন। 

 

 
 
 
 
  0 Comments
 
 
Login / to join the conversation1