মহাভারত: কাহিনীতে অধিবাস

সদগুরু ব্যাখ্যা করছেন যে মহাভারতের কাহিনী এবং চরিত্রগুলি ভালো মন্দ বিচারের জন্য নয়। একমাত্র যদি আমরা কাহিনীটিতে বাস করি অর্থাৎ কাহিনীটির সময়কাল এবং চরিত্রগুলোকে নিজের মধ্যে অনুভব করি তাহলে এটি আমাদের জন্য এক আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়ায় পরিণত হবে।
mahabharat-living-story
 

সদগুরু ব্যাখ্যা করেছেন যে মহাভারতের কাহিনী এবং চরিত্রগুলি ভাল মন্দ বিচারের জন্য নয়। একমাত্র যদি আমরা কাহিনীটিতে বাস করি এটি আমাদের জন্যে এক আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া হয়ে উঠবে।

Read in Telugu: మహాభారత కథ : వ్యాసుడికీ గణపతికీ మధ్య కుదిరిన ఒప్పందం

রচয়িতা এবং লিপিকার

সদগুরু: মহাভারতের প্রথম সংস্করণ, যা গণপতি নিজে লিখেছিলেন তাতে দু'লক্ষেরও বেশী শ্লোক ছিল। যখন ব্যাস কাহিনীটি বলতে চাইলেন আর তা লিপিবদ্ধ করার জন্য কাউকে তাঁর প্রয়োজন হল তখন তিনি সবচেয়ে উপযুক্ত লিপিকার পেলেন গণপতিকে। কিন্তু গণপতি এই ধরনের পাণ্ডিত্যপূর্ণ কাজকর্মে একঘেয়ে বোধ করছিলেন। তিনি বললেন, "একবার আমি লেখা শুরু করার পর, এমনকি এক মূহুর্তেরও বিরতি নিতে পারবেন না আপনি। যখন আমি একটি শব্দ লিখব, পরবর্তী শব্দটিকে ইতিমধ্যেই চলে আসতে হবে। যদি ইতস্তত করেন, আমি এই কার্যক্রম ত্যাগ করব। আপনাকে এমনভাবে গল্প বলে যেতে হবে যাতে আমি কখনও বিরতি না পাই। আপনি কি এর জন্য প্রস্তুত?" ব্যাস বলেছিলেন, "চমৎকার, কারণ এই গল্পটি এমনকিছু নয় যা আমি বানিয়ে বলতে যাচ্ছি। এই গল্প আমার মধ্যে বাস করছে – এ নিজেই এর অভিব্যক্তি খুঁজে নেবে। একমাত্র শর্ত হল আপনি এমন একটি শব্দও লিখতে পারবেন না যা আপনি বুঝতে পারেননি।"

তাঁরা সুচতুর এক চুক্তি করলেন এবং ব্যাস কাহিনীটি বর্ণনা করলেন – এই দুই লক্ষ শ্লোক শত শত চরিত্রকে ছবির মত করে বর্ণনা করেছে, যে চরিত্রগুলির উপস্থিতি ঠিক অতিথি শিল্পীর মত নয়। তাঁদের প্রত্যেকের জীবনের সমস্ত দিক বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে – তাঁদের জন্ম, তাঁদের শিশুকাল, তাঁদের বিবাহ, তাঁদের কৃচ্ছ্রসাধন, তাঁদের সাধনা, তাঁদের বিজয়, তাঁদের আনন্দ, তাঁদের কষ্ট, তাঁদের মৃত্যু, এবং বেশিরভাগের ক্ষেত্রেই, তাঁদের পূর্ববর্তী জীবন এবং একই ভাবে তাঁদের পরবর্তী জীবনও। একত্রিতভাবে ওডিসি এবং ইলিয়াডের থেকে মহাভারত প্রায় দশগুন বেশি দীর্ঘ।

এর বিচার করবেন না - এতে বসবাস করুন

 

 

এই একবিংশ শতাব্দীতে থেকে, যাঁরা পাঁচ হাজার বছর বছর আগে বেঁচে ছিলেন তাদের ভালো মন্দ বিচার করলে সেটা একেবারে অন্যায্য হবে। আমি নিশ্চিত যদি তারা এখন বেঁচে উঠে আপনাদের দেখতেন, আপনাদের সম্পর্কে তারা ভয়ানক অপ্রীতিকর সব মন্তব্য করতেন, ঠিক যেমন আপনারা করছেন। এটা ভালো বা মন্দ, ঠিক অথবা ভুলের ব্যাপার নয়। এ এমনভাবে মানুষের প্রকৃতিকে অন্বেষণ করার ব্যাপার যেভাবে কখনও কোথাও অন্বেষণ করা হয়নি। এ শুধু এক অন্বেষণ – কোন উপসংহারে উপনীত হবেন না।

