মহাভারত পর্ব ১৬: দুর্যোধনের খুনের চক্রান্ত

মহাভারতের এই পর্বে সদগুরু ব্যাখ্যা করছেন যে কীভাবে দুর্যোধনের ক্রোধ শকুনির কূটবুদ্ধির দ্বারা চালিত হয়ে ভীমকে হত্যার এক ক্রূর, চক্রান্তে পরিণত হয়। অবশ্য তাঁর অতি উৎসাহের কারণে দুর্যোধনের বিষাক্ত পরিকল্পনা খুব তাড়াতাড়িই ভেস্তে যায়।
Mahabharat Episode 16: Duryodhana’s Murder Plots
 

Mahabharat All Episodes

সদগুরু: দূর্যোধন তাঁর পিতা ধৃতরাষ্ট্রের কাছে গিয়ে অভিযোগ করলেন যে, "আমি কতবার ভীমকে মারার চেষ্টা করলাম কিন্তু কোনো না কোনোভাবে ও সবসময়েই পার পেয়ে যাচ্ছে।" ধৃতরাষ্ট্র অবাক হলেন– প্রাসাদের মধ্যেই কিনা তাঁর ছেলে নিজের খুড়তুতো ভাইকে মারার পরিকল্পনা করছে। দুজনেরই বয়স মাত্র ষোল। শকুনি একদিন দুর্যোধনকে পরামর্শ দিলেন, "এভাবে কাজ হবে না। এর চাইতে বরং আমরা গুপ্তহত্যার ব্যবস্থাপনাটা প্রাসাদের বাইরে করি যেখানে আমরা যা করতে চাই তা করতে পারার স্বাধীনতা আমাদের অনেক বেশি থাকবে। প্রাসাদের মধ্যে কাজটা তোমাকে অনেক সূক্ষ্মভাবে করতে হবে কিন্তু তোমার খুড়তুতো ভাই যা ষণ্ডা-মার্কা, ওকে ওভাবে হত্যা করা খুব মুশকিল।” শকুনি বলে চললেন, “কথা মনের ভাব প্রকাশ করার জন্য নয় – বরং কথা তোমার মনে কী আছে সেটা লুকোনোর জন্য। ভীমের সাথে বন্ধুত্ব করো। ওকে ভালোবাসো। ওর সাথে লড়াই করতে যেও না – ওকে আলিঙ্গন করো। ওকে চোখ রাঙিও না – ওকে দেখে হাসো। ও যেরকম বুদ্ধু – এতেই গলে যাবে।”

একমাত্র সহদেব, যে ওদের মধ্যে সবচেয়ে বিচক্ষণ, তিনিই কেবল এর মধ্যে না পড়ে নিজের দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।

এইভাবে দুর্যোধনের মত একজন সাহসী ও নির্ভীক মানুষ, যার মধ্যে কোনো দ্বিচারিতা ছিল না - একজন কুচক্রী হয়ে উঠলেন। সে সবসময় রাগ, ঈর্ষা, ও ঘৃণায় ভরে থাকতো কিন্তু প্রতারণার ছলাকলা তাঁকে শকুনিই শিখিয়েছিলেন। কাজেই দুর্যোধন পাঁচ ভাইয়ের সাথে - বিশেষ করে ভীমের সাথে বন্ধুত্ব করে ফেললেন। তাঁরা সকলে মনে করলেন যে দুর্যোধনের সত্যিই অন্তরের পরিবর্তন ঘটেছে এবং সে সত্যিই তাদের ভালোবাসে। দলের মধ্যে সবচেয়ে বিচক্ষণ সহদেবই কেবল এতে গলে না গিয়ে নিজের দূরত্ব বজায় রেখেছিলেন।

