আধ্যাত্মিক সাধনা - মৃত্যুর মূল থেকে মুক্ত হওয়া

এই প্রবন্ধে সদগুরু বলছেন কীভাবে আধ্যাত্মিক সাধনা মৃত্যু সম্বন্ধে নয়, বরং তার থেকে মুক্ত হওয়া -যা মৃত্যুর মূল, যেটা হল আসলে জন্ম।
আধ্যাত্মিক সাধনা - মৃত্যুর মূল থেকে মুক্ত হওয়া
 

সদগুরু : মানবজাতির অধিকাংশের কাছেই মৃত্যু হ'ল জীবনের সবচেয়ে গভীর এবং রহস্যময় দিক; কারণ লোকে যে সমস্ত গল্পই শুনে থাকুক না কেন, তারা এখনও বুঝে উঠতে পারেনা এটা আসলে কি।  মৃত্যু যে কী, তা বিজ্ঞান বা দর্শন কেউই বুঝে উঠতে সক্ষম নয়।  

শরীর হল জীবন এবং মৃত্যু - আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া হ'ল আপনার বিষয়ে, যা জীবনও নয়, মৃত্যুও নয়। 

আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া মৃত্যুর ব্যপারে নয় - আপনি কিছু খুঁজছেন, যা মৃত্যুর থেকেও গভীরতর। মৃত্যু হল একটা পার্থিব ব্যাপার, এর মধ্যে কোনো গভীরতা বা রহস্য নেই। এটা এমন কিছু, যা লোকের সাথে বারংবার ঘটতে থাকে। মৃত্যুকে খুব রহস্যময় এবং গভীর বলে মনে হয়, কেবলমাত্র "স্বল্পমেয়াদী স্মৃতি লোপ"- এর কারণে। যদি আপনার স্মৃতি এরকম হত যে, প্রতিদিন আপনি যখন সকালে ঘুম থেকে উঠতেন, আপনার মনে পড়ত না যে আগের একটা দিন ছিল, আপনার মনে পড়ত না যে- আপনি আসলে ঘুমোতে গিয়েছিলেন, জানার মধ্যে কেবল জানতেন যে আপনি জেগে উঠেছেন, তাহলে প্রতিটি দিনই মনে হত - আপনি একটা বিস্ময়কর  জায়গায় আছেন এবং এটা খুবই রহস্যময় হত। কয়েক ঘণ্টার ঘুমই আপনার জীবনের সবচেয়ে রহস্যময় এবং গভীর ব্যপার হয়ে উঠতো, কেবলমাত্র এই কারণে যে আপনার মনে নেই - আপনি আসলে ঘুমোতে গিয়েছিলেন এবং  এখন জেগে উঠেছেন। মৃত্যুর রহস্য ও গভীরতাও ঠিক একইরকম।

 যখন আমরা বলি, "শিব হলেন বিনাশকারী", আমরা বলি না যে তিনি মৃত্যু ঘটান। তিনি মৃত্যুতে আগ্রহী নন। তাঁর কাছে জন্ম নেওয়া এবং মারা যাওয়া- খুবই পার্থিব বিষয়, জীবনের ভাসা- ভাসা একটা দিক। তিনি  যে শরীরে শ্মশানের ভস্ম মেখে থাকেন, তার একটা কারণ হ'ল- তিনি দেখাতে চান যে মৃত্যু তাঁর কাছে তুচ্ছ ব্যাপার। তিনি এটাকে কোন গভীর বা রহস্যময় ব্যপার বলে মানেন না। আধ্যাত্মিক সাধনা মৃত্যু সম্বন্ধীয় নয়। এটা হ'ল তা থেকে মুক্ত হওয়া- যা মৃত্যুর মূল , যেটা হল আসলে জন্ম। জন্ম থেকে মুক্ত হওয়া মানে স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যু থেকে মুক্ত হওয়া। 

এই জন্ম এবং মৃত্যু হল কেবল কুমোরের কাজকর্ম -  এক দলা মাটি নিয়ে, সেটাকে মানুষের আকার দেওয়া এবং অবশ্যই এটাকে হাঁটা- চলা করানো এবং কথা বলানো। এই কুমোরের ব্যবসা- যা কিছু সময় পরে পুতুলনাচে পরিণত হয়, এটা একটা সহজ কৌশল। দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নাটকটা জানা একরকম ব্যাপার। মঞ্চের পিছন থেকে নাটকটা জানা একেবারেই আলাদা ব্যাপার। যেই আপনি নেপথ্যে থেকে নাটকটা দেখতে শুরু করবেন, কিছুক্ষণ পরে আপনার আর আগ্রহ থাকবে না। আপনি হয়তো এর যন্ত্রকৌশল উপভোগ করতে পারেন, কিন্তু আপনি আর এর কাহিনী বা নাটকীয়তায় উত্তেজিত হবেন না, কারণ আপনি জানেন - কীভাবে এসবকিছু জড়ো করা হয়েছে। শুধুমাত্র যাদের স্বল্প-মেয়াদী স্মৃতি - প্রতিদিন তারা একই নাটকে এসে বসে, যেহেতু তারা আগের দিনের স্মৃতি ভুলে গেছে - তাদের জন্য এটা খুবই উত্তেজনাপূর্ণ এবং রোমাঞ্চকর। 

সুতরাং আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া জীবন বা মৃত্যুর ব্যাপারে নয়। শরীর হ'ল জীবন এবং মৃত্যু - আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া হল আপনার বিষয়ে, যা জীবনও নয়, মৃত্যুও নয়। 

 

 
 
  0 Comments
 
 
Login / to join the conversation1