একাদশী

একাদশীর তাৎপর্য, কিছু কিছু বিশেষ দিনে খাবার না খাওয়া কী ভাবে আমাদের শরীরে স্বাস্থ্য ও সজীবতা নিয়ে আসতে পারে এবং কী ভাবে মানুষের মধ্যে অন্তর্মুখী হওয়ার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, সে সম্পর্কে আমাদের বললেন সদগুরু।
একাদশী
 

সদগুরু: একাদশী মানে পূর্ণিমার পরে একাদশতম দিন আর অমাবস্যার পরেও একাদশতম দিন। মোটামুটি প্রতি ৪০ থেকে ৪৮ দিনে মানুষের শরীর-প্রক্রিয়া এক চক্রের মধ্যে দিয়ে যায়, যাকে বলে মণ্ডল। এই চক্রে তিনটি এমন দিন থাকে যখন শরীর খাদ্য চায় না। প্রত্যেকটি মানুষের জন্য এই তিন দিন আলদা হতে পারে, এবং তাদের মধ্যে ব্যাবধান গুলো সমান নাও হতে পারে। আপনি যদি সেই দিনগুলি চিহ্নিত করতে পারেন আর শরীরকে যদি খাদ্য না দেন, তাহলে অনেক শারীরিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে এই সহজ পদ্ধতিটির মাধ্যমে।

Infographic - Ekadashi

শরীরের এই চক্রটি বেশিরভাগ মানুষই চিহ্নিত করতে পারেন যদি তারা মাথা থেকে এত ক্যালরি, এতটা প্রোটিন, এতটা মিনারালস্ খেতে হবে জাতীয় হাবিজাবি ধারণা সরিয়ে দেন। যদি তারা শরীরের কথা শোনেন, এই তিনটি দিন বেশিরভাগ মানুষই আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারেন। তাই বলা হয়েছিল যে এই ৪৮ দিনের মধ্যে তিনদিন আপনার খাওয়া উচিত নয়। এটি বলা হয়েছিল কারণ কেউ একজন নিজের শরীরকে পর্যবেক্ষণ করেছিলেন আর তা থেকেই তিনি এই মত প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু, মানুষের তখন প্রয়োজনীয় সচেতনতা ছিল না তাই তাঁরা একাদশীর দিনটি স্থির করেন না খাওয়ার জন্য। আপনি যদি লক্ষ্য করেন, ৪৮ দিনে তিনটি একাদশী আসে। এইভাবে আপনার খাবার নিয়ন্ত্রন করলেও উপকার লাভ হয়।

জোর করে খাবার থেকে বঞ্চিত করাটা উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হল সব কিছুকে এক সচেতন প্রক্রিয়া করে তোলা।

এর কারণ হল, এই গ্রহটি নিজেই ওই দিনটিতে এক বিশেষ অবস্থায় থাকে, তাই যদি আমরা আমাদের শরীরটাকে হাল্কা আর উপলভ্য রাখি, আমাদের চেতনা অন্তর্মুখী হবে। আমাদের অন্তরের প্রবেশপথ খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা ওই দিনটিতে বেশি থাকে।আপনার পেট যদি ভরা থাকে আর যদি আপনি অচেতন আর নিস্তেজ হয়ে থাকেন, আপনি এটি লক্ষ্য করতে পারবেন না। তাই সজাগ থাকতে আর শরীরকে শুদ্ধ করতে আপনি ওই দিনটিতে না খেয়ে থাকবেন – আপনি আগের দিন রাতে খেয়েছিলেন আর তারপরে আবার খাবেন একাদশীর রাতে।

আপনার সক্রিয়তার স্তর যেরকম, নিজেকে সামলানোর মত সাধনা না থাকার জন্য, আপনি যদি খাবার না খেয়ে থাকতে অসমর্থ হন, সেক্ষেত্রে আপনি ফলাহার অর্থাৎ শুধু ফল খেয়ে থাকতে পারেন, যা কিনা পেটের পক্ষে হাল্কা, যাতে আপনার অন্তরের দরজাগুলি খুলে যেতে পারে। জোর করে খাবার থেকে বঞ্চিত করাটা উদ্দেশ্য নয়। উদ্দেশ্য হল সব কিছুকে এক সচেতন প্রক্রিয়া করে তোলা। আমরা বাধ্যতামূলকভাবে খেতে চাই না, সচেতন ভাবে খেতে চাই ।

আপনি যদি সারাদিন উপবাস করতে না পারেন, এখানে কিছু রন্ধন প্রণালী দেওয়া হল যা সকালের হাল্কা খাবার হতে পারে। এছাড়াও, আমলা অথবা ভারতীয় বৈঁচি (gooseberry) জাতীয় ফল কীভাবে উপবাসের সহায়ক হতে পারে – এই সংক্রান্ত লেখাটি দেখতে পারেন। নিচে কিছু খাবারের কথা বলা হল যা আপনার উপবাসের পরের নৈশভোজ হতে পারে।

প্রাতরাশ

চালকুমড়োর জুস

৩ জনের জন্য

উপকরণ:

