আধ্যাত্মিক পথে চলতে নাড়ির বন্ধন ছিন্ন করা কি আবশ্যক? নিযুক্তি বনাম আসক্তি

পরিবারের সাথে আপনার নাড়ির বন্ধনটাকে কি কেটে ফেলতে হবে? সদগুরু বলছেন নাড়ির বন্ধন কাটবার কোনো প্রয়োজন নেই, শুধু এটুকু নিশ্চিত করুন আপনি একে প্রসারিত করেন প্রতিটি প্রাণীকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য।
Time to Cut the Cord? Involvement vs Entanglement
 

প্র: আমার পক্ষে মুশকিল হচ্ছে এই নাড়ির বন্ধনটা কাটা। আমার পরিবার, আমার ছেলে মেয়েদের সঙ্গে আমার বন্ধনের কারণে - আমার আপনজনদের বৃত্তের মধ্যে যা কিছু ঘটছে তা নিয়ে আমি খুব সহজেই বিচলিত হয়ে পড়ি। অনুগ্রহ করে আমাকে এই ব্যাপারে সাহায্য করুন।

সদগুরু: আমি কখনই বলিনি আপনাকে নাড়ির বন্ধন কাটতেই হবে। দুর্ভাগ্যবশত এই মুহূর্তে ব্যাপারটা শুধু এই যে, আপনার মাতৃত্বের নাড়িটা খুবই ছোট। এটাকে অল্প খানিকটা বড়ো করুন। শুধু মুষ্টিমেয় কয়েকজনের বদলে একে যুক্ত করুন এই পৃথিবীর প্রত্যেকটা প্রাণের সঙ্গে।

কেন আপনি আপনার নাড়ির বন্ধন কাটতে চান? আপনার নাড়ি কাটবার কোন কারণই নেই। নিযুক্ত থাকা আর আসক্ত থাকা এ দুটোর মধ্যে পার্থক্য আছে। নিজেকে জানবার একমাত্র উপায় হল নিযুক্ত থাকা। এটা শুধু আধ্যাত্বিকতার ব্যাপার নয়। আপনি নিযুক্ত না থাকলে আপনি কি আপনার জীবন সম্বন্ধে কোনকিছু জানতে পারবেন? মানুষের মধ্যে যেটার অভাব সেটা হল নিযুক্ত থাকার।

 

বাছবিচারহীন নিযুক্তি

নিযুক্ত থাকা যখন বৈষম্যমূলক হয়, তখন সেটা আসক্তি-আবদ্ধতায় পরিণত হয়। আপনার নিযুক্ত হওয়াকে নির্বিচার হতে দিন। যে মাটিতে আপনি হাঁটেন, যে খাবার আপনি খান, যে জল আপনি পান করেন, যে বাতাসে আপনি শ্বাস নেন এবং যেই জায়গায় বর্তমানে আপনার অস্তিত্ব, দেখুন তো আপনি পারেন কিনা সেইসব কিছুর সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে নিযুক্ত হতে। এমনিতেও আপনি নিযুক্তই আছেন, যদিও নিজের অজানায়। যে বাতাসে আপনি শ্বাস নেন তার সঙ্গে নিযুক্ত না থাকলে আপনার মৃত্যু ঘটত। আপনাকে শুধু সচেতন হতে হবে যে জীবন শুধুমাত্র এই ভাবেই ঘটে। আপনাকে দেখতে হবে যে আপনি যেন সচেতনভাবে নিযুক্ত থাকেন।.

আপনি যদি অচেতনভাবে নিযুক্ত থাকেন তাহলে জীবনটা একটা বড় বোঝার মত দেখায়। আপনি যদি সচেতনভাবে নিযুক্ত থাকেন তাহলে এটা আনন্দময় হয়ে উঠবে। আজ, আমরা বিজ্ঞানসম্মতভাবে এটা প্রমাণ করতে পারি যে আপনার শরীরের প্রত্যেকটি অতিপারমাণবিক কণা (subatomic particle) সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের সাথে যোগাযোগে আছে। আপনি এত বড় একটা অনন্যসাধারণ ঘটনাকে উপেক্ষা করার চেষ্টা করছেন যেটা কিনা আপনার জীবন এবং সৃষ্টির মূল ভিত্তি। আপনি কষ্ট পান কারণ আপনি এটা উপেক্ষা করেন বলে, আপনার পরিবারের সঙ্গে আপনি জড়িত থাকার জন্য নয়।.

