যখন একটি সাধারণ প্রশ্ন এক জটিল ধাঁধা হয়ে দাঁড়ায় - একটি জেন গল্প

সদগুরু গাড়ি চালাতে চালাতে সাক্ষাৎকার দিচ্ছিলেন এবং তিনি একটি জেন গল্পের সারমর্ম বলছেন যেখানে একজন তরুণ সন্ন্যাসী পূর্বনির্ধারিত উত্তর দিয়ে কিভাবে সমস্যায় পড়েছিলেন।
When A Simple Question Becomes A Knotty Problem – A Zen Story
 

প্রশ্নকর্তা: আমি এরকম একটি জেন গল্প শুনেছিলাম। কোনো এক জায়গায় কাছাকাছি দুটো জেন মঠ ছিল যেখানে দুজন তরুণ সাধক থাকতো। প্রত্যেকদিন সকালে বাজারে যাবার সময় তারা একে অপরের মুখোমুখি হতো।  

"কোথায় যাচ্ছো?" একজন জিজ্ঞেস করলো।

অন্যজন উত্তর দিল, "বাতাস যেদিকে বইছে"।

উত্তরটি নবীন বালকটিকে ধন্দে ফেলে দিল। সে তার গুরুর কাছে সাহায্যের জন্য গেল। গুরু তাকে বললেন - "কাল সকালে যখন তুমি ওই ছোকরাকে দেখবে তাকে একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস কোরো, আর তারপর তাকে বোলো 'যদি বাতাস বন্ধ হয়ে যায় তাহলে?' এটা ওকে সিধে করে দেবে।"

পরদিন সকালে আবার তাদের দেখা হলো।

"তুমি কোথায় যাচ্ছো?" - প্রথম ছেলেটি জিজ্ঞেস করলো।

"আমার পা আমাকে যেখানে নিয়ে যায় " - অন্যজন উত্তর দিল। এটি আবার ওই তরুণকে হতবুদ্ধি করে দেয়। সে পরাজিত হয়ে আবার তার মাস্টারের কাছে যায়।

"তোমার পা না থাকলে কি হতো?" মাস্টার এরকম প্রশ্ন করার উপদেশ দেন।

পরেরদিন ছেলেদুটির তৃতীয় বারের জন্য দেখা হয়।

"কোথায় যাচ্ছো?" প্রথমজন জিজ্ঞেস করে।

"বাজারে যাচ্ছি", অন্যজন উত্তর দেয়।

আবার ভণ্ডুল হয়ে যায়।

 

প্রশ্নকর্তা: এখানে একটা ব্যাখ্যা দেওয়া আছে। পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তিত হতে থাকলে, আমরা তাকে যতই তাড়া করে বেড়াবো আমরা ততই দূরে চলে যাবো। পরিবর্তিত না হয়ে পরিবর্তনের সামনা করুন, কারণ পরিবর্তন করার রাস্তা সীমিত কিন্তু যতরকম ভাবে একই থাকা যায় তার রাস্তা অন্তহীন। বাস্তবে পরিবর্তনের পথ সীমিত, কিন্তু পরিবর্তিত না হয়ে থেকে যাবার পথ অসীম।  

সদগুরু: আপনি যখন কোনো কিছুকে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা করেন তখন তাতে আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না। আপনি এর থেকে একটা নীতিকথা বের করতে পারবেন না। সঠিক উত্তর দেওয়া আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য নয়। আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া হলো সঠিকভাবে থাকার পথ উপলব্ধি করা।.

 

আমরা একটি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে কিভাবে সাড়া দিই তা মূলত নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর। আমরা যদি আগে থেকেই ঠিক করে বসে থাকি - কিভাবে একটা পরিস্থিতিকে সামলাবো, তাহলে বাস্তবিকতা পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের যথাযথ প্রতিক্রিয়া হবে না। কর্ম সবসময় আমরা যে পরিস্থিতিতে থাকি তার সাথেই সম্পর্কিত। ঠিক উত্তর বা ভুল উত্তর বলে কিছু হয় না। ঠিক কাজ বা ভুল কাজ বলেও কিছু নেই। আছে শুধু যথার্থ উত্তর আর উপযুক্ত কাজ। 

