ধর্মকে আমরা যেভাবে জানি, আগামী ১০০ বছরের মধ্যে তা বিলুপ্ত হয়ে যাবে

এখানে 2016 সালের 30 -শে মে টাইমস অফ ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত সদগুরুর একটি সাক্ষাৎকার থেকে উদ্ধৃত একটি অংশ দেওয়া হল।
“Religion, as we know it, will go down in 100 years…”
 

"একদিন এরকম ঘটেছিল। আমি কোন এক জায়গায় চোখ বন্ধ করে 25-30 মিনিট বসে ছিলাম। যখন চোখ খুললাম - আমার চারপাশে ভিড় জমে গেছে। কেউ তার ভবিষ্যৎ জানতে চায়; কেউ জানতে চায় তার মেয়ের বিয়ে কবে হবে……এই সমস্ত হাবিজাবি। আমি ভাবছিলাম এরা সব কোথা থেকে এলো? তখন তারা আমাকে বলল, 'আপনি এখানে ১৩ দিন ধরে একভাবে বসে রয়েছেন!' আমি যখন আমার পা দুটো খোলার চেষ্টা করলাম - দেখি আমার হাঁটু দুটো একেবারে আটকে গেছে। দু'ঘণ্টা ধরে মালিশ, গরম জল এবং আরো অনেক কিছু করার পর আমার পা দুটো খোলা গেল। আমি নাকি ১৩ দিন ধরে এক জায়গায় বসে আছি, কিন্তু আমার অনুভবে সেটা মাত্র ২৫-৩০ মিনিট, কারণ নিজের শরীর থেকে আপনি যত বেশি দূরে সরে যাবেন, আপনার উপর সময়ের আধিপত্য ততটাই কমে যাবে। এমন মানুষকে আমরা 'সময়াধিপতি' বলি। এমন একজন, যিনি কোনও ভাবে সময়ের সীমাকে ছাড়িয়ে গেছেন। একবার সময়কে আয়ত্তে এনে ফেললে, সময় আপনার কাছে কোন ব্যাপার নয়…." সদগুরুর কথা।

দারুন শোনাচ্ছে। কিন্তু যেটা আরও দারুণ সেটা হল তিনি যখন আপনাকে বলেন, "এটা এমন কিছু কৃতিত্ব নয়; যে কেউই এই স্তরের নৈপুন্য অর্জন করতে পারেন।" সত্যি? যে কেউ? "হ্যাঁ…," মুচকি হেসে তিনি বলেন, যা একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জ এবং আমন্ত্রণও, এটা আপনাকে প্ররোচিত করবে পরের প্রশ্ন করার জন্য এবং তারপর আর একটি এবং আর একটি….

সদগুরুর নিজস্ব বুদ্ধিদীপ্ত ভঙ্গিমায় এবং প্রজ্ঞায় ভরপুর এই ঘন্টাধিক কথোপকথনে, সদগুরু প্রকাশ করছেন জীবনের কিছু সংঘাত, উন্মোচন করছেন কিছু রহস্য এবং যে ভাবে আমরা যাপন করি সেই জীবন সম্পর্কিত কিছু রূঢ় সত্য খোলাখুলি মেলে ধরছেন। উদ্ধৃতাংশ।

প্র: আমরা এখন কৌতুহলী। কিভাবে আপনি সময়কে অতিক্রম করেন?

সদগুরু: আপনি সময়ের সীমা অতিক্রমণের চেষ্টা করেন না।আপনি যখন আপনার ভৌতিক প্রকৃতির সীমা অতিক্রম করে যান, আপনি স্বাভাবিকভাবেই সময়ের সীমা ছাড়িয়ে যান। মানুষ কিভাবে নিজের মধ্যেই সময়ের গণনা করেন? এটা শুধুমাত্র নিজের শরীরের মাধ্যমেই। তারা কিভাবে জানেন এটা এখন অপরাহ্ন? তারা প্রাতরাশ করেছিলেন, এখন এটা মধ্যাহ্নভোজের সময় - একটা খাবার থেকে আরেকটা খাবারের মধ্যেকার সময়ের গণনা আপনার শরীর করে। এক পূর্ণ মূত্রাশয় থেকে পরবর্তী পূর্ণ মূত্রাশয়, আপনি সময়ের গণনা করছেন। আপনার দৈহিক ক্ষমতা ফুরিয়ে যায় আর আপনার ঘুমের প্রয়োজন হয় - এটা সময়ে গণনার একটা উপায়।

