ঈশ্বরের পথে - মা চন্দ্রহাসা

১৯৯৫ সালে ব্রহ্মচর্যে দীক্ষিত হন এবং ২০০৩ সালে সন্ন্যাসে, মা চন্দ্রহাসা একদম শুরু থেকে ঈশার সঙ্গে আছেন। এখানে তিনি আমাদের সাথে কিছু অকপট মুহূর্ত ও কিছু গভীর রূপান্তরমূলক ঘটনা ভাগ করছেন যা তাঁর আধ্যাত্মিক যাত্রাকে রূপায়িত করেছিল।
isha blog article | On the Path of the Divine - Maa Chandrahasa
 

সন্ন্যাস, আমি?

on-the-path-of-the-divine-maa-chandrahasa-maa-offering-flowers-to-sadhguru

মা চন্দ্রহাসা : "আমি সন্ন্যাসী হতে চাই," একদিন গোটা হোলনেস ক্লাসের সামনে উঠে দাঁড়িয়ে আমি ঘোষণা করলাম, যারা আমায় জানত সম্ভবত সবাইকে চমকে দিয়ে। আমি নিজেও আশ্চর্য হয়েছিলাম যে আমি এটা বলেছি- কারণ আশেপাশের সকলের সাথে বা সবকিছুর সাথে আমার গভীর বন্ধন তৈরীর প্রবণতা ছিল। আমার এই বৈশিষ্ট্যটি হোলনেস প্রোগ্রামে প্রকাশ পেয়েছিল।

এরকম একটা ঘটনা ঘটে, যেখানে সদগুরু হল ঘরে একটি সাপ নিয়ে এসে জিজ্ঞেস করলেন, "কেউ কি এই সাপটার যত্ন নিতে চাও? ও মারা যাচ্ছে। তোমাদের মধ্যে কেউ যদি ওকে কয়েক দিন খাওয়াতে পারো, ও আরো কিছুদিন বাঁচতে পারে।"

তিনি ঐ সাপটাকে ক্যাকটাস বাগানের (ঈশা যোগ কেন্দ্রে) কাছে একটা গাছের নীচে একটা গর্ত থেকে পেয়েছিলেন। এটা ছিল ৬ ফুট লম্বা, আর আমাদের বেশিরভাগই ওর কাছে যেতেই ভয় পাচ্ছিলাম, যত্ন নেওয়া তো দূরের কথা।

কিছুক্ষণের জন্য সবাই নীরব। "আমি এটা করব," কিছু চিন্তা না করেই আমি বলে উঠলাম। আমার কাছে এটা এরকম ছিল - যদি সদগুরু কিছু করতে বলতেন আর কেউ উৎসাহ না দেখাত, তখন আমি সেটা করতে চাইতাম, সেটা যাই হোক না কেন। জীবনে এর আগে আমি কোনোদিনও সাপ ধরিনি। কিন্তু সদগুরু ওটাকে আমার কাছে দিলেন, আর আমি একটা ৬ ফুটের গোখরো সাপ আমার হাতে জড়িয়ে ধরলাম। "যদি ২-৩ দিন পরে 'ও' তোমার হাত থেকে খাওয়া বন্ধ করে দেয়, ওকে জঙ্গলে ছেড়ে দিও," তিনি নির্দেশ দিলেন।

ও এমন একটা গোবেচারা, ঘুমন্ত সাপ ছিল। আমি ওকে একটা কাপড়ের থলেতে ভরে ক্লাসের মধ্যে ঝুলিয়ে রাখতাম। কিছু হোলনেস অংশগ্রহণকারী ভীষণ ভয় পেয়ে গেল, আর আমি যদি ওকে হল থেকে না সরাই তবে ঐ সাপটা শুদ্ধু আমাকেও বাইরে বের করে দেবে বলে হুমকি দিয়েছিল। সদগুরু ওদের প্রতিক্রিয়ায় খুব আমোদিত হতেন আর তিনি তাদের আরোও ভয় পাইয়ে দিতেন এই বলে যে, "রাত্রে ও আসবে আর তোমাদের সাথে ঘুমাবে!" আমরা সাপটার মুখের মধ্যে পাখির ডিম পুরে দিতাম আর ওকে ছোট ছোট ব্যাঙ আর কীট খেতে দিতাম। প্রথম দুদিন ও কিছুটা খেল, কিন্তু তৃতীয় দিনের পরে ও সবকিছুই মুখ থেকে বের করে ফেলে দিতে শুরু করল। তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও, ভারাক্রান্ত মনে আমরা ওকে জঙ্গলে ছেড়ে দিলাম।

