জন্মদিন - আপনার মরনশীল প্রকৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়

৩ রা সেপ্টেম্বর সদগুরুর জন্মদিন! ধ্যানলিঙ্গ প্রাণ- প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর ২০০২ সালে ঈশা যোগা সেন্টারে সদগুরু যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তার একটি অংশ এখানে রইল।
Birthdays – A Reminder of Your Mortality
 

৩ রা সেপ্টেম্বর সদগুরুর জন্মদিন! ধ্যানলিঙ্গ প্রাণ- প্রতিষ্ঠার তিন বছর পর ২০০২ সালে ঈশা যোগা সেন্টারে সদগুরু যে বক্তৃতা দিয়েছিলেন তার একটি অংশ এখানে রইল।

Read in Telugu: పుట్టినరోజు: మనం అమరులం కాదని గుర్తు చేస్తుంది

সদগুরু: তিন বছর আগে ধ্যানলিঙ্গের প্রাণ-প্রতিষ্ঠার পর আমরা এই দিনটি দেখতে পাব - একথা আমরা কখনও ভাবিনি, কিন্তু অনেক মানুষের ভালোবাসা এবং আগ্রহ আমাদের এতদূর নিয়ে এসেছে। কিছু কারণে তারা চেয়েছিলেন যে আমাদের বেঁচে থাকা উচিত, যদিও আমি জীবনকে কখনও সেভাবে দেখিনি। এই সকালেই আমি কয়েকজনকে বলছিলাম- আমি বিশ্বাসই করতে পারি না যে এসব এত বছর আগের কথা। মনে হয় যেন এই ক'দিন আগে আমি জন্মগ্রহণ করেছি। এটা এত দ্রুত এবং এত সহজভাবে পেরিয়ে গেছে - এর কারণ সম্ভবত খুব গম্ভীর ভাবে আমি কখনও কিছু করি নি, আমি জীবন নিয়ে খেলে বেড়িয়েছি।

চুক্তি নির্মাতাই চুক্তি ভঙ্গকারী

আধ্যাত্মিক সম্ভাবনা সবার জন্যই খোলা তবে দুর্ভাগ্যক্রমে খুব কম লোকই এটি সম্ভব করে তোলেন। মানবতার ইতিহাসে এতদিন এরকমই হয়ে এসেছে। প্রতিটি প্রজন্মে খুব কম ফুলই ফোটে। আমার একটি স্বপ্ন আছে যে একবিংশ শতাব্দীতে সর্বাধিক সংখ্যক ফুল ফুটবে।

এটি আমার জন্মদিন হোক বা আপনার, বা অন্য কারও - প্রতিদিনই কারোর না কারো জন্মদিন - আসুন এটি কাজে লাগাই এটা খেয়াল করতে যে থলেতে ফুটো আছে । একদিন হয়তো এর থেকে জীবন বেরিয়ে যাবে। তার আগে অবশ্যই কিছু ঘটা উচিত।

মানুষজন কেন এটি হতে দেয় না তার একটি কারণ হ'ল, তারা সর্বদাই জীবনের সাথে চুক্তি করার চেষ্টা করছে - সম্ভাব্য সেরা চুক্তিটি। কোন একদিন শঙ্করন পিল্লাই তাঁর নৌকায় মাছ ধরতে গেল। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর ছিপে কিছু একটা গাঁথা পড়ল এবং ঝট করে সে এটা বাইরে আনল। সে দেখল মাছটির রুপোলি এবং সোনালী রঙের পাখনা রয়েছে। এটা খুবই সুন্দর দেখতে ছিল। তিনি এটিকে নৌকায় রাখলেন এবং মাছটি প্রানের জন্য ছটফট করতে লাগলো।

তারপর, তাকে অবাক করে দিয়ে এটি বলে উঠল, "আমাকে নদীতে যেতে দাও। আমাকে আবার জলে ছেড়ে দাও। আমি তোমার তিনটি ইচ্ছে পূরণ করব। তুমি যা কিছু চাইতে পার, তবে আমাকে এখনই জলে ছেড়ে দাও।” শঙ্করন পিল্লাই কয়েক মিনিট ভাবল। মাছটি জীবনের জন্য ছটফট করছিল, ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তখন সে বলল, "ঠিক আছে, পাঁচটি ইচ্ছা করে দাও, আমি তোমাকে ছেড়ে দেব।” মাছটি বলল, "না, তিন।" ইতিমধ্যে তার আওয়াজ ক্ষীণ হয়ে আসছিল। তখন শঙ্করন পিল্লাই আরও কয়েক মিনিট ভাবল, "ঠিক আছে সাড়ে- চার।" মাছটি খুবই দুর্বল হয়ে পড়েছিল। সে বলল, "না, মাত্র তিন, আমি কেবল তিনটিই করতে পারি।” " তখন শঙ্করন পিল্লাই আবার বলল, "ঠিক আছে, চলো একটা চুক্তিতে আসা যাক - চারটি।" মাছটি আর কিছুই বলল না, এটি মারা গেছে।