আমি যদি আপনাকে এখানে বসিয়ে রাখি তিন ঘন্টা ধরে, আপনার শরীর চাইবে স্থান বদলাতে। ধরুন আপনার কোন শরীর নেই , আর আমি আপনাকে এখানে ১0 হাজার বছর ধরে বসিয়ে রাখলাম , তাতে সমস্যাটা কি? "সময়ের" একটা বোধ আপনাকে আপনার শরীর দিচ্ছে। আপনি যখন ঘড়ির দিকে তাকান, একটা চক্র মানে ১ ঘন্টা।চন্দ্র পৃথিবীর একবার পরিক্রমা করলে তাকে এক মাস ধরা হয় । পৃথিবী সূর্য পরিক্রম করলে, এটা হয় এক বছর। সবকিছুই চক্রাকারে আবর্তিত হচ্ছে, কারণ সেটাই প্রকৃতি।

প্র: আর ভৌতিক প্রকৃতির সীমার অতিক্রমণ আপনি কি উপায়ে করেন?

সদগুরু: সম্পূর্ণ যোগ-বিজ্ঞানটাই এই বিষয় নিয়ে। আপনার নিজের পরিচালন তন্ত্রকে মহাজাগতিক পরিচালন তন্ত্রের সঙ্গে কিভাবে সন্ধি স্থাপন করবেন । কেননা আপনার শরীরের সকল চক্র গুলোর কোন না কোন সম্বন্ধ আছে অস্তিত্বের বৃহত্তর চক্রগুলো - সৌরমন্ডল, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সঙ্গে। যদি এগুলো একই অক্ষরেখায় বিন্যস্ত থাকে, তাহলে আপনার শরীরের অনুভব হয়ে যায় যৎসামান্য আর আপনার শরীরের উপযোগ আপনি যেভাবেই চান সেভাবেই করতে পারেন। যদি আপনার শরীরের অনুভব অত্যন্ত তীব্র হয়, তাহলে শরীরের প্রকৃতি বাধ্যকারী হয়ে ওঠে। সে আপনাকে বারবার একই জিনিস করতে বাধ্য করে। আর আপনি যদি ওই এক জিনিসটা না করেন তাহলে আপনাকে নিপীড়ন করতেই থাকবে।

আপনি যতটাই গভীর ভাবে শারীরিকের সঙ্গে নিজেকে চিহ্নিত করেন, ততটাই আপনি সময়ের কাছে লভ্য।

আপনি যতটাই গভীরভাবে শরীরের সঙ্গে নিজেকে চিহ্নিত করেন ততটাই আপনি সময়ের কাছে লভ্য। যে সকল লোকেরা শারীরিক কাজ করেন তারা সর্বদাই ঘড়ি দেখতে থাকেন। তাদের জন্য যেন সময় আর কাটে না। যদি কোন একজন একটু বুদ্ধিজীবী হয়ে ওঠেন, আর তারা কোন বই পড়তে শুরু করেন, তাহলে হঠাৎ তাদের সময় জ্ঞান থাকবে না। ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যায় এমনিই। আপনি যদি বৌদ্ধিককে অতিক্রম করে যান এবং ধ্যানশীল হয়ে পড়েন, তখন সময় শুধুই কেটে যায় আপনার অজান্তে।

আমার দিনগুলো এরকম যে আমি যদি কোন প্রোগ্রামে বসি, পরবর্তী দশ-বারো ঘন্টা আমি একই জায়গায় বসে থাকি। প্রত্যেকেই শৌচালয় বিরতি নেয়, জল পান বিরতি নেয়, কিন্তু আমি পুরো সময়টাই বসে থাকি। এটা কোন কৃতিত্বের কাজ নয়। এটা শুধু মাত্র এই যে শরীরের আপনার উপর প্রভুত্বের ক্ষমতা সেরকম নেই। আপনি শরীরকে ব্যবহার করতে সক্ষম কিন্তু শরীর আপনাকে ব্যবহার করতে অক্ষম। এরকম থাকাটাই বাঞ্ছনীয়।

প্র: এই কারণেই কি আপনি যৌগকে আধ্যাত্মিকতার একটা বড় অংশ হিসেবে?