হোলনেস থেকে সন্ন্যাস পর্যন্ত, আমি মনে করি এই পথটা ছিল জীবনের সাথে গভীর ও নির্বিচারভাবে সম্পর্কিত থাকার অর্থ কি, তা শেখা।

কয়েকদিন পর একদিন বিকেলবেলা ধানকান্ডি (গ্রাম) শিশুদের একটা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের জন্য আমি টেপ রেকর্ডারে একটা সুর বাজাচ্ছিলাম। দেখলাম সদগুরু এবং আরো কয়েকজন একসাথে হেঁটে যাচ্ছেন আর তাঁদের মধ্যে একজন তাঁর হাতে একটা সাপ আছেন। "উনি সাপটাকে ধরে আছেন কেন? কিছু গোলমাল হয়েছে!" আমার মন বলল। আমি টেপ রেকর্ডারের বিষয়টা ছেড়ে দিয়ে দৌড়ে দেখতে গেলাম কি হয়েছে - এটা তো ঐ একই সাপ আমি যার যত্ন নিয়েছিলাম, কিন্তু ও এখন মৃত। ওকে মৃত অবস্থায় ঐ একই জায়গায় পাওয়া গেছে যেখানে সদগুরু আগে ওকে পেয়েছিলেন।

"দয়া করে আমায় সাপটা ধরতে দিন," আমি মিনতি জানাই। ওরা আমার কাছে ওকে দিতে চাইছিল না। অনেক জোর করার পর আমায় ওকে ধরতে অনুমতি দিল। আমি যখন ওকে ধরলাম, প্রচুর কেঁদেছিলাম। ও যখন জীবিত ছিল তখনের থেকে একদম অন্যরকম লাগছিল। যেখানে ওকে পাওয়া গিয়েছিল ঐ একই জায়গার কাছাকাছি আমরা ওকে কবর দিয়েছিলাম। আমার মনে হচ্ছিল যেন আমি আমার নিজের সন্তানকে কবর দিয়েছি, আর কিছুক্ষণের জন্য ঐ জায়গা থেকে আমি সরে যেতে পারছিলাম না।

তো আমি এরকম ছিলাম।

এক বছর আগেও আমার ভাব- স্পন্দন প্রোগ্রামের সময় সদগুরুর সামনে কিছু ঘোষণা করার জন্য আমি উঠে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। সেই সময়ে এটা ছিল আমার বিয়ে করা ও একটি বড় বাড়ির বাসনা সম্বন্ধে। আমি এমনকী কেমন স্বামী চাই আর আমার কল্পনা করা বাড়ির প্রতিটি ইঞ্চি বর্ণনাও করেছিলাম। কাজেই এটা সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল যে এক বছরের মধ্যে আমি ১৮০ -ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছিলাম এবং তপস্বীর পথে হাঁটতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বলে মনে হচ্ছিল। তবে সত্যটা ছিল যে আমি জ্বলছিলাম।

"আমার মৃত্যুর আগে আমায় অবশ্যই কাবি বস্ত্র (একজন সন্ন্যাসীর বস্ত্র) পেতে হবে তাঁর থেকে," ঐ সময় মাঝে মাঝেই আমি একথা ভাবতাম। আমার প্রচন্ড উৎপাতে অনেক হোলনেস অংশগ্রহণকারী এবং এমনকি সদগুরুও প্রায়ই আমাকে ব্রহ্মচর্যের কথা থেকে বের করে আনার চেষ্টা করতেন। যাই হোক, আমি দৃঢ়প্ৰতিজ্ঞ ছিলাম এবং সদগুরু মেনে নিয়েছিলেন। আমি ১৯৯৫ সালে ঈশা ব্রহ্মচারীদের প্রথম দলে দীক্ষিত হয়েছিলাম এবং সন্ন্যাস প্রাপ্ত হয়েছিলাম ২০০৩ সালে ঈশা সন্ন্যাসীদের প্রথম দলে। সন্ন্যাস দীক্ষার পরে যখন আমি সদগুরুর থেকে কাবি বস্ত্র গ্রহণ করছিলাম -আমি কাঁপছিলাম,। "আমি কি সত্যিই এই অনন্য সম্মানের যোগ্য?" - আমি ভাবছিলাম, যখন আমি তাঁর থেকে পবিত্র বস্ত্রটি নিচ্ছিলাম।

হোলনেস থেকে সন্ন্যাস, আমি মনে করি এই পথটা ছিল জীবনের সাথে গভীর ও নির্বিচারভাবে সম্পর্কিত থাকার প্রকৃত অর্থ কি, তা শেখা।

