করোনাভাইরাস লকডাউন - একঘেয়েমি কাটাবো কীভাবে?

কি করবেন যখন ঘরে বন্দী আর টিভি দেখতে ও নেট সার্ফ করতে একঘেয়ে লাগছে? সদগুরু ব্যাখ্যা করছেন - কেমন ভাবে একঘেয়েমি সারাবেন।
Sadhguru Wisdom Article | Coronavirus Lockdown – How to Deal with Boredom
 
ieo-blog-mid-banner

প্রশ্ন: সদগুরু, আমি সবসময় ভাবতাম যে আমি আমার সারা জীবন নেটফ্লিক্সের শো দেখে কাটাতে পারি, কিন্তু লকডাউনের গত কয়েকদিনে, ইন্টারনেটের সবকিছু আমার সম্পূর্ণ একঘেয়ে লাগছে।

সদগুরু: একঘেয়েমি একটা মানসিক ব্যাপার, অস্তিত্বমূলক নয়। যদি আপনার মাথার মধ্যে ফালতু জিনিসপত্র ঘুরতে থাকে, আপনার একঘেয়ে লাগবে। আপনি যদি এখানে বসে চমৎকার সব বিষয়ে ভাবেন, আপনি চনমনে হয়ে উঠবেন। আপনার মাথার মধ্যে কি ঘটছে সেটা আপনার নাটক। আপনি যদি নিজেই নিজের নাটকে বিষাদগ্রস্ত হয়ে পড়েন, কল্পনা করতে পারছেন -যাঁরা আপনার সাথে এই তিন সপ্তাহের জন্য আটকে পড়েছেন তাঁদের দশা/ অবস্থা কি হচ্ছে? আগে নানান রকমের বিনোদন ছিল যাকে আমরা কাজ, শপিং আর অন্যান্য সামাজিক দায়িত্ব বলে থাকি। এখন লোকজন আপনার নাটকের সাথে আটকে পড়েছেন।

প্রতি দশ মিনিটে একটা দু-মিনিটের বিরতি নিন এর থেকে; এতে করে আপনি নিজের সাথে ভারী চমৎকার কিছু করবেন।

সমস্ত টেলিভিশন চ্যানেল কিছু মিনিটের ব্যবধানে একটা বাণিজ্যিক বিরতি নেয়। আমি জানি আপনি আপনার নাটক বন্ধ করতে পারবেন না, কিন্তু এটুকু অন্তত করুন আপনার নাটকের সাথে; প্রতি দশ মিনিটে একটা দু-মিনিটের বিরতি নিন, এতে করে আপনি নিজের সাথে ভারী চমৎকার কিছু করবেন।

কি করবেন যখন আপনার একঘেয়ে লাগছে

আমি যদি আপনাকে কিছু একটা করতে বলি, আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন, "কিভাবে (করব)?" কিন্তু আমি যদি বলি "কিচ্ছু করবেন না", আর আপনি জিজ্ঞেস করেন, "কিভাবে কিচ্ছু না করব?" তখন আমরা কি করি? কিচ্ছু না মানে কোন কিছু নয়, কাজেই এটা সেভাবে শেখানো যায় না। কিছুই নয় মানে, কিছুই নয়। সেটা কিভাবে শেখানো যায়? কিচ্ছু না করা মানে হল আপনার চারপাশে যা কিছু ঘটছে তার থেকে আপনি নিজের জড়িত থাকাকে প্রত্যাহার করছেন, আপনি ওতে আর লিপ্ত নন। আপনার শারীরিক ও মানসিক সক্রিয়তাও এর মধ্যে পড়ে, কারণ এই দুটোই আপনি সংগ্রহ করেছেন বাইরে থেকে।

এরকম ভাববেন না যে আপনার কাছে জীবন অথবা মানুষজন একঘেয়ে হয়ে গেছে - আপনার কেবল নিজের চিন্তাগুলো একঘেয়ে লাগছে , যা আপনার মধ্যে ঘটে চলেছে;

