নরক চতুর্দশী - সমস্ত ভুলের অবসান

এই সপ্তাহের স্পটে, সদগুরু নরক চতুর্দশীর নেপথ্য-কাহিনীর কথা বলছেন - যখন কৃষ্ণ নরকাসুরকে বধ করেছিলেন, এবং ব্যাখ্যা করছেন যে এটি আজও কীভাবে আমাদের কাছে প্রাসঙ্গিক।
 
Naraka Chaturdashi – Killing of All Wrongs
 
 
 

দীপাবলি নরক চতুর্দশী নামেও পরিচিত কারণ নরক অনুরোধ করেছিলেন যে তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী যেন উদযাপন করা হয়। বহু মানুষ কেবল মৃত্যুর মুহূর্তে তাদের সীমাবদ্ধতা উপলব্ধি করেন। তারা যদি এখন উপলব্ধি করেন তবে জীবন উন্নত হতে পারে। তবে বেশিরভাগ মানুষ শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেন। এদের মধ্যে নরক অন্যতম। মৃত্যুর সময় তিনি হঠাৎ বুঝতে পেরেছিলেন যে কীভাবে তিনি নিজের জীবন অপচয় করেছেন এবং এটি দিয়ে কী করেছেন। তাই, তিনি কৃষ্ণকে অনুরোধ করেছিলেন, "আজ আপনি কেবল আমাকে নয়, আমি যত ভুল করেছি তাদেরকে হত্যা করছেন - এটি অবশ্যই উদযাপিত হওয়া উচিত।" তাই নরকের ভুলগুলির হত্যার উদযাপন করবেন না, আপনার নিজের মধ্যে থাকা সমস্ত ভুলের হত্যার উদযাপন করতে হবে। সত্যিকারের দীপাবলি তখনই ঘটে। অন্যথায়, এটি শুধুই টাকা খরচ, তেল আর পটকাবাজি।

নরকের ভুলগুলির হত্যার উদযাপন করবেন না, আপনাকে আপনার নিজের মধ্যে থাকা সমস্ত ভুলের হত্যার উদযাপন করতে হবে।

নরক একটি ভাল পটভূমি থেকে এসেছিলন। জনশ্রুতি বলেছে তিনি বিষ্ণুর পুত্র ছিলেন। তবে এটি ঘটেছিল যখন বিষ্ণু বুনো শুয়োরের রূপ নিয়েছিলেন, তাই তাঁর কিছু নির্দিষ্ট প্রবণতা ছিল। এর চেয়েও বড় কথা, নরকের সাথে মুরার বন্ধুত্ব হয়, যিনি পরে তাঁর সেনাপতি হন। তারা একসাথে অনেক যুদ্ধ করেছেন এবং কয়েক হাজার মানুষকে হত্যা করেছেন। কৃষ্ণ প্রথমে মুরাকে হত্যা করেছিলেন, যেহেতু তাঁরা উভয়ে এক সাথে থাকলে নরকের সাথে মোকাবেলা করার কোনও উপায় ছিল না। কৃষ্ণের নাম মুরারি হওয়ার কারণ হ'ল তিনি মুরাকে হত্যা করেছিলেন। জনশ্রুতি অনুসারে, মুরা যুদ্ধে যাদু-শক্তির সাহায্য নিতেন, যা তাকে এমনভাবে তৈরি করেছিল যে কেউই তার বিরুদ্ধে টিকতে পারতেন না। মুরাকে হাঠিয়ে দেওয়ার পর পর নরককে হত্যা করা একটি লৌকিকতা মাত্র।

নরককে হত্যা করা হয়েছিল কারণ কৃষ্ণ দেখেছিলেন যদি তাঁকে বাঁচতে দেওয়া হয় তবে তিনিও একই জিনিস চালিয়ে যাবেন। তবে যদি তাঁকে মৃত্যুর কাছাকাছি এনে দেওয়া হয়, উনি উপলব্ধি করতে সক্ষম হবেন। হঠাৎ তিনি বুঝতে পারলেন যে অযথা তিনি খুব বেশি বাজে কাজ করে গেছেন। তাই তিনি বলেছিলেন, “আপনি আমাকে হত্যা করছেন না, আপনি আমার সমস্ত খারাপ জিনিস হরণ করছেন। আপনি আমার সাথে এটা করছেন তা ভাল ব্যাপার। প্রত্যেকেরই এটা জানা উচিত। সুতরাং তাদের সবাইকে অবশ্যই আমার সমস্ত নেতিবাচকতার মৃত্যু উদযাপন করতে হবে কারণ এটা আমার কাছে নতুন আলো এনেছে এবং সবারই আলোকিত হওয়া উচিত। " তাই এটা হয়ে উঠল আলোর উৎসব। এই দিনটাতে পুরো দেশ আলোকিত হয়, তাই আপনার সমস্ত নেতিবাচকতা পুড়িয়ে দেওয়ার কথা। এটা এখনই করা ভাল। নরককে কৃষ্ণ বলেছিলেন, "আমি তোমাকে হত্যা করব।" তবে আপনাকে সেটা হয়তো কেউ না বলতে পারে - সেটা এমনিই ঘটতে পারে।

