মৃত্যু - হয়ে উঠুন প্রকৃত জীবনমুখী

সদগুরু বলেন, যদি আপনি প্রতিনিয়ত মনে রাখেন যে আপনি মরনশীল, এই পৃথিবীর বুকে আপনি নম্রভাবে এবং সংবেদনশীল হয়ে হাঁটবেন।
Der Tod – Wirklich am Leben orientiert sein
 

সদগুরু বলেন, যদি আপনি প্রতিনিয়ত মনে রাখেন যে আপনি মরনশীল, এই পৃথিবীর বুকে আপনি নম্রভাবে এবং সংবেদনশীল হয়ে হাঁটবেন।

 

সদগুরু: একটা তাৎপর্যপূর্ণ জিনিস যা প্রত্যেকটি মানুষকে করতে হবে তা হলো তাদের মানসিক ও আবেগের কাঠামোকে জীবনের সবথেকে মৌলিক বাস্তব - তাদের মরনশীল প্রকৃতিকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করা। যখন আপনি এটা করবেন একমাত্র তখনই সহজাতভাবে আপনি আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া বা পার্থিব জগতের অতীত এক মাত্রার যোগ্য হয়ে উঠবেন। আপনার যুক্তিবাদী মনের প্রকৃতি এমনই যে এটা সবসময়ই আপনার চিন্তার গন্ডি থেকে মৃত্যুকে সম্পূর্ণ সরিয়ে ফেলতে চাইবে। এই জন্যই বেশিরভাগ মানুষ নিজের মানসিক প্রক্রিয়া একটা অর্থহীন অমরত্বের ধারণাকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলেন - যেন তারা চিরকাল থাকবেন। তাদের চিন্তা-ধারায় প্রতিদিন মনে করিয়ে দেওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই যে এটা একটা সীমিত পরিমাণ সময় এবং আপনি শুধুই আগের প্রজন্ম আর পরের প্রজন্মের মাঝখানের একজন বাহক মাত্র। এখন তো লোকজনের গোটা জীবনকালটাই লেগে যায় এটা উপলব্ধি করতে যে তারা মরনশীল; তাদের এটা মনে করাতে একটা হার্ট অ্যটাক বা কোথাও একটা ম্যালিগন্যান্ট টিউমার বেরোনোর দরকার হয়।

জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আপনার উদযাপন করে ও আনন্দের সাথে কাটানো দরকার কারণ এই হতচ্ছাড়া জীবনটা আপনার জন্য এক মুহূর্তের জন্যেও দাঁড়ায় না।

আপনার জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উদযাপন করে ও আনন্দের সাথে কাটানো দরকার কারণ এই হতচ্ছাড়া জীবনটা আপনার জন্য এক মুহূর্তের জন্যেও দাঁড়ায় না। কাজেই এটা ভীষণভাবে গুরুত্বপূর্ণ যে আপনি এটাকে একটা আনন্দময় ও চমৎকার প্রক্রিয়া করে তোলেন। আপনি যদি অমর হতেন তাহলে আপনি ১০০ বছর করে বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা, পাগলামো, দুঃখ, এগুলো সব উপভোগ করতে পারতেন আর তারপর ৫০০ বছর পূর্তিতে আপনি আনন্দ করতেন। কিন্তু ব্যাপারটা তা নয়। আপনি মরনশীল এবং সময় পেরিয়ে যাচ্ছে। যদি আপনি ভাবেন আপনি এখানে চিরকাল থাকবেন, আপনি জীবনকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে যাবেন, নিজের অর্থহীন সব মানসিক ঘুরপাকে জড়িয়ে থেকে - যার সাথে বাস্তব অস্তিত্বের আদতে কোন সম্পর্কই নেই। কিন্তু ধরুন আপনি যদি জানতেন আপনি পরবর্তী এক ঘণ্টায় মারা যাবেন, আপনি জীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়েও খেয়াল করবেন। আপনি কিছুই বাদ দেবেন না।

এটা কোন মনখারাপ করা কথা নয়। এটা একটা জীবনমুখী বার্তা। আপনি প্রকৃতই জীবনমুখী হয়ে উঠবেন একমাত্র যখন জানবেন জীবন খুবই সীমিত একটা সময়। বিরক্ত হওয়া ও বিষন্ন থাকা হলো মৃত্যুমুখী হওয়া, তাই না? কেবলমাত্র নিজেকে অমর ভাবেন বলেই আপনি এইসবের জন্য সময় সুযোগ পান।

নিরাশা, বিষন্নতা, দুশ্চিন্তা বা রাগের জন্য কোন সময় নেই। এই জীবনে কোনরকম বিরক্তিভাবের জন্য সময় নেই। যদি আপনি ভাবেন আপনি এখানে চিরকাল থাকবেন, আপনি জীবনকে পুরোপুরি উপেক্ষা করে যাবেন নিজের অর্থহীন মানসিক ঘুরপাকে জড়িয়ে থেকে - যার সাথে বাস্তব অস্তিত্বের কোন সম্পর্কই নেই। কিন্তু ধরুন আপনি যদি জানতেন যে আপনি পরবর্তী এক ঘণ্টায় মারা যাবেন, আপনি জীবনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয়েও খেয়াল করবেন। আপনি কিছুই বাদ দেবেন না।

একমাত্র যদি আপনি জানেন যে আপনি মরনশীল - তবেই আপনি এই জীবনটা সত্যিকারের উপভোগ করবেন এবং আনন্দের সাথে জীবনে চলতে পারবেন। আপনার যদি প্রতিনিয়ত এটা মনে থাকে, তাহলে এই গোটা জীবন প্রক্রিয়াটা অর্থহীন মানসিক ঘুরপাক ও পার্থিব জটিলতা থেকে বেরিয়ে আসবে এবং সবকিছুকে উপলব্ধি করতে চাইবে। এটা চরম সজাগ হয়ে উঠবে। আপনার জীবন সহজাতভাবেই এসবকিছুর উর্দ্ধে কিছু খুঁজবে৷ আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া আপনার জন্য স্বাভাবিক উন্নতির এক প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়াবে - জোর করে করার দরকার হবে না।

Editor’s Note: Download the video “Unraveling Death”, in which Sadhguru explores the intricacies behind death and dying, from the time of entering the womb to exiting the body.