এইভাবে সহদেব তাঁর জ্ঞান অর্জন করেছিলেন: একদিন বনের মধ্যে আগুনের চারপাশে বসে থাকার সময়ে তাঁদের পিতা পাণ্ডু ছেলেদের বলেছিলেন, “এই ষোল বছর ধরে আমি যে কেবল তোমাদের মায়েদের থেকে দূরে থেকেছি তাই নয়, আমি ব্রহ্মচর্যের সাধনাও করেছি - যা আমাকে প্রভূত অন্তর্নিহিত ক্ষমতা এবং অভাবনীয় অন্তর্দৃষ্টি, দূরদর্শিতা ও বিচক্ষণতা দিয়েছে। কিন্তু আমি কোনও গুরু নই। আমি জানি না কীভাবে এই সবকিছু তোমাদের মধ্যে সঞ্চারিত করা যায়। তবে যেদিন আমি মারা যাব, তোমাদের যা করতে হবে তা হল - আমার মাংসের একটি টুকরো নিয়ে সেটিকে খেয়ে ফেলতে হবে। আমার মাংসকে যদি তোমরা নিজের দেহের অংশ করে নাও তাহলে কোনো প্রচেষ্টা ছাড়াই আমার অর্জিত জ্ঞান তোমরা পেয়ে যাবে।”

সহদেবের প্রজ্ঞা

যখন পাণ্ডু মারা গেলেন এবং তাঁর শবদাহ হচ্ছিল, আবেগের বশবর্তী হয়ে প্রায় সকলেই এবিষয়ে বেমালুম ভুলে গিয়েছিলেন। একমাত্র সকলের ছোট, গভীর চিন্তাশীল সহদেব, যখন একটা পিঁপড়েকে পান্ডুর মাংসের একটা ছোট্ট টুকরো বয়ে নিয়ে যেতে দেখলেন, তাঁর মনে পড়ে গেল তাঁর পিতা কী বলেছিলেন। তিনি ওই পিঁপড়ের থেকে মাংসের ছোট্ট টুকরোটা নিয়ে খেয়ে ফেলেন। তাঁর প্রজ্ঞা ও পরাক্রম বেড়ে উঠতে থাকে। তিনি রাজাদের মধ্যে একজন ঋষি হয়ে উঠতে পারতেন কিন্তু কৃষ্ণ দেখলেন যে এই প্রজ্ঞা নিয়তির প্রবাহকে থামিয়ে দেবে। সেইজন্য তিনি হস্তক্ষেপ করলেন এবং একসময় সহদেবকে বললেন, “আমার আদেশ: তোমার প্রজ্ঞা কখনও প্রকাশ করবে না। কেউ যদি তোমায় কোনো প্রশ্ন করে, আরেকটা প্রশ্ন দিয়েই সবসময় তার উত্তর দেবে।”

তখন থেকে সহদেব সবসময় প্রশ্ন দিয়েই প্রশ্নের উত্তর দিতেন, যেটা বোঝার মতো জ্ঞান খুব কম লোকেরই ছিল। যাঁরা বুঝতে পারতেন তাঁরা দেখতে পেতেন তিনি কত জ্ঞানী। যাঁরা বুঝতেন না তাঁরা ভাবতেন যে তিনি কেবল সব ব্যাপারে দ্ব্যর্থতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছেন। এইগুলো সব জমে জমে “সহদেবের প্রজ্ঞা” নামে একটা গোটা শাস্ত্র গড়ে ওঠে। এমনকি আজও দক্ষিণ ভারতে কেউ যদি খুব জ্ঞানী হওয়ার ভান করে লোকে বলে, “ও সহদেবের ভান করছে।” এর কারণ, লোকে মনে করেন যে তিনি প্রশ্নের মাধ্যমে উত্তর দিয়ে জ্ঞানী হওয়ার ভান করতেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি কৃষ্ণের নির্দেশ মান্য করছিলেন - যে তিনি কখনও তাঁর জ্ঞান প্রকাশ করবেন না এবং প্রশ্নের উত্তর সবসময় প্রশ্ন দিয়েই দেবেন যাতে তিনি কী বলতে চাইছেন সেটা বোঝার মত জ্ঞান না থাকলে লোকে বুঝতে না পারে যে তিনি তাদের উত্তর দিচ্ছেন।