হোলনেসে চড়াই আরোহণ

..প্রক্রিয়াটির তীব্রতায় আমি গড়াগড়ি খেতাম, হাত- পা ছুঁড়তাম এবং এমনকি চালাঘরটির ছাতের খুঁটি ধরে উঠে পড়তাম।

হোলনেস চলাকালীন আমি সবসময় চরমে থাকতাম। বহুদিন সেশন চলাকালীন আমি সদগুরুর পায়ের কাছে বসতাম আর কখনো এমনকি তাঁর পা ধরে থাকতাম। যখন আমি তাঁর পায়ের কাছে থাকতাম না, যেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আমরা যাচ্ছিলাম তার তীব্রতায় আমি গড়াগড়ি খেতাম, হাত-পা ছুঁড়তাম, এমনকী যে খুঁটি দিয়ে কুঁড়েঘরের চালকে ভিতর থেকে ঠেকনা দেওয়া থাকতো- তাতে চড়ে যেতাম। কার্যত, যখন পদ্ধতি শেষ হয়ে যেত এবং সদগুরু হল ছেড়ে বেরিয়ে যেতেন, আমার ঐ চালের খুঁটি থেকে নামতে মুশকিল হত - কারণ ততক্ষণে আমি সাধারণ অবস্থায় ফিরে আসতাম।

কখনো কখনো সদগুরু তাঁর অধ্যাত্মিক উপস্থিতির মাধ্যমে আমায় চমকে দিতেন। "আমি ২৪ ঘণ্টা তোমাদের সাথে আছি," হোলেনসের দ্বিতীয় মাসে একদিন তিনি আমাদের বললেন। "তিনি তো বাড়ি ফিরে যাবেন,তাই না? কি করে তিনি ২৪ ঘণ্টা আমাদের সাথে থাকতে পারেন?" আমার মন প্রশ্ন করেছিল। সেই রাতেই যখন আমি ঘুমোচ্ছিলাম, বিভূতির কড়া গন্ধে আমার ঘুম ভেঙে গেল। আমি ঘুমের ঘোরেই অবাক হ'লাম যে এটা কোথা থেকে আসছে! আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। ঐ একই গন্ধে আবার আমার ঘুম ভেঙে গেল। এরকম আরো ২-৩ বার হ'ল। "কে এত বেশি বিভূতি লাগিয়েছে যে এরকম গন্ধ বেরোচ্ছে?" আমি ভাবলাম। তারপর আমি বিভূতির গন্ধের উৎস খুঁজতে টর্চ লাইট নিয়ে ঘুমন্ত মানুষদের মুখের উপর ফেলে ঘুরে বেড়ালাম। কিন্তু আমি কিছুই খুঁজে পেলাম না, যা এটাকে ব্যাখ্যা করতে পারে। হতচকিত হয়ে আমি আবার ঘুমোতে চলে গেলাম।

পরের দিন সকালের সেশনে প্রথমেই আমি সদগুরুকে বিভূতির উৎস সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছিলাম। "আমাকে কেন জিজ্ঞাসা করছ? যাও তোমার টর্চ দিয়ে দেখো," আমাকে চমকে দিয়ে তিনি জবাব দিয়েছিলেন। 

একজন অনিচ্ছুক শিক্ষক

আমার কাছে ঈশা যোগা প্রশিক্ষণ দেওয়া একটি অতিন্দ্রিয় প্রক্রিয়া, কারণ আমি ছাড়াও এটা ঘটবে।

হোলনেসের দ্বিতীয় মাসে, সদগুরু শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য আমার নাম দিলেন। আমি মৃদু আপত্তি করলাম কিন্তু রাজী হয়ে গেলাম। যদিও আমি প্রশিক্ষণ পদ্ধতিটি উপভোগ করতাম এবং এক পর্যায়ে এতে একেবারে জড়িত ছিলাম, আরেক পর্যায়ে আমি খুব একটা বুঝতে পারতাম না যে কি ঘটছে। যখন অন্যরা দিনের পর দিন ঈশা যোগ ক্লাসের নানাবিধ দিক নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করতেন, আমার জন্য প্রশিক্ষণটি ছিল নৃত্যের মত। খোলাখুলি বললে, আমি সময়ে সময়ে বেশ দিশেহারা বোধ করতাম। যাই হোক, শেষে কোনোভাবে আমি ঈশা যোগ ক্লাস পরিচালনা করার যোগ্য হতে পেরেছিলাম এবং শিক্ষকের শাল গ্রহণ করেছিলাম। আমি আমার প্রথম সম্পূর্ণ ক্লাস ১৯৯৬ তে টাটাবাদ হলে নিয়েছিলাম। আমার জন্য ঈশা যোগ শেখানো একটা খুবই অতীন্দ্রিয় পদ্ধতি কারণ আমি ছাড়াও এটা ঘটবে।