ঠিক ও ভুল বলে কিছু নেই, আছে শুধু জীবনের প্রতি যথার্থতা। আপনি যদি জীবনের যথার্থতা বোঝেন, আপনি এটি ভালোভাবে সামলাতে পারবেন।

আমরা যাই করি না কেন, সেটা যদি আমরা যে পরিস্থিতিতে রয়েছি তার উপযুক্ত না হয় তাহলে সেটা অর্থহীন। কিন্তু একটা যুক্তিবাদী মন, একটা খুবই সাধারণ সীমিত মন সবসময় ভাবে যে "ঠিক" বা "ভুল" বলে একটা কিছু আছে। ঠিক বা ভুল বলে কিছু নেই , আছে শুধু জীবনের প্রতি যথার্থতা। আপনি যদি জীবনের যথার্থতা বোঝেন, আপনি এটি ভালো ভাবে সামলাতে পারবেন। আর আপনি যদি জীবনের যথার্থতা না বোঝেন, তাহলে আপনি রেডিমেড উত্তর আর রেডিমেড সমাধান বের করবেন যেগুলো সবসময় আপনাকে ঝামেলায় ফেলবে।

প্রশ্নকর্তা: আপনি রেডিমেড উত্তর আর রেডিমেড সমাধানের একটা উদাহরণ দেবেন?

সদগুরু: নৈতিকতা এবং সচেতনতার মধ্যে একটা মূল পার্থক্য রয়েছে। নৈতিকতা আপনাকে রেডিমেড উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করছে। একটা মন- যেটা ইতিমধ্যেই স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে, সেটা জীবনের বাস্তবতার কাছে মৃত। যদি তাকে বাঁচিয়ে রাখতে হয়, তাকে সচেতন হতে হবে। এর কোনো স্থির-সিদ্ধান্ত থাকবে না।  

আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়ার সারমর্মই হলো এটা - আপনি সিদ্ধান্তে পৌঁছোচ্ছেন না, আপনি কেবল অন্বেষণ করে চলেছেন।

যখন ঐ ছেলেটি বলল, "বাতাস" বা "পা" বা শুধুই "বাজার", এই ছেলেটা জানতো না কি উত্তর দেবে- কারণ তার মনে সিদ্ধান্ত করা ছিলো। আধ্যাত্মিক প্রক্রিয়ার সারমর্মই এটা - আপনি কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছোচ্ছেন না, আপনি কেবল সন্ধান করে চলেছেন। একজন জেন সন্ন্যাসী মানে তাঁর জীবন হলো অন্বেষণের, এবং অন্বেষণ তখনই সম্ভব যখন আপনি কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। একজন নাস্তিক হয়ে গেছে বা একজন আস্তিক হয়ে গেছে - তারা দুজনেই সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে। এই সিদ্ধান্তগুলো সত্যের পথে নিয়ে যাবে না। এই সিদ্ধান্তগুলো কেবল দুটো দল বা দুজন ব্যাক্তিকে লড়াইয়ের পথে নিয়ে যাবে।

 

আপনাকে যদি অন্বেষণ করতে হয়, সবচেয়ে প্রথম এবং প্রধান জিনিস হলো - আপনি যে পরিস্থিতিতে আছেন তার সামনে একটা আয়নার মতো হতে হবে, যাতে করে আপনি পরিস্থিতির মর্ম উপলব্ধি করতে পারেন এবং সেইমত কাজ করতে পারেন। এবং এটাই পৃথিবীতে সব সাফল্যের মূল। আপনার আধ্যাত্মিক বা জাগতিক সাফল্য তখনই আসবে যখন আপনি এই মূহূর্তে সামনে যেটা আছে সেটা দেখবেন এবং যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই দেখবেন। যে মুহূর্তে আপনার মনে সিদ্ধান্ত এসে যায়, আপনি সামনের পরিস্থিতিকে সেটা ঠিক যেমন - সেভাবে দেখতে পান না। সেক্ষেত্রে আপনি সম্পূর্ণ লক্ষ্যভ্রষ্ট হবেন। 

Editor’s Note: Watch the Youth and Truth #UnplugWithSadhguru playlist, a comprehensive compilation of Sadhguru’s talks and interactions with the youth and students of India. New videos will be added to this playlist as more videos are released from the Youth and Truth events, so remember to visit this playlist again!