কুসংস্কারের কি কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?

কুসংস্কারের কি কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে অথবা মানবজাতিকে ভুল পথে চালিত করার জন্য এগুলো কোন অমূলক বিশ্বাস? সদগুরু দুই তরফেই আলোকপাত করেছেন।
কুসংস্কারের কি কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে?
 

সদগুরু: বহু মানুষ সর্বদা শুভ নক্ষত্র, শুভ গ্রহ, শুভ সংখ্যা - এই সব ধরনের জিনিসের খোঁজ করে। যে ব্যাপারগুলো তারা খুব সহজেই নিজেদের জন্য তৈরী করে নিতে পারতেন, এই দেখাশোনা এবং অপেক্ষার প্রক্রিয়ার ফলে, সেগুলো পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যায়। জীবনের প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই, যেকোনো কাজ আপানাকে নিজেকেই সম্পাদন করতে হবে। আপনার শান্তি এবং অশান্তি, আপনার নিজেরই হাতে। আপনার আনন্দ এবং যন্ত্রণাও আপনারই দায়িত্বে। আপনার ভিতরের দেবতা এবং শয়তানও আপনারই করনীয়। যখন আপনি দৈবক্রমে বাঁচেন, আপনি ভয় এবং উদ্বেগের মধ্যেই বাঁচেন। যখন আপনি সাগ্রহ এবং যোগ্যতায় বাঁচেন, তখন কি ঘটছে আর কি না ঘটছে, সেটা কোন ব্যাপার নয় - কমপক্ষে আপনার মধ্যে কি ঘটছে সেটা আপনার আয়ত্তের মধ্যে আছে। সেটা আরো বেশি স্থিতিশীল জীবন।

সাধারণভাবে কতখানি বাস্তবসম্মত ভাবে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এবং কতটুকু সচেতনতার সাথে আপনি চলছেন এবং আপনার চারপাশের জীবন দেখছেন তার ওপর নির্ভর করে।

কয়েক বছর আগে, আমার চেনা একজন ভদ্রমহিলা একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তামিলনাড়ুতে অনেক মানুষ বিশ্বাস করেন যে, সকালে আপনি যখন আপনার গাড়ি চালাতে শুরু করেন, তখন শুরুতেই আপনার রিভার্স গিয়ারে গাড়ি চালানো উচিত নয়। অন্যথায়, আপনার সম্পূর্ণ জীবন রিভার্স গিয়ারে চলবে। সুতরাং, সকালবেলা তারা প্রথমে গাড়িটা খানিকটা সামনের দিকে চালিয়ে নেয়। এইজন্যে, তিনি গাড়িটিকে পেছনদিকে করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাবার আগে সামনের দিকে অল্প চালাতে চেয়েছিলেন। গাড়িটিকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি সামনে নেবার চেষ্টায়, উদ্বেগ এবং ভয়ে, তিনি ক্লাচে চাপ দিলেন এবং দেয়াল ভেঙে গাড়িটিকে বেডরুমে চালিয়ে নিয়ে গেলেন!

প্রয়োজনীয় অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক পরিবেশ যা সঠিক পরিস্থিতিকে আমাদের চারপাশে বাস্তবায়িত করে তূলতে পারে, তা সৃষ্টি করার পরিবর্তে আমরা শুধু সেই জিনিসকে খুঁজে চলেছি যা এটিকে ঘটিয়ে তূলতে পারে। আজকের দিনটা আপনি নিজের ভিতরে কিভাবে আনুভব করলেন সেটা নিশ্চিতভাবে আপনারই হাতে আছে। আপনি কোন কুসংস্কারে বিশ্বাস করেন, তার ওপর এটা নির্ভর করে না। সাধারণভাবে কতখানি বাস্তবসম্মত ভাবে, বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে এবং কতটুকু সচেতনতার সাথে আপনি চলছেন এবং আপনার চারপাশের জীবন দেখছেন তার ওপর নির্ভর করে।

সুতরাং, এসবের মধ্যে কি কোন সত্য নেই? সবসময় সেটা নয়। বেশিরভাগেরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি আছে কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এগুলোকে ভীষণভাবে বিকৃত করা হয়েছে। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বিজ্ঞান তার আকার হারিয়েছে এবং সম্পূর্ণ অন্য কিছুতে পরিণত হয়েছে। বরং, আজকাল রাজনৈতিক এবং অন্যান্য ধরনের আধিপত্যের সৌজন্যে, আমরা এই উপসংহারে পৌঁছেছি যে যদি কিছু পাশ্চাত্য থেকে আসে তাহলে সেটি বিজ্ঞান, প্রাচ্য থেকে আসা সব কিছুই কুসংস্কার।

 

এটা এমন সভ্যতা যা সচেতনভাবে সাধুসন্তদের দ্বারা উদ্ভূত। এর অপরিমেয় বৈজ্ঞানিক মান আছে।

এই সভ্যতায় এমন অনেক জিনিস আছে যা আমরা সব সময় বলে এসেছি, আজকাল বিলিয়ন-ডলার গবেষণার কাজে খরচ করার পর সেটা আবিষ্কৃত হচ্ছে, মানুষের প্রকৃতি সম্বন্ধে 'অসামান্য' আবিষ্কার হিসেবে। আমরা সবসময়ই এসব জেনে এসেছি কারণ এটা এমন সভ্যতা নয় যার উৎপত্তি মানুষের জীবনের বাধ্যবাধকতা থেকে। এটা এমন সভ্যতা যা সচেতনভাবে সাধুসন্তদের দ্বারা উদ্ভূত। এর অপরিমেয় বৈজ্ঞানিক মান আছে। সবকিছু - কিভাবে আপনার বসা, দাঁড়ানো এবং খাওয়া উচিত - মানুষের কল্যাণার্থে সব থেকে ভালো উপায়ে, এগুলো পরিকল্পিত হয়েছিল। দুর্ভাগ্যবশত, আজকাল আমরা যে আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া দেখি তা অনেক দিক থেকে বহিরাক্রমণের কারনে ভঙ্গুর এবং বহু বছরের দারিদ্রতার কারণে বিকৃত। তবুও আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়ার মূল তত্ত্ব এখনো ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়নি, একে ধ্বংস করা যায় না। আমাদের পূর্ণ মহিমান্বিত এই সুগভীর ঐতিহ্যের সুবিধাগুলি প্রাপ্ত করার যথার্থ সময় এখনই।

 
 
  0 Comments
 
 
Login / to join the conversation1