সদগুরু ক্লাসের দায়িত্ব নিলেন

একবার এরকম হয়েছিল যে আমি একজন নতুন শিক্ষকের সাথে একটি ক্লাস সহ-শিক্ষণ করছিলাম। আমরা একজন স্বেচ্ছাসেবকের বাড়িতে থাকছিলাম, যেটা একই ভবনে ছিল- যেখানে ক্লাস হ'ত, কিন্তু এক তলা ওপরে। এক দিন আমি চাইছিলাম নতুন শিক্ষক স্বাধীনভাবে ক্লাস পরিচালনা করতে সক্ষম হোন, তো আমি তাঁর সেশন চলাকালীন ক্লাসের ভেতরে যাইনি এবং উপরতলার বারান্দায় ঘোরাঘুরি করছিলাম। বাইরের রাস্তায় কিছু গান বাজচ্ছিল। আমি একটা মনোহারী গান ধরে তার সাথে গুণগুণ করছিলাম। 

..আমি অবাক হয়ে গেছিলাম - সেদিনই আমি ঐ ফালতু সুরের সাথে পায়ে তাল দিচ্ছিলাম, যখন ঐ ভদ্রমহিলা সদগুরুকে আমার জায়গায় বসে থাকতে দেখেছিলেন। "এই মুহূর্তটি অনিবার্য", আমি মৃদু ভাবে জবাব দিয়েছিলাম। " তাহলে আপনিও এই মুহূর্তেই থাকুন মা", তিনি বললেন।

কিছুক্ষণ পর কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক দৌড়ে এসে আমায় ক্লাসের একটা পরিস্থিতি সামাল দিতে বললেন। মহিলা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে একজন ক্লাসের শক্তির পরিস্থিতির জন্য, নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে ভীষণরকম আছাড় খাচ্ছিলেন। তো আমাকে যেতেই হ'ল। ক্লাস আবার স্থির হলে সহ - শিক্ষক তাঁর পরিবর্তে আমায় সেশনটি নিতে মিনতি করলেন। কোনো উপায় না দেখে আমি গেলাম এবং শিক্ষকের চেয়ারে বসলাম। গানের পোকাটি তখনও আমার মাথায় ছিল এবং আমি অচেতনভাবে ওটা গুণগুণ করছিলাম। যখন অংশগ্রহণকারীরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ভাগ করছিলেন, আমি লক্ষ্য করলাম যে আমি ঐ সুরের সাথে পায়ের তাল দিয়ে চলেছি। ক্লাস শেষ হওয়ার পর একজন মহিলা উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি আমার জায়গায় সদগুরুকে চেয়ারে বসে থাকতে দেখেছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে যখন আমি সমাপ্তির আহ্বানের জন্য বসেছিলাম তখন তিনি চলে যান। এরকম অভিজ্ঞতা বিরল নয়, তাই ঐ সময়ে আমি এ ব্যাপারে আর বেশি কিছু ভাবিনি।

এক সপ্তাহ পরে যখন আমি আশ্রমে ফিরে আসি, যেইমাত্র আমি ত্রিকোণ ব্লকে (ভবন) প্রবেশ করি, সদগুরুর সাথে আমার দেখা হয়ে যায়। অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে তিনি একটি নির্দিষ্ট তারিখের উল্লেখ করেন এবং স্পষ্ট করে আমায় জিজ্ঞাসা করেন, "এই তারিখে সকালের সেশনে কোন ক্লাস (বিষয়ে) তুমি শিক্ষাদান করছিলে?" আমি হতচকিত হয়ে যাই -যেটা ছিল সেই দিন, যেদিন আমি ঐ অর্থহীন সুরের সাথে পায়ে তাল দিচ্ছিলাম, যখন ঐ মহিলাটি আমার জায়গায় সদগুরুকে বসে থাকতে দেখেছিলেন। "এই মুহূর্তটি অনিবার্য," আমি ভীত হয়ে উত্তর দিই। "তো তুমিও মুহূর্তে থাকো,মা," তিনি বলেছিলেন।

