রসায়ন থেকে প্রেম ও প্রেম থেকে রসায়ন

সদগুরু দৃষ্টিপাত করছেন কীভাবে সঠিক প্রকারের রসায়ন তৈরী করে প্রেমময় হওয়া সম্ভব অথবা কীভাবে প্রেমময় হয়ে উঠলে সংশ্লিষ্ট রসায়নকে তৈরী করা সম্ভব।
From Chemistry to Love And Vice Versa
 

সদগুরু দৃষ্টিপাত করছেন কীভাবে সঠিক প্রকারের রসায়ন তৈরী করে প্রেমময় হওয়া সম্ভব অথবা কীভাবে প্রেমময় হয়ে উঠলে সংশ্লিষ্ট রসায়নকে তৈরী করা সম্ভব।

সদগুরু: আপনার অনুভব করা প্রতিটি ভাব বা আবেগের পেছনে নির্দিষ্ট রসায়ন দায়ী। সে আপনি আনন্দিত হন বা দুঃখিত, বিচলিত বা শান্ত, আপনার রসায়ন ভিন্ন ভিন্ন ভাবে ঘটছে৷ এটা দুদিক দিয়েই কাজ করে – একটি আবেগ আপনার রসায়ন বদলে দিতে পারে এবং আপনার রসায়নের বদল আপনার আবেগকে বদলাতে পারে। আমরা যে ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাই, আমাদের রসায়নেও প্রাকৃতিকভাবে নির্দিষ্ট বদল হতে থাকে অথবা যেহেতু আমাদের রসায়ন বদলায় আমরাও সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞতার মধ্যে দিয়ে যাই। উদাহরণস্বরূপ, যদি আপনি উত্তেজিত হয়ে যান, আপনার রক্ত আরও দ্রুত ছুটবে এবং আপনার হৃদপিণ্ডও দ্রুত স্পন্দন করবে। কিন্তু যদি আপনার হৃদপিণ্ড দ্রুত স্পন্দন করতে শুরু করে, আপনিও অকারণে উত্তেজিত হয়ে পড়বেন। দুটোই সত্যি।

চিত্তবিভ্রম সৃষ্টিকারী ড্রাগ(হ্যালুসিনেটরী ড্রাগ) তৈরী করা হয়েছে এই নীতির উপর ভিত্তি করেই। মানসিক স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যার চিকিৎসাও চলে এই পথেই। যখন কেউ খুব উত্তেজিত হয়ে ওঠেন, তারা তাকে একটা ওষুধ দেন – একটা ট্রাঙ্কুইলাইজার (স্নায়ু শিথিলকারি ওষুধ) – এবং তিনি শান্ত হয়ে যান। এই ড্রাগগুলো কোনরকমে চাপা উত্তেজনাকে কমিয়ে দেয় রাসায়নিকভাবে৷ যেকোন রকমের ড্রাগ নেওয়া মানে হলো আপনার রসায়নের স্তরে প্রভাব ফেলা। অভিজ্ঞতা যাই হোক, তার সহায়ক এক রসায়ন থাকে। রসায়ন যেমনই হোক, তার ফলস্বরূপ একটা অভিজ্ঞতা থাকে।

আমরা কি রাসায়নিকভাবে প্রেম-ভালোবাসা তৈরী করতে পারি?

আমরা কি রাসায়নিক উপায়ে প্রেম তৈরী করতে পারি? ধরুন আমি আমার রসায়নে পরিবর্তন আনলাম, তাহলে কি আমি প্রেমে পরিণত হতে পারি? হ্যাঁ, সেটাই আমরা করি যোগ এর সাধনা বা অভ্যাসের মাধ্যমে। ভক্তিযোগের সাথে অন্য যেকোন রকমের যোগের – বিশেষত হঠযোগ ও ক্রিয়াযোগের, পার্থক্য হলো এই যে, ক্রিয়াযোগ ও হঠযোগের মাধ্যমে আপনি আপনার ভেতরের শক্তিগুলোতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন নিজের রসায়নে বদল আনতে, যাতে আপনার ভেতরের প্রকৃতি বা অভিজ্ঞতা বদলায়। ভক্তিযোগ দিয়ে আপনি প্রকৃতিটাকে বদলাচ্ছেন প্রেমময় হওয়ার মাধ্যমে, যাতে একদিন আপনার রসায়নও হয়ে ওঠে প্রেম।

ভক্তিযোগ দিয়ে আপনি প্রকৃতিটাকে বদলাচ্ছেন প্রেমময় হওয়ার মাধ্যমে, যাতে একদিন আপনার রসায়নও হয়ে ওঠে প্রেম।