টেনেসিতে এটি ঘটেছিল। একজন মহিলা বন্দুকের দোকানে গেলেন। টেনেসির লোকেদের নিয়মিত নতুন বন্দুক কেনাটা খুব সাধারণ ব্যাপার। তাই তিনি বন্দুকের দোকানে গিয়ে বললেন, "আমি আমার স্বামীর জন্য একটি রিভলবার এবং কয়েকটি গুলি চাই।" দোকানদার জিজ্ঞাসা করলেন, "তিনি কোন ব্র্যান্ডটি পছন্দ করবেন?" তিনি বললেন, "আমি তাকে বলিনি যে আমি তাকে গুলি করব।"

আমরা সবাই একই জিনিস দিয়ে তৈরি তবে দেখুন প্রত্যেকেই কতটা আলাদা।

জীবন যখন আপনাকে চেপে ধরে, সেটা আপনাকে বলেকয়ে নাও হতে পারে। সেই কারণেই দীপাবলি স্মরণ করিয়ে দেয় যে অন্য কোনও ব্যক্তির দ্বারা মৃত্যুর অপেক্ষা না করে আপনি সচেতনভাবে মৃত্যুবরণ করতে পারেন এবং একটা সচেতন জন্ম নিতে পারেন। কোনও পুরুষ, মহিলা, ব্যাকটিরিয়া, ভাইরাস বা আপনার নিজের কোষ আপনাকে শেষ করবে কিনা তা আমরা জানি না। কিছু না কিছু একটা হবে। তার চেয়ে বরং নরকের ইচ্ছামতো সবাইকে মনে করানো ভাল, "আমি নিজেকে অন্যরকম কিছু তৈরি করতে পারতাম কিন্তু আমি কেবল খারাপ জিনিস সংগ্রহ করে এরকম হয়ে উঠেছি”

আমরা সবাই একই জিনিস দিয়ে তৈরি কিন্তু তাও দেখুন প্রত্যেকে কত আলাদা। প্রশ্ন হ'ল প্রতিদিন আপনি কী সংগ্রহ করছেন? আপনি কি নিজের মধ্যে বিষ সংগ্রহ করছেন বা উৎপাদন করছেন নাকি আপনার মধ্যে ঐশ্বরিক সুগন্ধি তৈরি করছেন? সেটা বেছে নিতে হবে। নরকের ভালো জন্ম হওয়া সত্ত্বেও, তার খারাপ হয়ে যাওয়ার এই গল্পটা তাৎপর্যপূর্ণ। মৃত্যুর মুহূর্তে নরক বুঝতে পেরেছিলেন যে কৃষ্ণ ও তার মধ্যে একমাত্র পার্থক্য হল তারা নিজেরাই নিজেদের ওইরকম তৈরী করেছেন। কৃষ্ণ নিজেকে দেবতুল্য বানিয়েছিলেন, আর নরক নিজেকে রাক্ষসে পরিণত করেছিলেন। আমাদের প্রত্যেকের কাছেই এই বিকল্প রয়েছে। যদি আমাদের কোন বিকল্প না থাকে, তবে যারা নিজেদের সপ্রভিত উদাহরণ-হিসেবে পরিণত করেছেন, তাদের কী প্রয়োজন? কোনও ব্যক্তি বিশেষভাবে ভাগ্যবান বা তাদের সেইভাবেই জন্ম হয়েছে এমন নয়। একটা নির্দিষ্টভাবে নিজেকে তৈরি করতে অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়।

হয় আপনি জীবনের চাবুক খাওয়ার অপেক্ষা করুন বা নিজেকে চাবুকের মত গড়ে তুলুন - এই বিকল্পই আছে। তাই নরক বেছে নিয়েছিলেন যে কৃষ্ণকে এসে তাকে চাবুক মারবেন। আর কৃষ্ণ নিজেকে চাবুকের মতো তৈরী করাটা বেছে নিয়েছিলেন। এটা একটা বড় পার্থক্য। একজন ঈশ্বর হিসাবে উপাসিত হন, অন্যজনকে রাক্ষস বদনাম করা হয় - এটাই সব। হয় আপনি নিজেকে সঠিক আকারে গড়ে তুলুন না হয় জীবন একদিন আপনাকে সঠিক আকারে গড়ে তুলবে - বা তছনছ করবে, এর কোনো একটা। দেওয়ালি এটাই আমাদের মনে করায়। আসুন একে আলোকিত করে তোলা যাক।

Love & Grace