আমার গুরুর স্বপ্ন গ্রামে বহন করে নিয়ে যাওয়া

ভারতের গ্রামের দৃশ্য খুব মনোরম নয়: অপুষ্ট পুরুষ ও মহিলা কোটরগত চোখ নিয়ে শারীরিক সামর্থ্যের অতিরিক্ত পরিশ্রম করে চলেছে, রাস্তায় আবর্জনা ছড়ানো,খোলা জায়গায় মানুষজন মলত্যাগ করছে, এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রুগ্ন, অপরিচ্ছন্ন শিশুরা খেলে বেড়াচ্ছে। অস্বাচ্ছন্দ্যে তারা এতটাই অভ্যস্ত যে তাদের ক্লাসে নিয়ে আসাটাই সবচেয়ে কঠিন কাজ।

আমার অপার আনন্দ যে ১৯৯৭ সালে সদগুরু আমায় মহিলাদের কারাগারে ক্লাস পরিচালনা করতে পাঠিয়েছিলেন। এটা একদিকে একটা কঠোর পরীক্ষা ছিল, কিন্তু অন্য দিকে একটা অত্যন্ত পরিতৃপ্তির দায়িত্ব ছিল। আমি একবার কোয়েম্বাটুরে এক অনাথ আশ্রমে শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধীদের জন্য একটা ২১ - দিনের ক্লাস পরিচালনা করেছিলাম। ওগুলো আমার জীবনে সবচেয়ে মর্মস্পর্শী মুহূর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম। ২০০৩ সালে যখন সদগুরু আমায় তামিল নাড়ুর গ্রামগুলোতে অ্যাকশন ফর রুরাল রেজুভেনেশন' (এ. আর. আর.) এর ক্লাস করতে বললেন, তাঁর বার্তা ছিল: যাও আর ঐ গ্রামগুলোকে উজ্জীবিত করো। দেখো যে ওগুলো সবুজ এবং মানুষজন আনন্দিত ও স্বাস্থ্যবান হয়। তো প্রতিটি গ্রামে যেইমাত্র আমি প্রবেশ করেছিলাম- আমি মনে মনে দেখতে পেলাম যে সদগুরুর স্বপ্ন সত্যি হচ্ছে - যদিও এই স্বপ্ন পূরণ করা খুব সহজ ছিল না। আমি যা দেখলাম, ভারতের গ্রামগুলো খুব একটা সুন্দর দৃশ্য ছিল না: অপুষ্ট পুরুষ ও মহিলারা ঢোকা ঢোকা চোখে তাদের শারীরিক শক্তির বাইরে গিয়ে কাজ করে চলেছে, রাস্তাঘাট আবর্জনায় ভর্তি, লোকজন খোলা জায়গায় মলত্যাগ করছে এবং অপরিচ্ছন্ন ভাবে হাড় জিরজিরে ছোট ছোট বাচ্চারা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেলে বেড়াচ্ছে। তারা তাদের অস্বাচ্ছন্দ্যে এতটাই অভ্যস্ত ছিল যে তাদের ক্লাসে আনাই ছিল সবচেয়ে কষ্টকর ব্যাপার।

on-the-path-of-the-divine-maa-chandrahasa-arr-activity

প্রথম সপ্তাহে গোবিচেট্টিপালায়ামের স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তায় আমি ৪৫টি গ্রামের প্রায় ৫০০টি বাড়ীতে যাই এবং প্রধান ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ক্লাসে আমন্ত্রণ জানাই। বিভিন্ন গ্রাম থেকে এই ১২০ জন আথানীতে প্রথম ৬ - দিনের ক্লাসের জন্য নাম লিখিয়েছিলেন। তাঁরা আবার অন্য গ্রামবাসীদের নথিভুক্ত করার ক্ষেত্রে আমাদের সাহায্য করেছিলেন। একমাসের মধ্যেই আমি দিনে তিনটে বা কখনো চারটে ক্লাস পরিচালনা করছিলাম। ছ'মাসের মধ্যে আমি প্রায় ১০০টি ক্লাস নিয়েছিলাম কোনো সহ - শিক্ষক ছাড়াই ,শুধু কয়েকজন হাতে গোনা স্বেচ্ছাসেবকের সাহায্যে।

প্রথম ছ'মাসের জন্য আমার বাঁধাধরা দিনলিপি ছিল তিনটে ক্লাস পরিচালনা করা (সাধারণত আলাদা আলাদা গ্রামে), অন্যান্য গ্রামের বাড়ী বাড়ী গিয়ে মানুষদের আমন্ত্রণ জানানো এবং অবসর সময়ে কখনো মাঝরাত অবধি লোকেদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা শোনা। "তাঁরা নিজেদের সমস্যার কথা বড্ড বেশি বলেন, সদগুরু। আমার তাদের ব্যক্তিগত সমস্যার কথা শুনতে কষ্ট হয়," -আমি একবার সদগুরুকে বলেছিলাম।