  • চালকুমড়ো, ৪-৫ ইঞ্চি সাইজের – ১ টা
  • পাতিলেবুর রস – ৬ চা চামচ
  • কালো গোল মরিচের গুঁড়ো – ৩ চা চামচ
  • নুন – ৩ চা চামচ

পদ্ধতি:

  • চালকুমড়োটি কেটে খোসা আর বীজগুলি ছাড়িয়ে নিন।
  • মিহি করে ঘ্যাঁট বানিয়ে নিন।
  • ছেঁকে ফেলুন।
  • পাতিলেবুর রস, গোল মরিচের গুঁড়ো আর নুন মিশিয়ে নিন।

মাল্টি-গ্রেইন হেল্‌থ-মিক্‌স

৩ জনের জন্য

উপকরণ:

পদ্ধতি:

  • ১/২ কাপ জল আর মাল্টি-গ্রেইন হেল্‌থ মিক্‌স দিয়ে পেস্ট বানিয়ে নিন।
  • ৩ কাপ জল ফুটিয়ে নিন আর তার মধ্যে গুড় দিয়ে দিন।
  • গুড় মিশে গেলে, তাতে হেল্‌থ মিক্‌স পেস্ট যোগ করে কিছুক্ষণ নাড়তে থাকুন, যাতে দলা পাকিয়ে না যায়।
  • ৩-৫ মিনিট আঁচে রাখুন।
  • গরম গরম পরিবেশন করুন।

নৈশভোজ

ব্রাউন রাইস কাঞ্জি

৩ জনের জন্য

উপকরণ:

  • ব্রাউন রাইস – ১ কাপ
  • গোটা মুগ ডাল (খোসা সমেত) – ১/৩ কাপ
  • নুন – ১ চা চামচ
  • জল – ৩.৫ কাপ

পদ্ধতি:

  • সমস্ত উপকরণগুলি একটি প্রেশার কুকারে মিশিয়ে নিন আর ব্রাউন রাইস সেদ্ধ হয়ে পায়েশের মত মাখা-মাখা হতে যতক্ষণ লাগে ততক্ষণ সেদ্ধ করুন। কান্‌জি আরও হাল্কা বানাতে আরও জল মেশান।

কালো ছোলার সুন্ডল

৩ জনের জন্য

উপকরণ:

  • কালো ছোলা, আগের দিন রাতে ভেজান – ২ কাপ
  • তড়কা মিশ্রণ – ৪ চা চামচ
  • নুন – ১ চা চামচ
  • জল – ৪ চা চামচ জল
  • কোরান নারকোল, টাটকা – ৩ চা চামচ

পদ্ধতি:

  • কালো ছোলা, নুন, আর জল এক সঙ্গে মিশিয়ে ফোটান যতক্ষণ না ছোলা সিদ্ধ হচ্ছে।
  • তড়কা মিশ্রণ আর টাটকা কোরান নারকোল সিদ্ধ ছোলার সঙ্গে মিশিয়ে দিন।

বিন্‌স-গাজর-বাঁধাকপির পরিয়াল

৩ জনের জন্য

উপকরণ:

  • বিন্‌স, চেরা – ১/২ কাপ
  • বিন্‌স, কাটা – ১/২ কাপ
  • বাঁধাকপি, কাটা – ১/২ কাপ
  • তড়কা মিশ্রণ – ৪ চা চামচ
  • নুন – ১ চা চামচ
  • কোরান নারকোল, টাটকা – ৪ চা চামচ

পদ্ধতি:

  • সব সবজি সেদ্ধ করে নিন।
  • তড়কা মিশ্রণ আর টাটকা কোরান নারকোল সিদ্ধ সবজির সঙ্গে মিশিয়ে দিন।

টাটকা পেপে

৩ টে মাঝারি পেপে

অরহড় ডালের চাটনি

আপনি যদি আপনার খাবারে স্বাদ-গন্ধের বৈচিত্র্য নিয়ে আসতে চান তাহলে এই চাটনি রেসিপিটা আপনার খাবারের সঙ্গে যোগ করে দেখুন। এটি ৩ জনের খাওয়ার মত।

উপকরণ:

  • অরহড় ডাল – ১ কাপ
  • কালো সরষে – ২ চা চামচ
  • তেঁতুল মাখা – ৩ চা চামচ
  • তড়কা মিশ্রণ – ৪ চা চামচ
  • শুকনো লঙ্কা – ৪ টে
  • আদা, টুকরো করা – ১-ইঞ্চি পুরু টুকরো
  • বাদাম তেল – ১/৪ কাপ

পদ্ধতি:

  • মাঝারি আঁচে কড়াইতে তেল গরম করে নিন আর অরহড় ডাল ঢেলে দিন, তারপর সরষে আর শুকনো লঙ্কা দিয়ে দিন। ৫ মিনিট নাড়াচাড়া করে ঠাণ্ডা হতে দিন।
  • একটা ব্লেন্ডারে অরহড় ডাল, সরষে আর শুকনো লঙ্কা ভাজা অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে মিশিয়ে নিন। যতক্ষণ একটা মিহি পেস্ট তৈরি না হচ্ছে, ততক্ষণ ব্লেন্ড করুন।

 
 
  0 Comments
 
 
Login / to join the conversation1