সদগুরু: আপনার ভৌতিক দেহ একটি সহজ জিনিস নয়। এটা একটা দারুন যন্ত্র। আপনি যদি একে পূর্ণ সচেতন অবস্থায় না রাখেন, আপনি জীবনকে খুব গভীরভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন না।

সম্প্রতি আমি তিরুপতিতে ছিলাম,যখন আমার গাড়ির সামনে এসে একটা স্কুল বাস থামল। আমি দেখলাম ১০ জনের মধ্যে ৫ জন বাচ্চাই মেদবহুল ছিল। আজ একটা স্কুল পড়ুয়া শিশুকে ভীষণভাবে বীতস্পৃহ দেখায়। দশ বছর বয়সের একজন সারা ব্রহ্মাণ্ডকে দেখে ফেলেছে তার ফোনের স্ক্রিনে - সে ভাবে সে সব কিছুই জানে। এসব শিশুরা জীবনে কি করতে চলেছে? তারা আগে গিয়ে হয়তো একটা চাকরি পাবে আর কিছু টাকা রোজগার করবে - কিন্তু এইটাই কি সব? তারা একটা গাছে চড়তে, দৌড়াতে, নিজেদের মধ্যে আনন্দ করতে বা নাচ করতে পারেনা।স্বাভাবিকভাবেই বীতস্পৃহ শিশুবস্থা তারা বীতস্পৃহ প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠে। এরপর তারা চাইবে তাদেরকে কিছু একটা প্রবলভাবে প্রভাবিত করুক, তাই তারা মদ এবং মাদকদ্রব্যের দিকে ঝুঁকবে। অন্য কোন কিছুই তাদের অবস্থার পরিবর্তন করে না, তাই তারা নিজেদের শরীরে রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করেন।

প্র: তাহলে কি কোন রসায়ন ছাড়াই নিজের অন্তরকে নাড়া দেওয়া যাই?

সদগুরু: আমি আপনাদের লক্ষ লক্ষ এমন মানুষ দেখাতে পারি যারা শুধুমাত্র তাদের চোখ বন্ধ করেন, আর পরমানন্দের অশ্রু তাদের গাল বেয়ে ঝরে পড়ে - আপনাকে শুধু আপনার নিজের সঙ্গে সংস্পর্শে থাকতে হবে। কেউ কেউ হয়তো মদ এবং মাদকদ্রব্যের সমস্যাটি নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবেন, কিন্তু মোদ্দাকথায় এর সারমর্ম হল ঠিক এই - মানুষ আজ জীবনের বৃহত্তর একটি উপলব্ধির খোঁজ করছে। প্রত্যেকেই চায় জীবনের একটা বড় অংশের ভাগ। আপনারা যদি তাদের অন্য কোন রাস্তা না বলে দেন তাহলে বোতলই তাদের অবলম্বন হবে। কিছু সময়ের পর বোতল আর কাজ করবে না এবং তারা অন্য আরো জোরালো বিকল্পের ব্যবহার করবে। এটা হয়তো তাদের মস্তিষ্ক ঝাঁঝরা করে দেবে কিন্তু সেটা কোন ব্যাপার নয় কারণ মানুষ আরো কিছু বেশি উপলব্ধি করতে চায় - এমনকি যদি এটি তাদের মৃত্যুও ঘটায়। মানুষের আরো বেশি কিছু উপলব্ধি করার আকাঙ্ক্ষা এতই জোরালো!

প্র: তাহলে আধ্যাতিকতাই কি সেই আকাঙ্ক্ষার উত্তর?

সদগুরু: আজ মনুষ্য জাতির বুদ্ধিমত্তা প্রদীপ্ত যা আগে কোনও দিন হয়নি। মানব জীবনের ইতিহাসে পূর্বের যেকোনো সময়ের অপেক্ষা অনেক বেশি সংখ্যক মানুষ এখন স্বচিন্তায় উদ্বুদ্ধ । আজ, এমনকি ভগবানও যদি আপনার সঙ্গে কথা বলেন, আর যদি তিনি যুক্তিসঙ্গত না হন, আপনি সেটা স্বীকার করবেন না। একটা সময় ছিল যখন মানুষ মেনে নিত। তাহলে দেখা যাচ্ছে স্বর্গ অনেকভাবেই টুকরো টুকরো করে ভেঙে পড়ছে। ঠিক এই সময়ে হয়তো এটা ঘটছে ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে, কিন্তু ক্রমশ এটা একটা সুদূরব্যাপী বিস্ময়কর ঘটনা হয়ে উঠবে।