একটি বিষাক্ত ভুল

একমাত্র সহদেবই দুর্যোধনের মনের ভেতরটা দেখতে পেতেন এবং তিনি দেখেছিলেন নির্ভেজাল বিষ। অন্য চার ভাই তাঁর প্রতি অত্যন্ত প্রেমমুগ্ধ ছিলেন। দুর্যোধন তাঁদের ওপর উপহার বর্ষাতে থাকতেন। যে উপহারটা ভীমের সত্যিই পছন্দ, তা হল খাবার। ভীম যত খেতে চাইতেন দুর্যোধন তাঁকে তত খাবার খাওয়াতেন। ভীমের পেটুকবৃত্তি এমনই ছিল যে - যে মুহূর্তে তাঁর সামনে খাবার পরিবেশন করা হত তিনি আর সমস্তকিছু ভুলে যেতেন। যে তাঁকে খাবার দিত, সেই ছিল তাঁর বন্ধু। তিনি যেন চিরক্ষুধার্ত ছিলেন, খেয়ে খেয়ে তিনি আরও বিশাল হয়ে উঠতে লাগলেন।

একদিন দূর্যোধন একটা পিকনিক করার প্রস্তাব দিলেন। শকুনি খুব যত্ন করে মতলবটা আঁটলেন। নদীর তীরে প্রমাণকোটি বলে একটি জায়গায় তাঁরা একটা মণ্ডপের ব্যবস্থা করলেন। তাঁরা সকলে সেখানে গেলেন এবং প্রচুর পরিমাণে খাবার পরিবেশন করা হল। দূর্যোধন নিপুণ নিমন্ত্রণকর্তার ভূমিকা পালন করে গেলেন। তিনি পাণ্ডব ভাইদের প্রত্যেকের কাছে গিয়ে নিজের হাতে তাঁদের খাওয়ালেন। বাকি সকলে মিলে যে পরিমাণ খাবার খেলেন, একা ভীমকে সেই পরিমাণ খাবার দেওয়া হল। প্রত্যেকেই খুব উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে উপভোগ করলেন। বোকারা বশীভূত হয়ে গিয়েছিল - কেবলমাত্র সহদেব এক কোণায় বসে সব লক্ষ্য করছিলেন।

প্রতারণার এমনই ধরন – সবকিছু অতিরিক্ত মাত্রায় করার চেষ্টা করে।

মিষ্টান্ন পরিবেশনের সময় যখন এল, ভীমকে একথালা ভর্তি মিষ্টি পরিবেশন করা হল। এতে এমন এক বিশেষ ধরণের বিষ মেশানো ছিল যেটা ধীরে ধীরে কাজ করতে শুরু করবে। ভীম থালার সব মিষ্টিই খেয়ে ফেললেন। তারপর তাঁরা সবাই মিলে নদীতে গেলেন। সাঁতার কাটলেন এবং অনেক খেলাধুলো করলেন। এক সময় ভীম জল থেকে উঠে এসে নদীর পাড়ে শুয়ে পড়লেন। বাকিরা সবাই হৈ-হুল্লোড় ও গল্পগুজব করতে মণ্ডপে ফিরে গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর দূর্যোধন নদীতীরে ফিরে গেলেন এবং অর্ধচেতন অবস্থায় ভীমকে দেখতে পেলেন। তিনি ভীমের হাত-পা বেঁধে তাঁকে নদীতে ফেলে দিলেন। ভীম এমন একটা জায়গায় তলিয়ে গেলেন যেটা ছিল বিষধর সাপে ভর্তি।

সাপগুলো তাঁকে অজস্রবার দংশন করল এবং তাদের বিষ, ইতিমধ্যেই ভীমের ভেতরে যে বিষ ঢুকেছিল তার বিষক্ষয়ী হিসেবে কাজ করতে লাগল। দক্ষিণ ভারতীয় সিদ্ধ বৈদ্যতে এটা একটা সাধারণ জ্ঞান যেখানে বিষ দিয়েই বিষ তোলা হয়, আধুনিক চিকিৎসায় টীকাগুলোও যেভাবে কাজ করে থাকে। বিষক্ষয়ীর প্রভাব শুরু হওয়ার পর এটা ধীরে ধীরে তাঁকে সঞ্জীবিত করে তুললো। সাপেরা যখন এটা দেখল, তারা তাঁকে তাদেরই একজন বলে গ্রহণ করে নিল। বায়ু-পুত্র এই বালকটিকে নাগরাজ একান্তে বললেন, “দেখো, তোমাকে বিষ দেওয়া হয়েছিল। কী ভাগ্যি ওরা তোমায় নদীতে গড়িয়ে দিয়েছিল। ওরা যদি তোমায় নদীর পাড়ে ফেলে রাখত, এতক্ষণে তুমি মারা যেতে।”