ব্যাস, যিনি এই কাহিনী প্রথম বলেছিলেন, এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেছিলেন কারণ কাহিনীটি যাতে টিকে থাকে তা তিনি দেখতে চেয়েছিলেন। তখন থেকেই, হাজার হাজার মানুষ তাদের নিজস্ব মহাভারত রচনা করছেন, অল্পবিস্তর অভিযোজন করে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের, বিভিন্ন বর্ণের, ধর্মমতের এবং গোষ্ঠীর অভিযোজন রয়েছে। প্রত্যেক গল্পকার, সামনে উপবিষ্ট জনসাধারণের দিকে তাকিয়ে, তার নিজের অভিযোজন করেছেন। এইসব অভিযোজনের মাধ্যমে কাহিনীটি কিন্তু কলুষিত হয়নি। এর মাধ্যমে এটি শুধুমাত্র সমৃদ্ধই হয়েছে, কারণ এই পাঁচহাজার বছরে, কেউ কখনও কাহিনীটির ভালো মন্দ বিচার করার চেষ্টা করে তাকে কলুষিত করেনি। আপনারও তা করা উচিত নয়। "কে ভালো লোক? কে খারাপ লোক?" এভাবে ভাববেন না, ব্যাপারটা এরকম নয়। এরা মানুষমাত্র।

একটি কাহিনী একটি আঁচড়ও না লাগিয়েও সর্বশ্রেষ্ঠ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা লাভ করবার এক অসামান্য সুযোগ।

ধর্ম এবং অধর্ম, ঠিকভুল, ভালোমন্দ সম্পর্কিত নয়। এটা রাজা, পুরোহিত, অথবা নাগরিকবৃন্দের জন্য কোন নির্দিষ্ট ধরনের আচরণবিধি নয়। এটা একটা নিয়ম যাকে, যদি আপনি উপলব্ধি করতে পারেন, আপনাকে সত্যের পথে চলতে দেবে। যদি আপনি কাহিনীটিতে অধিবাস করেন তবে এটি একটি খুব শক্তিশালী আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া। যদি কাহিনীটি বিচার করেন, এটি আপনার জীবনে অনেক দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করতে পারে, কারণ এরপর, আপনি জানবেন না কোনটা ভালো কোনটা খারাপ, কি করতে হবে আর কি করতে হবেনা, পরিবারের সঙ্গে বাস করতে হবে কিংবা জঙ্গলে যেতে হবে, যুদ্ধ করতে হবে না হবেনা। যদি আপনি কাহিনীটিতে বাস করেন, বুঝতে পারবেন ধর্ম আপনার এই জীবন প্রক্রিয়াকে অমর্ত্যলোকে পৌঁছনোর সিঁড়িতে পরিণত করতে দেয়। অন্যথায়, আপনি এই জীবন প্রক্রিয়াকে নরকে পৌঁছনোর সর্পিল পথে পরিণত করেন – যা কিনা অনেক মানুষই করে থাকেন।

মহাভারতের সমাপ্তি সম্পর্কে আপনি যা জানেন তা দূরে সরিয়ে রাখুন। যদি নিজের জীবনের সৌন্দর্য অন্বেষণ করতে চান তাহলে পরিণতির কথা চিন্তা না করেই আপনাকে কাহিনীটির সৌন্দর্য অনুসন্ধান করতে হবে। একটি কাহিনী একটি আঁচড়ও না লাগিয়েও সর্বশ্রেষ্ঠ যুদ্ধের অভিজ্ঞতা লাভ করবার এক অসামান্য সুযোগ। অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রে, মানবিক অভিজ্ঞতা অনেকাংশেই কোনো একজনের চিন্তাভাবনা এবং আবেগ দিয়ে গঠিত হয় তাই এই অভিজ্ঞতা লাভ গুরুত্বপূর্ণ।

Editor’s Note: Find more stories at the Mahabharat stories page.

This article is based on an excerpt from the February 2015 issue of Forest Flower. Pay what you want and download. (set ‘0’ for free). Print subscriptions are also available.