আজ, এমনকি ভগবানও যদি আপনার সঙ্গে কথা বলেন, আর যদি তিনি যুক্তিসঙ্গত না হন, আপনি সেটা স্বীকার করবেন না। একটা সময় ছিল যখন মানুষ মেনে নিত।

আমার অনুমান, আর 80 থেকে 100 বছরের মধ্যে, সংঘটিত ধর্মের বর্তমান ধাচা লুপ্ত হয়ে যাবে। অতীতের স্বর্গ গুলোর একটা মানে ছিল যখন মানুষ কত শোচনীয় অবস্থার মধ্যে জীবন কাটাতো। আর আজ আমরা স্বর্গের থেকে আরো ভালো জীবন যাপন করছি, তাই মানুষ আপনাকে বলবে, "আমি স্বর্গে যেতে চাই না। এই ভালো।" কিন্তু মানুষের আরো বেশি কিছু অনুভব করার ব্যাকুলতা দূর হবে না। যদি আমরা একটা প্রজন্মের মানুষ হিসেবে প্রত্যেকটি মানুষের জন্য একটা শক্তিশালী অন্তরোপলব্ধি ঘটাবার আপ্রাণ চেষ্টা না করি, জনসংখ্যার শতকরা 90% মানুষ মদ এবং মাদকদ্রব্যের দিকে এগোতে থাকবে - আপনি এটা রুখতে পারবেন না।

এই অবিশ্বাস্য ক্রম বিবর্তন যা আপনাকে একটি অ্যামিবার স্তর থেকে এই রকম স্তরের বুদ্ধিমত্তা এবং সামর্থ্যে নিয়ে এসেছে এখান থেকে সমগ্র মানবজাতি পিছনে ফিরে যাওয়ার আগে - বিশ্বে একটা বিজ্ঞানসম্মত প্রাসঙ্গিক আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া ঘটা নিশ্চিত ভাবে প্রয়োজন।

প্র: যদি কেউ একজন নাস্তিক হন এবং নির্দিষ্ট কোন কিছুতে বিশ্বাস না করেন?

সদগুরু: নাস্তিক এবং আস্তিকেরা দুটো আলাদা ধরনের লোক নন। উভয়েই এমন কিছুর বিশ্বাসী যেটা তারা নিজেরাই জানেন না। সত্য কি তার অন্বেষণের জন্য উভয়েরই না আছে সাহস আবার না আছে প্রতিবদ্ধতা। তারা কিছু একটা ধরে নিতে চায়। তারা কি ধরনের সংস্কৃতিতে প্রতিপালিত হয়েছেন তার উপর নির্ভর করে, একজনকে মনে হয় ইতিবাচক ধারণা, অন্যজনকে মনে হয় নেতিবাচক। তারা বাস্তব কি কোন ভাবেই জানেন না।

একজন আস্তিক অথবা একজন নাস্তিক হওয়ার পরিবর্তে আপনি যদি যথেষ্ট সোজা পথের মানুষ হন নিজেকে এই কথা বলার জন্য, "আমি যেটা জানি, সেটা জানি, আমি যেটা জানি না, সেটা জানি না," মানব জীবনের অস্তিত্বের প্রকৃতিটাই হল এমন যে আপনি জানতে চাইবেন, আপনি আপ্রাণ চেষ্টা করবেন জানবার, আপনি জানার জন্য খুঁজে বেড়াবেন - আর আপনি খুঁজে পাবেন।

প্র: যাই হোক আমাদের প্রজন্মের সবথেকে বড় সমস্যা গুলো এখনো অবধি দৈনন্দিন বাস্তবতা - কর্মক্ষেত্রে উদ্বেগ, পদোন্নতি যা কখনোই আসেনা, ভয়ঙ্কর বস!

সদগুরু: কিছু সময় আগে আমি মুম্বাইয়ে ছিলাম। কোন একজন খুব গুরুত্বপূর্ণ পদাধিকারী এক ব্যক্তি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেন, "সদ গুরু আমি এটা আর নিতে পারছি না। আমার এই বস আমার জীবনটাকে জীবন্ত নরকে পর্যবসিত করেছে।" আমি বললাম, "আপনি যেন চাকরী থেকে বরখাস্ত হন।" তিনি আতংকে দিশেহারা হলেন: "সদগুরু, এ আপনি কি বলছেন।" আমি তাকে বললাম, "কেন আপনি চাকরির যন্ত্রণা ভোগ করছেন? আপনি যেন চাকরী থেকে বরখাস্ত হন। যান সমুদ্র তীরে গিয়ে হাঁটাহাঁটি করুন।" যদি আপনার চাকরি থাকে, আপনি অসুখী। এমনকি চাকরি চলে গেলেও আপনি অসুখী!