প্রতারণার এটাই ধরণ – সবকিছু অতিরিক্ত মাত্রায় করার চেষ্টা করে। ভীমকে নদীর পাড়ে ফেলে রাখলেই সে মারা যেত, কিন্তু ওরা কোনো ঝুঁকি নিতে চায়নি, তাই দুর্যোধন তাঁকে গড়িয়ে নদীতে ফেলে দেন এবং তার ফলে তিনি যেটা চেয়েছিলেন ঠিক তার উল্টোটা ঘটে। নাগেরা ভীমকে বললেন, “আমরা তোমাকে এমন এক অমৃত দেব যার বিষয়ে এই অঞ্চলের বাইরে পৃথিবীর আর কেউ জানে না।” তারা নানারকমের বিষ, পারদ ও বিশেষ ধরণের কিছু ওষধি গাছ-গাছড়া দিয়ে একটা সংমিশ্রণ তৈরি করলেন। এটা আজ দক্ষিণ ভারতে 'নব পাষাণ' বা ন’টি প্রাণঘাতী বিষ বলে পরিচিত যা ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

নব পাষাণ তৈরি করতে বিশেষ যত্ন লাগে – কোনও উপাদান এক ফোঁটা বেশি বা অন্য কোন উপাদান এক ফোঁটা কম পড়লে সেটা একজন মানুষকে মেরে ফেলতে পারে। তারা খুব যত্নসহকারে অমৃতটি বানিয়ে ভীমকে দেয়। সেটা খাওয়ার পরে তাঁর শক্তি প্রায় অতিমানবিক স্তরে পৌঁছে যায়। ইতিমধ্যে অন্য চার ভাই খেয়াল করেন যে ভীম নিরুদ্দেশ এবং তাঁরা পাগল-প্রায় হয়ে ওঠেন। তাঁরা উপলব্ধি করেন যে তাঁদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে কিন্তু এটা তাঁরা খোলাখুলিভাবে প্রকাশ করতে পারছিলেন না কারণ দূর্যোধনকে দেখে মনে হচ্ছিল যে তিনিও খুব ভেঙে পড়েছেন। ভীমকে খোঁজার ভান করে তিনি দৌড়োদৌড়ি করছিলেন আর চিৎকার করে কেঁদে বলছিলেন, “আমার আদরের ভাইটি কোথায় গেল? আমার একমাত্র সঙ্গী!’’ সহদেব বললেন, “ওরা ওকে শেষ করে দিয়েছে।” তারা যখন বুঝলেন যে উপহার ও খাবার দিয়ে তাঁদের মন ভোলানো হয়েছিল আর এজন্যেই তাঁরা তাঁদের ভাইকে হারিয়েছেন- চার ভাই চরম লজ্জা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেলেন। তাঁরা তাঁদের মা কুন্তীকে যাকিছু ঘটেছিল সব বললেন।

ভীমের প্রত্যাবর্তন

কুন্তী ধ্যানে বসলেন এবং তিন দিন ধ্যানে ডুবে থাকলেন। তারপর তিনি বললেন, “আমার ছেলে ভীম মারা যায়নি; তার খোঁজ করো।” চার ভাই ও তাঁদের বন্ধুবান্ধব সারা জঙ্গল চষে ফেললেন, নদীতে তল্লাশি করলেন – তাঁরা সব জায়গায় খুঁজলেন, কিন্তু কোথাও তাঁকে পাওয়া গেল না। ক্রমে তাঁরা হাল ছেড়ে দিলেন। ভীম যে জীবিত আছেন – নিজের এই দূরদৃষ্টিকে কুন্তী সন্দেহ করতে লাগলেন এবং তাঁরা ভীমের চোদ্দতম দিনের পারলৌকিক কর্মের জন্য প্রস্তুত হলেন। দূর্যোধন ভীমের স্মরণে বিরাট এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন। প্রথা অনুসারে চোদ্দতম দিনে শোকভঙ্গের জন্য তিনি রাঁধুনি ভাড়া করে এক বিশাল ভোজের আয়োজন করলেন। মনে মনে তিনি উদযাপন করছিলেন – বাইরে তিনি প্রকাশ করছিলেন শোক।