সঠিক পরিপ্রেক্ষিতে দেখা

আজ এটা কি সত্যি যে, সূর্য ঋতু অনুসারে ঠিক নির্ধারিত সময়েই উঠেছিল? হ্যাঁ। পৃথিবীটা সময় অনুসারেই আবর্তন করছে, ফুলেরা প্রস্ফুটিত হচ্ছে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের অগুনতি ছায়াপথে সমস্ত কিছুই ঘটে চলেছে সম্পূর্ণ নিখুঁতভাবে - কিন্তু আপনার মাথার মধ্যে একটা বাজে চিন্তা এলোমেলোভাবে ঘুরছে আর তাই আপনার কাছে এটা একটা খারাপ দিন। সমস্যাটা হল আপনি নিজের অস্তিত্বের পরিপ্রেক্ষিতটাই হারিয়ে ফেলেছেন। আপনি নিজেকে অনেক বেশী গুরুত্ব দিচ্ছেন।

ভৌত অস্তিত্ব হিসাবে আপনি সত্যিই কিছুই নন। আপনি যদি এটা বোঝেন, তাহলে আপনি সমস্তকিছুকে দেখবেন পরম বিস্ময় এবং নিযুক্তির সাথে।

ঠিক এখন, আপনার জীবন সম্বন্ধে সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতাটাই আপনার ভৌতিক অবয়বের মধ্যেই সীমিত। একটা ভৌতিক আকার হিসেবে এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে আপনি কী? আপনার বাড়িতে হয়তো আপনি বিশেষ কেউ একজন, রাস্তায় - তেমন কেউ নন, শহরে - কিছুই নন। আর মহাজগতে, আপনি এমনকি ধুলোর কণা মাত্রও নন। দয়া করে সঠিক পরিপ্রেক্ষিতে দেখুন। ভৌত অস্তিত্ব হিসেবে আপনি বাস্তবে কিছুই নন। আপনি যদি এটা বোঝেন, তাহলে আপনি সমস্ত কিছুকে দেখবেন সম্পূর্ণ বিস্ময় এবং নিযুক্তির সাথে। তখন, সামান্য কোন একটা চিন্তা অথবা আবেগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে না কারণ এটা কোনো ভাবনার বিষয়ই নয়। এটা এমন কিছু যা আপনি নিজেই তৈরী করছেন। আপনার মনের মধ্যে যা ঘটে চলেছে সেটা আপনারই বানানো। আপনাদের সাথে একটা বাজে ঠাট্টা করতে পারি?

এক ভদ্রমহিলা ঘুমোতে গেলেন। তার ঘুমের মধ্যে, তিনি একটা স্বপ্ন দেখলেন। তার স্বপ্নে তিনি বিশাল আকৃতির একজন পুরুষকে তার দিকে তাকিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেন। সেই লোকটি ক্রমশ তার কাছে এগিয়ে আসছিল। সে এত কাছে এসে গিয়েছিল যে তিনি লোকটির শ্বাস-প্রশ্বাস অনুভব করতে পারছিলেন। তিনি কাঁপলেন, ভয়ে নয়। আর তারপর তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, "আপনি আমার সাথে কী করবেন?" লোকটা বলল, "মহাশয়া, এটা তো আপনার স্বপ্ন।"

আপনার মস্তিষ্কে যা ঘটে চলেছে সেটা আপনার স্বপ্ন। জীবন আপনি যেরকম চাইছেন‌ ঠিক সেরকম ভাবে ঘটছে না, সেটা আপনার সমস্যা নয়। আপনি যেভাবে চান আপনার স্বপ্নগুলো সেভাবে ঘটছে না। এটা আপনার সমস্যা। অন্তত আপনার স্বপ্নগুলো আপনার ইচ্ছানুসারে হোক। যদি পৃথিবীটা আপনি যেভাবে চান সেভাবে না চলে, সেটা অন্য ব্যাপার। যদি আপনার স্বপ্নটা আপনার ইচ্ছানুসারে ঘটত, তাহলেও আপনি আনন্দিত থাকতেন।.

Editor’s Note: The “Power to Create” meditations for Peace, Love, Health, and Success (also known as “Chit Shakti”) enable each one of us to become our own alchemist, by empowering us to transform long cherished desires into reality. Try them out!