"পরম্পরাগত পদ্ধতি যেমন গ্রামের চৌপল, যৌথ পরিবার, উৎসব ইত্যাদি যা তাদের একে অপরের কাছে আবেগ প্রকাশের সুযোগ করে দিত, দুর্বল হয়ে গেছে। এটা ওদের 'ভালো থাকার' জন্য ভালো যে ওরা তোমার সাথে ওদের অভিজ্ঞতা জানাতে পারছে। ওদের জানাতে দাও," তিনি বোঝালেন। আমিও দেখছিলাম যে গ্রামের অনেক মানুষ অবসাদ থেকে বেরিয়ে আসছে কেবল অভিজ্ঞতা জানানোর মাধ্যমে - তো আমি যেভাবে পারতাম নিজেকে তাদের কাছে সহজলভ্য রেখেছিলাম।

সদগুরুর আদেশমত আমি আলাদা আলাদা বাড়িতে যেতাম দুপুরের খাবারের জন্য। "যদি সম্ভব হয়, কেউ তোমাকে আহারের জন্য নিমন্ত্রণ করলে, তাকে না বলবে না," তিনি একবার বলেছিলেন। তারা গরীব, কিন্তু একজন সন্ন্যাসীকে সেবা করতে আকুল - তাই আমি যে খাবার খেতাম তা অনেক সময়েই যথেষ্ট পুষ্টিকর হত না। কিছু বাড়ীতে, যেখানে আমি তাদের ক্লাসের জন্য আমন্ত্রণ জানাতে গেছি - কিছু মহিলা ভদ্রতার খাতিরে আমায় খাবার প্রস্তাব দিতেন, এটা না ভেবেই যে আমি "হ্যাঁ" বলব। তারপর দেখা যেত যে যা খাবার তাদের আছে তা একদিনের বাসি বা দেওয়ার জন্য শুধু ভাত ও রসম - তো আমায় নিমন্ত্রণ করে তারা অনুতপ্ত হত। কিন্তু আমি তাদের সাথে আনন্দ সহকারে খেতাম এবং আমরা চিরকালের বন্ধনে বাঁধা পড়তাম।

গ্রামের মানুষদের সাথে থাকার অভিজ্ঞতার সমৃদ্ধি ভাষাতীত। তারা খুবই সরল কিন্তু গ্রহণশীল মানুষ। এটা সত্যি যে তাদের ক্লাসে উপস্থিত করার জন্য আমাকে অনেক কৌশল প্রয়োগ করতে হত কিন্তু একবার ক্লাসে চলে এলে একদম প্রথম দিনেই তারা স্থায়ী হয়ে যেত। দ্বিতীয় দিন থেকে তারা সদগুরুর সাথে গভীরভাবে সম্বন্ধ স্থাপন করত এবং ক্লাসের শেষে দেখা যেত তাদের বেশিরভাগই পুরোপুরি রূপান্তরিত হয়ে গেছে। তাদের অসচ্ছলতা ,তাদের ভালোবাসা আর তাদের রূপান্তর দেখা খুবই মুগ্ধকর। ঐ তিন বছর গ্রামের মানুষদের সাথে থেকে যা হয়েছে -তা অনেকরকম ভাবে নির্ধারণ করে, আমি আজকে যা। 

এখানে আমি কয়েক ঝলক ভাগ করছি:

তিনি ১০ বছর পরে কাজে ফিরে গেছিলেন

দশ বছর আগে হয় একটা নারকেল বা নারকেল পাতা (আমার স্পষ্ট মনে নেই) একজন লোকের ঘাড়ে পড়ে যায় এবং তিনি চলতে ফিরতে অক্ষম হয়ে যান। তখন থেকে তাঁর স্ত্রী পরিবারের জন্য দুবেলা খাবার জোগাতে কঠোর পরিশ্রম করতেন। তারপর একদিন তিনি ঈশা যোগ ক্লাসে যোগদান করেন এবং দ্বিতীয় দিনের পর থেকে তিনি বলেন যে তিনি ভাল হয়ে যাচ্ছেন এবং কাজে ফিরতে চান। আমি তাঁকে প্রথম দিকে ধীরে ধীরে এগোতে বলি কিন্তু পঞ্চম দিনের মধ্যে তিনি কাজে ফিরে যান। 