পাঁচভাই সতর্ক হয়ে পড়লেন এবং প্রাসাদের মধ্যে তাঁদের নিজেদের লোকজন নিয়ে এসে তাঁরা নিজস্ব প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে শুরু করলেন।

ভীম প্রাসাদে ফিরে এলেন, তার মা ও ভাইদের আনন্দের সীমা নেই। দূর্যোধন ও তাঁর ভাইয়েরা তো এটা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না, আর শকুনি আতঙ্কিত হয়ে পড়লেন। উনি বুঝে উঠতে পারছিলেন না যে ভীম আদৌ জীবিত - নাকি সে কোনো প্রেতাত্মা! ভীম একটা তাণ্ডব শুরু করতে যাবেন, ঠিক তখনই বিদুর এসে তাঁদের পরামর্শ দিলেন, “তোমাদের মধ্যেকার শত্রুতা প্রকাশ্যে আনার সময় এটা নয়। এখনও পর্যন্ত ওরা গোপনে শত্রুতা করার চেষ্টা করছে, যার অর্থ তোমাদের জন্য এখনও কিছু নিরাপদ জায়গা আছে। তোমরা যদি শত্রুতা প্রকাশ করে ফেল, ওরা খোলাখুলি প্রাসাদের মধ্যেই তোমাদের মেরে ফেলবে। তোমরা মাত্র পাঁচজন। আর ওরা একশোজন এবং সাথে গোটা একটা সেনাবাহিনী।”

ভীম এবং তাঁর ভাইয়েরা নিজেদের ক্রোধ সম্বরণ করলেন। নাগলোকে চোদ্দ দিন কাটানোর পর, অমৃতটা তাঁকে শক্তিশালী করে তুলেছিল বটে কিন্তু সেইসঙ্গে এটা তাঁকে প্রচণ্ড ক্ষুধার্তও করে তুলেছিল। ভীম যখন দেখলেন যে বিরাট এক ভোজের প্রস্তুতিপর্ব চলছিল কিন্তু তারপর যাঁকে মৃত বলে অনুমান করা হয়েছিল সেই তিনিই যখন ফিরে এলেন, তাঁরা সেই কাজটা ফেলে চলে যান। তখন তিনি সেখানে যত কাটা সবজি পড়েছিল সবগুলোকে একটা কড়াইতে দিয়ে একটা পদ রান্না করলেন। আর্য সংস্কৃতিতে একটা নিয়ম আছে যে কিছু সবজিকে একসাথে মেশানো হয় না, কিন্তু ভীম সবকিছু একসঙ্গে দিয়ে একটা পদ তৈরি করলেন। এটা এখনও দক্ষিণ ভারতের কোন কোন অংশে একটি প্রিয় পদ, ওখানে এটাকে বলা হয় আভিয়াল- আভিয়াল মানে মিশ্রণ।

দু’পক্ষের মধ্যে শত্রুতা বাড়তে থাকলো। পাঁচভাই সতর্ক হয়ে পড়লেন এবং প্রাসাদের মধ্যে তাঁদের নিজেদের লোকজন নিয়ে এসে তাঁরা নিজস্ব প্রতিরক্ষা গড়ে তুলতে শুরু করলেন। এতদিন তাঁরা প্রাসাদের ষড়যন্ত্র বুঝে উঠতে পারেননি – তাঁরা ছেলেমানুষের মত আচরণ করছিলেন। কিন্তু এবার রাজত্বের জন্য তাঁরা এক গুরুতর যুদ্ধে প্রবেশ করলেন।

চলবে...

More Mahabharat Stories

Editor's Note: A version of this article was originally published in Isha Forest Flower, March 2016.