আপনার শরীর যা বলে বলুক - আপনি চুপ করে বসুন। আপনার মন যা বলছে বলুক কিন্তু আপনি বসে থাকুন, ওতে জড়িয়ে না পড়ে। কোনো নির্দিষ্ট ভাবনার পেছনে ছুটবেন না যা আপনি মনে করেন ভালো, তেমনি যেটা খারাপ মনে করেন সেটাকে এড়িয়ে যাওয়ারও চেষ্টা করবেন না। আবার এটাও ভাববেন না যে এই সময়টাকে দারুণভাবে ব্যবহার করবেন আর মন কে অতিরিক্ত কাজ করাবেন। আপনি সম্পূর্ণ নতুন এক সম্ভাবনাকে কোনভাবেই ভেবে উদ্ভাবন করতে পারবেন না; চিন্তা করে আপনি কেবল যা ইতিমধ্যেই আছে তার উন্নতিসাধন করতে পারেন । জীবনের নতুন মাত্রাগুলো আপনার দৃষ্টিগোচর হয় আপনি খুঁজছেন বলে নয় - যা আপনি জানেনই না, সেটা আপনি খুঁজবেন কিভাবে? কেবলমাত্র এই যে আপনি যদি নিজের বর্তমান পরিস্থিতিতে ডুবে না থাকেন , নতুন সম্ভাবনাগুলো দেখা দেয়। সেগুলো সবসময়ই আছে, কিন্তু তারা এখন দৃষ্টিগোচর নয় কারণ আপনি আপনার অতীত ও বর্তমান পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ নিমজ্জিত। দশ বছর আগে যা ঘটেছিল, সেগুলো এখনো আপনার মাথায় ভোঁ ভোঁ করছে। আপনার এইসব তামাশা করা সাজত যদি আপনার আয়ু দশ লক্ষ বছর হোতো। কিন্তু আপনি যদি পূর্ণ জীবনও বাঁচেন তাও এটা খুবই স্বল্পস্থায়ী জীবন। আর এখন তো এই ভাইরাস আপনাকে চৌদ্দ দিনে শেষ করার হুমকি দিচ্ছে, যদি আপনি যত্ন না নেন।

যখন একঘেয়েমি হানা দেয়, মনোযোগ দিন!

আপনার চারপাশে এক খুবই বিস্ময়কর রকমের সূক্ষ্ম ও জটিল সৃষ্টি ছড়িয়ে রয়েছে। এর মধ্যে, আপনার একঘেয়ে লাগছে? এ তো অবিশ্বাস্য! আপনি যদি একটা পাতার দিকে মনোযোগ দেন, আপনি তার দিকে তাকিয়ে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিতে পারবেন কারণ এটা এতো নিগূঢ় আর সূক্ষ্ম। পিঁপড়েরা আছে, পোকা, পাখি, জন্তুরা আছে - একটা গোটা ঘটমান জীবন - আর আকাশের এই সুবিশালতা। আপনি যদি যেগুলো অস্তিত্বগত দিক দিয়ে সত্যি সেই মাত্রাগুলোর সাথে লিপ্ত হোন, একঘেয়েমির কোনো জায়গাই নেই কারণ এটা বড় বেশি চমৎকার বিস্ময়। যেহেতু আপনি শুধুমাত্র আপনার মাথার মধ্যে ঘটতে থাকা তুচ্ছতায় লিপ্ত , আপনার একঘেয়ে লাগছে। এরকম ভাববেন না যে আপনার জীবন অথবা মানুষজন একঘেয়ে লাগছে - আপনার শুধু নিজের চিন্তাগুলো একঘেয়ে লাগছে, যা আপনার মধ্যে ঘটে চলেছে; আপনি জানেনও না আপনার চারপাশে কি ঘটছে।  