১০ দিনের অনুশীলন বাদ দেওয়া

এই চমৎকার মানুষটিকে দেখে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে যাই। আশির কাছাকাছি তাঁর বয়স এবং ভালো করে পা মুড়ে তিনি বসতে পারেন না, কিন্তু দশদিন যোগাভ্যাস না করতে পারার জন্য তিনি দুঃখিত।

ওখানে এক বৃদ্ধ দম্পতি ছিলেন যাঁদের আমি প্রায়ই দেখতে যেতাম। তাঁরা সদগুরুর প্রতি খুবই ভক্তিপূর্ণ ছিলেন এবং নিয়মিত তাঁদের সাধনা করতেন। সম্প্রতি, দশ বছর পর কিছু কাজের জন্য আমি ঐ গ্রামে ফেরত যাই এবং তাঁদের সঙ্গে আবার দেখা করতে যাই। সেই বৃদ্ধটি আমাকে নিতে ছুটে আসেন। ততদিনে তাঁর স্ত্রী মারা গেছেন। আমরা যখন গল্প করতে বসি, তিনি তাঁর স্ত্রীর অসুস্থতার কথা বলতে বলতে কেঁদে ফেলেন। তাঁর ছেলে পরে বলেছিলেন যে তিনি তাঁর স্ত্রীর বিষয়ে কেবল দুজন মানুষের সামনেই কেঁদেছিলেন : যে ডাক্তার তাঁর চিকিৎসা করছিলেন আর আমি। আমায় এত নাড়া দিয়েছিল যে তিনি আমার সাথে এতখানি খোলামেলা ছিলেন। তারপর তিনি বলতে শুরু করলেন, " আমি দুঃখিত, আমি দুঃখিত!" আমি তাঁকে জিজ্ঞাসা করি, কিসের জন্য তিনি দুঃখিত। "আমি আমার সাধনাএই সব বছরে নিয়মিত করেছি - এমনকি একদিনও বাদ দিইনি। কিন্তু ঐ দশ দিন যখন আমার স্ত্রী মরণাপন্ন ছিলেন আমি অনুশীলন করতে পারিনি।" আমি বাকরুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলাম এই অপূর্ব মানুষটিকে দেখে। তিনি প্রায় ৮০ বছর বয়সী আর পা মুড়ে ঠিক করে বসতেও পারেন না, তবুও তিনি দশ দিন অনুশীলন বাদ যাওয়ায় দুঃখিত বোধ করছেন। আমার নিজেকে তুচ্ছ মনে হলো। 

বাইরে ক্লাস করা

একবার ক্লাসে একজন মাতাল লোক এসেছিলেন এবং আমি প্রথম দিন তাঁকে প্রবেশ করার অনুমতি দিইনি। তিনি হলের বাইরে বসে ক্লাস শুনছিলেন এবং জানালা দিয়ে অনুশীলনগুলো দেখছিলেন। তিনি বাইরে বসে নিজে নিজেই অনুশীলনগুলো করেছিলেন। পরের দিন তিনি সংযত ভাবে ক্লাসে আসেন। "আপনি আমাকে অস্বীকার করতে পারেন না। আমি গতকাল সারা ক্লাস বসেছিলাম,'' তিনি মিনতি করেন। 

তাঁর আগ্রহ দেখে খুশি হয়ে আমি তাঁকে ভেতরে যাওয়ার অনুমতি দিই। মনে হচ্ছিল বহু বছর পর ঐ প্রথম ছদিন তিনি পান করেননি। দীক্ষার পর অভিভূত হয়ে তিনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেঁদেছিলেন। তিনি অনুশীলন জারি রেখেছিলেন এবং অবশেষে মদ্যপানের আসক্তি থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে এসেছিলেন। তিনি কাজে ফিরে যান এবং তাঁর স্ত্রী, যিনি তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তাঁর সাথে থাকার জন্য ফিরে এসেছিলেন। 