আপনি যদি সত্যি সত্যি আপনার পছন্দের কাজ করেন, আপনি যদি আপনার কাজকে বিশ্বের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে মনে করেন, তাহলে আপনি সেই কাজ আনন্দের সঙ্গে করবেন।

এটা এমন কিছু যা আমাদের স্থির করা উচিত। আপনি কি একটা জীবিকা নির্বাহ করতে চান, নাকি এর মধ্যে থেকে একটা জীবন তৈরি করতে চান? যখন একটা কীট , একটা পোকা এবং একটা পাখি এটা এত সহজেই করতে সক্ষম, তখন এত বড় একটা মস্তিষ্ক নিয়ে জীবিকা অর্জন করা খুব একটা বড় ব্যাপার নয়। একমাত্র সমস্যা হল কে আপনি অন্য কারুর মত জীবিকা নির্বাহ করতে চান, তাই আপনি চাকরিতে ঢুকে পড়েন। অন্য কেউ যে গাড়ী চালাচ্ছে আপনি সেই গাড়ি চালাতে চান, কে আপনি কিছু ব্যবসা করেন। আপনি অন্য কোন জনের বাড়ির মত বাড়িতে থাকতে চান, তাই আপনি এই জগাখিচুড়ীর মধ্যে পড়েন। আপনি বেড়ে ওঠেন অনেক কিছু করা শিখতে শিখতে কিন্তু সব ভুল কারণে করতে। আপনি সত্যিই যেটা করতে চান সেটাই করছেন না।

যখন আমি বলি "সত্যিই করতে চান", আমি এটা একটা খেয়াল বলে মনে করি না। আপনি যদি আপনার সত্যি সত্যি পছন্দের কাজ করেন, আপনি যদি আপনার কাজকে বিশ্বের জন্য একটা গুরুত্বপূর্ণ অবদান বলে মনে করেন, তাহলে আপনি সেই কাজ আনন্দের সঙ্গে করবেন। মানসিক চাপ বা উদ্বেগ বলে কিছু থাকবে না। কিন্তু আপনি যদি এমন কিছু করেন যে আপনার পছন্দের নয়, কারণ আপনি কিছু পেতে পারেন, আমি শব্দটা ব্যবহার করতে চাইনা, কিন্তু আপনি এক রূপ, নিজেকে বিক্রি করে দিয়েছেন।

প্র: কিন্তু " বিশাল কিছু করো"এটাই হয়েছে এই প্রজন্মের চালনা শক্তি। আমরা এটাকেই বলি আকাঙ্ক্ষা।আমাদের কেউ কখনও বলেনি যে এটা খারাপ জিনিস।

সদগুরু: ঠিক এই মূহুর্তে আপনার সম্পর্কিত সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল এই যে আপনি জীবিত । আপনি যদি না জানেন কিভাবে উপভোগ করতে হয় এখানে ঘটমান সব থেকে বৃহৎ বিস্ময়কর ঘটনা, যেটি হল জীবন, তাহলে আপনি অন্য কিছু কিভাবে উপভোগ করবেন? আপনি যদি সত্যিই এটা উপভোগ করতে থাকেন, তখন বাকি অন্য সবকিছু নিতান্তই প্রাসঙ্গিক, সিদ্ধান্তের কারণ নয়। আমি আজকে একটা গাড়ি চড়তে পারি, কাল যদি আমার কাছে একটা বাইসাইকেল থাকে - আমি সেটা চড়বো-এটা এমন কি বড় ব্যাপার? আপনি নিজে যে জীবনটা তার সত্যি কারের মূল্য আপনি জানতে পারেননি, তাই আপনি চেষ্টা করছেন যেসব জিনিসের কোন মূল্য নেই সেসব জিনিসে মূল্য যোগ করার।

আবার দৈনিক কর্মসূচি কুড়ি ঘণ্টারও বেশি সময় জুড়ে চলে।আমি যদি এক বিছানায় একবারের বেশি দুবার শুতে পাই তাহলে সেটা হবে বিলাসিতা। আমাকে দেখে কি আপনার মনে হয় আমি উদ্বিগ্ন? আমি কি উৎকণ্ঠায় মারা যাব? কখনই নয়! আমি ক্লান্তিতে মারা যেতে পারি কিন্তু এটা নিশ্চিত যে বৃতস্পৃহায় মারা যাব না। বৃতস্পৃহায় মৃত্যু বড়ই ভয়ংকর। জীবনকে নিয়ে যদি আপনি সচেতন থাকেন, তাহলে আপনার এটা ভাবা উচিত নয় যে জীবন থেকে আপনি কি নিংড়ে নেবেন - আপনার দেখা উচিত জীবনে আপনি কিভাবে অংশগ্রহণ করবেন