সঠিক রসায়ন ছাড়া, কোনকিছু হওয়ার জন্য যতই চেষ্টা করুন না কেন আপনি কোথাও পৌঁছাবেন না। সে যতই আপনি বলুন না কেন, "আমি শান্তিপূর্ণ হতে চাই, আমি শান্তিপূর্ণ হতে চাই,"যদি আপনার রসায়ন উত্তেজনার হয়, সে যতই চেষ্টা করুন, আপনি কিছুতেই শান্তিতে পর্যবসিত হবেন না। এটা অসম্ভব। প্রাণায়াম, আসন, এবং ধ্যানের দ্বারা আমরা রসায়নকে বদলাচ্ছি। এটা বুঝতে হবে যে ধ্যান করে আমরা শান্ত হওয়ার চেষ্টা কিন্তু করছি না। আমরা রসায়নকে পরিবর্তিত করছি সেই বিশেষ প্রকারের রসায়নে যেখানে শান্তি হয়ে ওঠে অস্তিত্বের স্বাভাবিক প্রকাশ।

এর মানে হলো, যদি আপনি সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে নিজের রসায়নকে করে তোলেন "শান্তি" – একরকমের রসায়ন যা একজন ব্যাক্তিকে আনন্দিত করবে – তাহলে আপনার সহজাত অবস্থাটাই সেরকম হয়ে যাবে। এটা করার আরেকটা উপায় হলো একটা ভালোবাসার উপলক্ষ্য তৈরী করার মাধ্যমে, হয়ত সে ভগবান, একজন গুরু বা অন্য কোনকিছু যাঁর জন্য আপনার মনে প্রচন্ড আবেগ রয়েছে, যদি আপনি তাঁর প্রতি বিপুল পরিমানে ভালোবাসার আবেগ সৃষ্টি করেন, তাহলেও আপনার রসায়ন বদলাবে। দুটো উপায়ই সঠিক।

 

 

ভালোবাসা: শুধু বংশবিস্তারের এক উপায় নয়

যখন জীববিদ্যার বিশেষজ্ঞরা ভালোবাসা আর রসায়ন নিয়ে কথা বলেন, সেটা সম্পুর্ন আলাদা। যদি আপনি প্রকৃতিতে ঘটা সমস্ত কার্যকলাপকে দেখেন, সবকিছুই বংশবিস্তারকে কেন্দ্র করেই – আর কিছু না। ফুলগুলো আপনার প্রতি ভালোবাসায় ফুটছে না। আপনি হয়ত তেমনটা ভাবেন আর কবিরাও হয়ত তেমনই বলেন কিন্তু তারা বিকশিত হচ্ছে শুধু যাতে পরাগসংযোগ ঘটতে পারে, তারপর একটা বীজ আসবে আর আরেকটা গাছ বেড়ে উঠবে। ওটাই ওদের একমাত্র স্বার্থ।

যদি আপনার জৈবিক প্রবৃত্তি অতি সক্রিয় হয় তার মানে ভালোবাসা আপনার সাথে ঘটেনি।

যখন জীববিদ্যার বিশেষজ্ঞরা ভালোবাসা নিয়ে কথা বলেন, আসলে তিনি বংশবিস্তার নিয়ে কথা বলছেন। এটা শুধু প্রকৃতির এক কৌশল সবকিছুকে চলমান রাখার জন্যে। প্রকৃতি নিজেকে চিরস্থায়ী করতে চায়। যা কিনা মায়া নামে পরিচিত। এর ভেতরে নিজস্ব ব্যবস্থা আছে নিজেকে চিরস্থায়ী করার৷ কাউকেই কিছু করতে হবে না। এতে সৃষ্টিকর্তার হস্তক্ষেপেরও প্রয়োজন নেই, সেটাই সৃষ্টির সৌন্দর্য। এমনকি সৃষ্টিকর্তারও দরকার নেই, সবকিছুই স্বয়ংক্রিয়। সেটাই মায়ার প্রকৃতি।

কিন্তু যাকে আমরা প্রেম নামে অভিহিত করছি, একবার নিজের মধ্যে প্রকৃত প্রেম অনুভব করলে, আপনার জৈবিক প্রবৃত্তি আর শরীর অত্যন্ত তুচ্ছ হয়ে যায়। যদি আপনার জৈবিক প্রবৃত্তি অতি সক্রিয় হয় তবে ভালোবাসা আপনার সাথে ঘটেনি। যখন কারো জীবনে ভক্তি আসে, নিজের শরীরের গুরুত্ব তাঁর কাছে হয়ে ওঠে একেবারে নগণ্য। তিনি সেটাকে ছুঁড়ে ফেলে চলে যেতেও প্রস্তুত; তিনি থাকেন সেই রকম অবস্থায়। এই ধরনের ভালোবাসা আপনাকে বাঁধে না মায়ার চাকায়, এ আপনাকে তা থেকে মুক্ত করে দেয়।

Editor's Note: Namaskar Process: The many nerve endings in your palms make them very sensitive. By placing them together in a Namaskar, you can change your chemistry to foster love within.