একঘেয়েমি ও মৃত্যু

একঘেয়েমি মানে একরকম ভাবে আপনি মৃত্যুকে চাইছেন। কোন এক ভাবে আপনি বলছেন যে জীবন বাঁচার যোগ্য নয়। "না না অমি তো কেবল দশ মিনিটের জন্য একঘেয়ে বোধ করছিলাম"। হ্যাঁ, ঐ দশ মিনিটের জন্য আপনি মৃত্যুকে সাধছেন। এই শরীর, এই সমগ্র পদ্ধতি, এমনভাবে গঠিত যে আপনার সচেতনতা, কেমন ভাবে আপনি ভাবেন, বোধ করেন আর জীবনকে দেখেন, সেই বার্তাই আপনার সমগ্র শরীরতন্ত্রে যায়। কি ধরণের বার্তা শরীরতন্ত্রের মধ্যে পৌছচ্ছে, তা-ই নির্ধারণ করে এটি কেমন বলিষ্ঠ, সুসংহত, সংবেদনশীল আর কতখানি সম্ভাবনাময়। আপনার গোটা তন্ত্রটি চলছে একটা বিশেষ রকমের সফ্টওয়্যারের দ্বারা, কিন্তু আপনি হলেন এক অপটু সফ্টওয়্যার ডেভলপার যিনি এক দিনে পাঁচবার একঘেয়ে বোধ করেন, প্রতিবার দশ মিনিটের জন্য। এই সবকটি দশ মিনিটের জন্য আপনি বলেছেন, "জীবন বাঁচার যোগ্য নয়" আর এই বার্তাটি সর্বত্র পৌঁছোচ্ছে।

আপনি যখন বলেন, "আমার ভালো লাগছে না", আপনি জীবনের প্রতি "না" হয়ে আছেন। আপনি যখন রেগে যান, হতাশ বা বিরক্ত হন, আপনি "না" হয়ে যান জীবনের প্রতি। এবার আপনার শরীরতন্ত্র, দেহের ধরণধারণ, আর মনের প্রলাপ আপনাকে ব্যস্ত রাখবে বাকী জীবনটা, কারণ এটা একটা সমস্যা হয়ে উঠেছে। যোগ-এর ধারণাটাই হল 100 শতাংশ "হ্যাঁ" হয়ে ওঠা, এমনভাবে যে আপনি এই শরীরটাকে আর মনের পন্থাকে পাশে সরিয়ে রাখতে পারেন এবং জীবনের বৃহত্তর সম্ভাবনাগুলো দেখার জন্য এদেরকে ভিত্তি হিসাবে ব্যবহার করতে পারেন । এটা একটা ভালো সময়, তিন সপ্তাহ সাধনার সময়। এটা একঘেয়েমির সময় নয়, এটা নেটফ্লিক্সের সময় নয়, এমনকি ভাইরাসবিদ্যায় আপনার পিএইচডি করে নেবারও সময় নয়। এটা জীবনের প্রতি 100শতাংশ "হ্যাঁ" হয়ে ওঠার সময়, কারণ ঐ পথেই জীবনের সম্ভাবনা গুলো আপনার জন্য খুলে যাবে। নয়তো " হ্যাঁ, না, হ্যাঁ, না" - বলতে থাকলে, জীবন বুঝতেই পারে না -আপনি এটা চান, কি চান না। কারণ এটা সমস্ত বার্তাই আপনার থেকে নিচ্ছে, আর দিনের শেষে বুঝেই উঠতে পারছে না আপনি কি চান। এখানে কাজ করছে এমন সবকিছুর কাছে এটা খুব স্পষ্ট করে তুলুন যে আপনি জীবনের প্রতি একশো শতাংশ "হ্যাঁ"।

 

Editor’s Note: Find more of Sadhguru’s insights in the book “Of Mystics and Mistakes.” Download the preview chapter or purchase the ebook at Isha Downloads.

ieo-banner

 
 
  0 Comments
 
 
Login / to join the conversation1