সন্তানকে বিকশিত করার ১০ টি ছোট পরামর্শ

যদিও এটা সত্যি কথা যে, সন্তানদের মানুষ করার কোনো একমাত্র সংজ্ঞা বা সঠিক পদ্ধতি হয় না, তবে সন্তান লালনপালনের কয়েকটি পরামর্শ মেনে চললে সন্তানের সুখের নিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। সন্তানকে বড় করার ক্ষেত্রে সদগুরুর দেওয়া ১০টি পরামর্শের উপর এক ঝলক চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।
সন্তানকে বিকশিত করার ১০ টি ছোট পরামর্শ
 

যদিও এটা সত্যি কথা যে, সন্তানদের মানুষ করার কোনো একমাত্র সংজ্ঞা বা সঠিক পদ্ধতি হয় না, তবে সন্তান লালনপালনের কয়েকটি পরামর্শ মেনে চললে সন্তানের সুখের নিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। সন্তানকে বড় করার ক্ষেত্রে সদগুরুর দেওয়া ১০টি পরামর্শের উপর এক ঝলক চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাক।

 

সদগুরুঃ সন্তান লালনপালনে কিছু নির্দিষ্ট পরিমাণ বিবেক-বিবেচনা দরকার| সমস্ত বাচ্চাদের জন্য কোনো এক বাঁধাধরা নিয়ম হয় না। বিভিন্ন শিশুর বিভিন্ন মাত্রায়ে নজর, ভালবাসা এবং শাসন দরকার হতে পারে। ধরো, আমি একটা নারকেল বাগানে দাঁড়িয়ে আছি , আর তুমি জিজ্ঞেস করলে, “প্রতি গাছে কতটা জল লাগবে ?” আমি বলবো, “অন্তত ৫০ লিটার প্রতি গাছে।” তুমি যদি বাড়ি গিয়ে তোমার গোলাপ গাছে ৫০ লিটার জল দিয়ে দাও, ওটা মরে যাবে। তোমায় দেখতেই হবে তোমার বাড়িতে কি ধরণের গাছ আছে এবং সেটার কী প্রয়োজন।

১. এই সৌভাগ্য কে চেনো

এটা একটা সৌভাগ্য, যে এই শিশু - এই আনন্দ - তোমার মাধ্যমে তোমারই বাড়িতে এসেছে। শিশুরা তোমাদের সম্পত্তি নয়, তোমরা তাদের মালিক নও । শুধু দেখো কিভাবে তাদের প্রতিপালন করা, অবলম্বন হয়ে ওঠা এবং তাতে আনন্দ পাওয়া যায় । নিজের ভবিষ্যতের লগ্নি বানানোর চেষ্টা করো না তাদের।

২. তাদের প্রভাবিত করো না


 
তাদের যা হয়ে ওঠার কথা, তাই হতে দাও। তোমার জীবনবোধ অনুযায়ী তাদের গড়ে তোলার চেষ্টা কোরো না । জীবনে তুমি যা করেছো, তোমার সন্তানেরও সেই কাজ করাটা জরুরী নয়। তোমার সন্তানের তো এমন কিছু করা উচিত যেটা তুমি তোমার জীবনে ভাবতেও সাহস করোনি । কেবলমাত্র তখনই পৃথিবী উন্নতি করবে।

৩. তাদের ‘সত্যিকারের’ ভালবাসা দাও

মানুষের ভুল ধারনা যে, সন্তানকে ভালবাসা হলো তারা যা কিছু চায় তাই দিয়ে দেওয়া। কিন্তু ওরা যা চায় সেই সবকিছুই যদি তুমি ওদের পাইয়ে দাও, এটা বোকামি, তাই না ? যখন তুমি স্নেহময় হও, তুমি ঠিক তাই করতে পারো, যা প্রয়োজন । যখন তুমি কাউকে সত্যিই ভালোবাসো, তুমি অপ্রিয় হয়েও তাই করো যা তাদের জন্য সবচেয়ে ভাল।

৪. বেড়ে ওঠার জন্য ওদের তাড়া দিও না

একটা শিশুর শিশু থাকাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ; তাকে বড় করে তোলার কোনও তাড়া নেই, কারণ পরে আর কখনই তাকে শৈশবে ফেরাতে পারবে না। শিশু যদি শিশুর মতো আচরণ করে, সেটাই তো অপূর্ব লাগে। প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে ওঠার পরেও যদি কেউ শিশুসুলভ আচরণ করে তাহলে সেটা বাজে দেখায়। তাই একটা শিশুর বড় হয়ে ওঠার কোনও তাড়া নেই।

৫. এটি শেখার সময়, শেখানোর নয়

একটা সন্তান যখন জন্ম নেয় , অজান্তেই তুমি হাসো , খেলো , গান করো , সোফার তলায় হামাগুড়ি দাও এবং সেই সমস্ত কাজগুলো করো যেগুলো করার কথা তুমি ভুলেই গিয়েছিলে

তুমি জীবন সম্বন্ধে এমন কী জানো যা সন্তানকে শেখাতে পারো ? শুধুমাত্র বেঁচে থাকার কিছু কৌশলই তুমি শেখাতে পারো। দয়া করে একবার নিজের সঙ্গে তোমার সন্তানের তুলনা করে দেখো যে, কে বেশি আনন্দে থাকতে পারে ? তোমার সন্তান, তাই না? সে যদি তোমার চেয়ে বেশি খুশি থাকতে জানে, তো জীবন সম্বন্ধে পরামর্শ দেওয়ায়ে কে বেশি যোগ্য, তুমি না সে?