জীবন খুবই সংক্ষিপ্ত। এর মধ্যে আপনি যদি চুক্তি করার চেষ্টা করেন, আপনি বোঝার আগেই এটি শেষ হয়ে যাবে। জন্মদিনগুলি মনে করিয়ে দেয় যে এটি শেষ হয়ে আসছে। এটি একটি ফুটো বস্তার মতো। কি ঘটছে বোঝার আগেই খালি বস্তাটি খসে পড়বে। জীবন তো সবসময় পেরিয়ে যাচ্ছে। যদি কেউ জাগরুক না হয়, যদি কেউ সমস্ত মনোযোগ তার অভ্যন্তরীণ কল্যানের দিকে না দেয়, তবে মৃত্যুর মুহূর্তে অনুশোচনা হবে। এবং আপনি জানেন না- আপনি আর কতগুলো জন্মদিন দেখতে পাবেন, তাই না?

 

 

আমি এখনও ঠিক করি নি কতগুলো দেখবো। তবে অন্তত আমার কাছে বেছে নেওয়ার সুযোগ আছে - আমি কতগুলো দেখতে পারি। আপনার কাছে এখনও কোন বিকল্প নেই। আপনার উপর অনেকগুলি শক্তি কাজ করছে। যে কোনও মুহুর্তে এটি ঘটে যেতে পারে। সুতরাং, এটি আমার জন্মদিন হোক বা আপনার জন্মদিন, বা অন্য কারও - প্রতিদিন এটি কারোর না কারো জন্মদিন - আসুন এটিকে কাজে লাগাই- থলেতে যে ফুটো আছে, সেটা খেয়াল করার জন্য। একদিন হয়তো এর থেকে জীবন বেরিয়ে যাবে। তার আগে অবশ্যই কিছু ঘটতে হবে।

১০০% কেন্দ্রীভূত

আপনার আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়াতে 100% কেন্দ্রীভূত হওয়ার অর্থ এই নয় যে আপনি অন্য কাজগুলো করতে পারবেন না। আপনি বাইরে যাকিছু করেন সেটা তো প্রয়োজনের খাতিরে। তবে আপনি বাইরে যা কিছুই করতে থাকেন - আপনি হাঁটছেন, কথা বলছেন, রান্না করছেন, খাচ্ছেন বা কাজ করছেন - অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াটি চালু রাখা যেতে পারে। এটি এমন নয়, যে সকালে যোগ, সন্ধ্যায় যোগ, বাকি সময়টা নির্বোধের মত জীবন যাপন করব - সেটা কোন কাজের নয়। যতক্ষণ না এটি প্রতি মুহুর্তে হয়, সার্থক কিছুই ঘটবে না।

আধ্যাত্মিক আকাঙ্ক্ষা একবার আসার পর- একে বিকশিত করার জন্য শুধু এটিকে চরম ভাবে তীব্র করে তোলা প্রয়োজন। আপনি কী করছেন সেটা কথা নয়, এটি কতটা তীব্রভাবে করা হচ্ছে সেটাই ব্যাপার। একবার যখন কিছু লোক জীবনের একটি বিশেষ দিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছিল, তখন যিশু বলেছিলেন, “ফুলের দিকে তাকিয়ে দেখ। তারা ঘুরছে না, তারা বুনে না, শ্রম করে না, কিন্তু তারা কত সুন্দর হয়ে উঠেছে তা দেখুন।' এটি জীবনের তীব্রতা- যা তাদেরকে সুন্দর করে তোলে। আপনার কাজের কারণে আপনি সুন্দর হয়ে উঠেন না। আপনি যাই করুন না কেন, যে তীব্রতার সাথে আপনি সেটি করছেন তাতেই আপনি সুন্দর হয়ে উঠছেন - সে আপনি বসে থাকুন, দাঁড়িয়ে থাকুন, খাবার খান, পরিবেশন করুন, ঝাড়ু লাগান, প্রাণায়াম করুন, ধ্যান করুন - তা যাই হোক না কেন।

Editor’s Note: Sadhguru delves deeper into the spiritual process and the role of a Guru in the ebook “A Guru Always Takes You For A Ride”, available at Isha Downloads. Pay what you wish and download it. Enter “0” or click “Claim for free” for a free download.