প্র: তবে, জীবনের প্রতি আমরা সচেতন - শুক্রবার গুলোতে! :)

সদগুরু: ধন্যবাদ ভগবান! শুক্রবার, তাই কি? লোকেরা আমাকে খুব জিজ্ঞাসা করে কর্মজীবনের ভারসাম্য সম্বন্ধে। আমি বলি কর্ম যদি জীবন না হয় তাহলে কোরো না। আমার কোন সাপ্তাহিক অবকাশ নেই - আমি সপ্তাহের সাত দিনই কাজ করি, ৩৬৫ দিন। আমাকে দেখে কি মনে হয় আমার ছুটির প্রয়োজন আছে? আপনি যদি সত্যিই তাই করেন যা আপনার পছন্দ, তাহলে তো সারা জীবন ধরেই আপনার ছুটি। সুতরাং আপনার জীবনকে একটা অবকাশে পরিণত করুন আপনার যা পছন্দ তাই করে।

আনন্দ একটা বীমা। আপনি যখন আনন্দময়, তখন প্রত্যেকে কাছে আপনি অপূর্ব।

জীবন স্বয়ং একটা উদ্দেশ্য। বড় প্রশ্নটা হল আপনি কতটা প্রাণোচ্ছল? আপনি যখন পাঁচ বছরের ছিলেন, আপনি কত প্রাণোচ্ছল ছিলেন? আর আজকে আপনি কত প্রাণবন্ত? দিনের মধ্যে অন্তত একবার হিসেবে রাখুন! আপনি যদি হিসেব না রাখেন আপনার জীবনের ব্যবসায় লাল বাতি জ্বলবে। অন্ততপক্ষে শুতে যাওয়ার আগে শুধু দেখুন: গতকালের থেকে আজকে কি আপনি আরো ভালো একজন মানুষ হয়েছেন ?"আরো ভালো" মানে আমি এটা বলতে চাই না যে আপনি কোন কাজের মতন কাজ করেছেন কিনা অথবা কাউকে সাহায্য করেছেন কিনা। আমি নৈতিক দিক দিয়ে বেশি ভালো হওয়ার কথা বলছি না। একটা জীবন হিসেবে, আপনি কি আরেকটু বেশি আনন্দময়।

আনন্দ হল একটা বীমা। আপনি যখন আনন্দময় থাকেন তখন আপনি প্রত্যেকের কাছে অপূর্ব। আপনি আপনার অর্থহীন টাকা পয়সার হিসেব রাখছেন। আপনি আপনার জীবনের হিসেব রাখেন না কেন? আপনার অর্থ আপনার কাছে জীবনের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্র: তাহলে, এর সমাধানটা কি?

সদগুরু: ঘুরে অন্তর্মুখী হন নিজের মঙ্গলের জন্য, বহুর্মূখী নয়। আপনি যদি স্বভাবতই পরমানন্দময় হতেন, তাহলে আপনি কি করতেন? আপনি কেবলমাত্র সেটাই করবেন যেটা প্রয়োজন। ঠিক এখনি আপনি কি করেন আপনার আনন্দকে পাওয়ার জন্য? আপনি সেটাই করেন যেটা আপনি ভাবেন আপনাকে সেই আনন্দ এনে দেবে। তাই, বিশ্ব জগতের রস নিংড়ে বার করার চেষ্টা থেকে পাওয়া মানবিক অনুভবকে বিপরীত দিকে নিয়ে যাওয়া যাতে করে এই জীবনটাকে এমনভাবে উন্নত করা যেন এই জীবনটাই স্বয়ং রসে পরিপূর্ণ হয় - এটাই সমাধান।

Editor's Note: Rooted in the timeless wisdom of the yogic sciences, Isha Kriya is a yogic practice created by Sadhguru to help an individual get in touch with the source of his existence, to create life according to his own vision and ambition. Available as a free guided meditation online and with written instructions as well, it has the potential to transform the life of anyone who is willing to invest just a few minutes a day.