সন্তান এলে, এটা শেখার সময়, সেখানোর নয়। সন্তান যখন জন্ম নেয় , অজান্তেই তুমি হাসো, খেলো, গান করো, সোফার তলায় হামাগুড়ি দাও এবং সেই সমস্ত কাজগুলো করো যেগুলো করার কথা তুমি ভুলেই গিয়েছিলে। তো এটা হলো জীবন সম্বন্ধে শেখার সময়।

৬. ওদের স্বাভাবিক আধ্যাত্মিকতা কে পোষণ করো

শিশুরা আধ্যাত্মিক সম্ভবনার খুব কাছে যদি না তাদের হস্তক্ষেপ করা হয়। সাধারণত হয় মা-বাবা, শিক্ষকশিক্ষিকারা, সমাজ বা টেলিভিশন – কেউ না কেউ তাদের মধ্যে একটা প্রভাব বিস্তার করে। এমন এক পরিবেশ তৈরি করো যেখানে এই হস্তক্ষেপ সবচেয়ে কম, এবং শিশু তোমার ধর্মের পরিচয়ে না গিয়ে, নিজের বুদ্ধিমত্তায় বড় হওয়ার উৎসাহ পায়ে । এই ভাবে সে ‘আধ্যাত্মিকতা’ শব্দটা না জেনেও স্বাভাবিকভাবেই আধ্যাত্মিক হয়ে উঠবে।

৭. সহায়ক ও ভালবাসার পরিবেশ দাও

তুমি যদি ভয় আর দুশ্চিন্তার এক উদাহরণ তৈরি করো তাহলে তুমি কি করে আশা করতে পারো তোমার সন্তান আনন্দে বাঁচবে ? তারাও সেই একই জিনিস শিখবে । একটা স্নেহময় ও আনন্দময় পরিবেশ তৈরি করাটাই সবচেয়ে ভাল যা তুমি করতে পারো।

৮. বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলো


 
নিজেকে সন্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া বন্ধ করো, এবং মালিক না সেজে একটা গভীর বন্ধুত্ব তৈরি করো। নিজেকে তার থেকে উঁচু স্থানে রেখে তাকে কি করতে হবে সেটা বলো না। নিজেকে তার থেকে নিচে রাখো, যাতে তাদের পক্ষে তোমার সাথে কথা বলা সহজ হ্য়।

৯. সম্মান অর্জনের চেষ্টা কোরো না

সন্তানের কাছ থেকে ভালবাসাটাই তুমি চাও, তাই না? কিন্তু অনেক বাবা-মায়েরা বলেন, “তোমার আমাকে শ্রদ্ধা করতেই হবে”। পৃথিবীতে কিছু বছর আগে আসা, শরীরে একটু বেড়ে ওঠা বা কিছু বেঁচে থাকার উপায় জানা ছাড়া আর কোন মাপকাঠিতে তোমার জীবন তোমার সন্তানের থেকে উন্নততর ?

১০. নিজেকে সত্যিই আকর্ষণীয় করে তোলো

সত্যিসত্যিই যদি নিজের সন্তানকে ভালভাবে বড় করে তুলতে চাও, তাহলে আগে নিজেকে একজন শান্তি আর ভালবাসায় পরিপূর্ণ মানুষে রূপান্তরিত করো।

একটা শিশু কত কিছু থেকে প্রভাবিত হয় - টিভি, প্রতিবেশী, শিক্ষক, স্কুল, এবং লাখো অন্যান্য জিনিসের দ্বারা। তোমার সন্তান সেই দিকেই যাবে যেটা তার কাছে সবচেয়ে বেশি আকর্ষণীয় মনে হবে। বাবা-মা হিসাবে তোমাদের নিজেদেরকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যাতে বাবা-মায়ের সাথে থাকাটা ওর কাছে সবচেয়ে বেশী আকর্ষণীয় হয়। তুমি যদি একজন উৎফুল্ল, বুদ্ধিমান এবং সুন্দর মানুষ হও, তাহলে সে অন্য কোথাও সঙ্গ খুঁজবে না। যে কোনো কিছুর জন্য সে তোমার কাছেই আসবে।

সত্যিসত্যিই যদি নিজের সন্তানকে ভালভাবে বড় করে তুলতে চাও, তাহলে আগে নিজেকে একজন শান্তি আর ভালবাসায় পরিপূর্ণ মানুষে রূপান্তরিত করো।

সম্পাদকের কথা :- অভিভাবক হয়ে ওঠার এই পরামর্শগুলি প্রয়োজনীয় মনে হলে, আরও বিশদে জানার জন্য সদগুরুর “Inspire Your Child, Inspire The World” নামের e.book টি ডাউনলোড করতে পারেন। বিনামূল্যে বইটি পড়তে হলে মূল্যের জায়গায় “0” বসান।

Download The Ebook

 
 
  0 Comments
 
 
Login / to join the conversation1