পয়লা বৈশাখে সদগুরুর বার্তা

পয়লা বৈশাখে সদগুরু আমাদের একটি বিশেষ বার্তা দিচ্ছেন। এবং দিনটিকে কেন নববর্ষের সূচনা বলে ধরা হয় তার নেপথ্যের বিজ্ঞানটি প্রকাশ করছেন।
ugadi neem
 

Read in Telugu: ఉగాదికి ఒక ప్రాముఖ్యత ఉంది!

Read in Hindi: गुढीपाडवा और उगादी : नव वर्ष की शुरुआत

পয়লা জানুয়ারী নয় বরং পয়লা বৈশাখের দিনটিতে গ্রহ এবং মানুষের শারীরবৃত্তীয় বিজ্ঞান ও মনের মধ্যে যা ঘটে তার নিরিখে এই দিনটির নববর্ষ হওয়ার একটি নির্দিষ্ট তাৎপর্য রয়েছে। পয়লা বৈশাখ লুনিসোলার ক্যালেন্ডার অর্থাৎ চান্দ্র-সৌর পঞ্জিকা অনুসরণ করে যার সাথে মানুষের দেহতন্ত্রের গঠনের প্রত্যক্ষ সংযোগ রয়েছে। ভারতীয় ক্যালেন্ডারটি কেবল সাংস্কৃতিকভাবেই নয়, বৈজ্ঞানিকভাবেও ভীষণ তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি আপনাকে গ্রহের গতিবিধির সাথে সংযুক্ত করে।

হাজার হাজার বছর ধরে ভারতীয়রা মূলত যে চান্দ্র-সৌর পঞ্জিকাটি অনুসরণ করে আসছেন, সেই পঞ্জিকা অনুযায়ী চন্দ্রমান পয়লা বৈশাখ দিয়েই হয় নববর্ষের শুরু। প্রাচ্য থেকে আগত আর সমস্ত কিছুর মতই পঞ্জিকাও মানুষের শারীরবৃত্তীয় বিজ্ঞান ও মানব সচেতনতার ওপর এর প্রভাবের নিরিখে তৈরি। ভূগোলকের হেলে থাকা অবস্থান পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু করে ২১-দিন যাবৎ উত্তর গোলার্ধকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণে সূর্যের শক্তি গ্রহণ করতে সাহায্য করে। তাপমাত্রা চড়চড় করে বাড়ার জন্য মানুষদের পক্ষে এটা হয়তো অস্বস্তিকর তবে এই সময়টাতেই পৃথিবীর ব্যাটারি চার্জ হয়। পয়লা বৈশাখ হল সংক্রান্তি পরবর্তী প্রথম অমাবস্যার পরে ক্রমবর্ধমান চাঁদের প্রথম দিনটি, যা এক নতুন সূচনার ইঙ্গিত দেয়।

পয়লা বৈশাখকে নববর্ষ হিসেবে কেবল কোনো বিশ্বাস ব্যবস্থা বা সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের অংশ হিসেবে উদযাপন করা হয় না - এর নেপথ্যে একটি বিজ্ঞান রয়েছে যা নানাভাবে মানব কল্যাণের মাত্রাকে বাড়িয়ে তোলে।

ক্রান্তীয় অক্ষাংশে অবস্থিত গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলগুলোতে বছরের উষ্ণতম এই সময়টির প্রস্তুতি হিসেবে, এটি একটি পরম্পরা যে লোকজন রেড়ির তেলের মতো ঠাণ্ডা তেলগুলির বিশদ প্রয়োগ দিয়ে বছরের এই অংশটি শুরু করেন। এই পঞ্জিকাটি আধুনিক ক্যালেন্ডারগুলোর মতন নয় যেগুলো গ্রহের গতিবিধির সাথে মানুষের অভিজ্ঞতার সম্পর্কটাকে এড়িয়ে যায় বরং চান্দ্র-সৌর পঞ্জিকাটি (চন্দ্রমান - সৌরমান পঞ্চাঙ্গ) মানুষের ওপর যে প্রভাব পড়ছে ও যে অভিজ্ঞতার সৃষ্টি হচ্ছে সেসব বিবেচনা করে তৈরি ফলতঃ পঞ্জিকাটি অক্ষাংশ অনুযায়ী মানানসই করে নেওয়া হয়েছে।

পয়লা বৈশাখকে নববর্ষ হিসেবে কেবল কোনো বিশ্বাস ব্যবস্থা বা সুখ স্বাচ্ছন্দ্যের অংশ হিসেবে উদযাপন করা হয় না - এর নেপথ্যে একটি বিজ্ঞান রয়েছে যা নানাভাবে মানব কল্যাণের মাত্রাকে বাড়িয়ে তোলে। এই জাতির যে গভীরতা ছিল আজকে তার হেলাফেলা করা হচ্ছে কারণ শুধুমাত্র অন্য কয়েকটা জাতি আমাদের চেয়ে অর্থনৈতিক দিক থেকে এগিয়ে গেছে বলে। তবে এই সংস্কৃতি যে গভীরতা বহন করে তা কয়েক বছরের মধ্যে তৈরি করা যাবে না; এটা হাজার হাজার বছরের কাজের ফল।


 
একটা সাধারণ ব্যাপার দিয়ে আপনার নতুন বছরটি শুরু করতে পারেন - যখনই আপনি টেলিফোন ধরবেন "হ্যালো'' বা "হাই" বা এরকম কিছু বলবেন না। "নমস্তে" বা "নমস্কার" বা "নমস্কারম" বা "ভানাক্কাম" বলুন। আপনার জীবনে এইরকম শব্দগুলো উচ্চারণ করার একটি তাৎপর্য রয়েছে - যে আপনি ঈশ্বরকে যা বলেন বা তাঁর প্রতি যা করেন, আপনি আপনার চারপাশের সবার সাথেও তাই করেন। এটাই বাঁচার শ্রেষ্ঠ উপায়।

যদি আপনার কাছে কিছু জিনিস পবিত্র এবং অন্য কিছু জিনিস পবিত্র না হয় তবে আপনি গোটা ব্যাপারটাই ধরতে পারছেন না। এই নতুন বছরটিকে প্রতিটি মানুষের মধ্যে থাকা এই দেবত্বকে চিনতে পারার এক সম্ভাবনা হিসেবে তৈরি করুন।

Love & Blessings

Editor's Note: Find out more about the wonderful intricacies of Indian culture in this collection of Sadhguru’s articles on the subject.

Indian Culture