আমার গুরুর নির্দেশের বাইরে যাওয়া

ছ'মাস পরে আমার সাথে অন্যান্য শিক্ষকরাও যোগ দিয়েছিলেন এবং আমরা আরো অনেক গ্রামে ছড়িয়ে পড়তে পেরেছিলাম। গ্রামের স্বেচ্ছাসেবকরা এবং মানুষরা এত স্নেহশীল আর আস্থাবান ছিলেন যে ২০০৬ সালে যখন আমরা ৮ লক্ষ চারাগাছ লাগানোর জন্য গিনিশ রেকর্ড জিতি, আমরা ৯০,০০০ চারাগাছ কেবলমাত্র ইরোড জেলাতেই লাগিয়েছিলাম - মোটের প্রায় ১০% এর কাছাকাছি। এই ফলাফলে, সদগুরুর কোনো নির্দেশ ছাড়াই আমি নিজের ওপর নিয়েছিলাম যে সদগুরুর জন্মদিনে উপহারস্বরূপ ৫০ লক্ষ গাছ লাগাব। এটা করতে আমি শহর থেকে শহরে ছুটে যাই। অবশ্যই এটা হয়নি। উল্টে আমি আমার শরীর এত বেশি খারাপ করে ফেলি যে সদগুরু আমাকে সেরে ওঠার জন্য আশ্রমে ফিরতে বলেন। আমি আশ্রমে থেকেই এ.আর.আর. -এর কাজ চালিয়ে যাই।

শীঘ্রই চেন্নাই গ্রামোৎসবম্ ঘোষিত হয় এবং আমরা শয়ে শয়ে খেলোয়াড়দের আমন্ত্রণ জানাই। তাঁর ওপর প্রায় হাজারজন গ্রামবাসী তাঁদের নিজেদের খরচে আসতে চাইছিলেন। কিন্তু একজনকে চেন্নাইতে থাকতে হত সমস্ত আয়োজন, খেলা ইত্যাদি দেখাশোনা করার জন্য। যেহেতু গ্রামের মানুষদের সাথে আমার খুব ভাল সম্পর্ক ছিল আমি সদগুরুকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম যেতে পারি কি না। "গ্রামোৎসবম্ হবে মা। তুমি এখানে থাকো," তিনি বলেছিলেন। কিন্তু আমি যখন জোর করেছিলাম তিনি বলেছিলেন, "আচ্ছা,যাও! কিন্তু পরে তোমার স্বাস্থ্যের বিষয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করবে না," এই বলে তিনি চলে যান।

গ্রামোৎসবম্ চমৎকারভাবে হয়েছিল উপস্থিত ৫,০০,০০০ লোক নিয়ে। আমি এরকম একটা বড় অনুষ্ঠান আয়োজন এবং গ্রামবাসীদের দেখভাল করার তীব্রতা ভীষণভাবে উপভোগ করছিলাম। যাই হোক, আমার ফেরার পথে আমি এত অসুস্থ হয়ে পড়ি যে আমায় হাসপাতালে ভর্তি করতে হয় এবং একটি জরুরী অস্ত্রোপচার করতে সুপারিশ করা হয়। যাই হোক, সদগুরু অস্ত্রোপচারে না বলে দেন আর আমায় একটি নির্দিষ্ট পথ্যে রাখেন এবং কিছু সাধনা করতে দেন। যখন আমি ৪০ দিন পরে দেখাতে যাই, আমি সুস্থ ছিলাম। তবে আমি একটা গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছিলাম।

২০০৬ সালে আমি আশ্রমে সর্বক্ষণের জন্য ফেরত আসি এবং পরবর্তী দিনগুলোতে অক্ষয় এবং স্থানীয় কল্যাণমূলক ক্রিয়াকলাপের দেখাশোনা করি। প্রথমবার যখন মহিলাদের শিবাঙ্গ সাধনা দেওয়ার প্রস্তাব হয়েছিল, সদগুরু চাইছিলেন গ্রামের মহিলারাও এর থেকে উপকৃত হোন। তো আমি গ্রামগুলোতে ফিরে গিয়েছিলাম তাদের এই সাধনাটি গ্রহণ করতে এবং সমাপ্তি অনুষ্ঠানের জন্য আশ্রমে আসতে অনুপ্রাণিত করার জন্য। ২০১১ সালে থাইপুসমের দিনে প্রায় ১৪০০ জন মহিলা আশ্রমে এসেছিলেন। এটা দেখে আমি নিজের ভেতরই নৃত্য করছিলাম।

এখন আমি একটি ঈশা খামারের দেখাশোনা করি যেখানে আমি বিনা পুঁজিতে জৈবভাবে চাষ করি, একসাথে একাধিক ফসল ফলানোর কৌশল ব্যবহার করে - যেটা আমি প্রজেক্ট গ্রিনহ্যান্ড' এর কর্মশালায় শিখেছিলাম। আমি এত রোমাঞ্চিত হই যখন দেখি আমার ছোট্ট চারাগাছগুলো বেড়ে উঠছে আর আমি তাদের উৎপাদিত ফসল অক্ষয়ে পাঠাতে পারছি। এই কৌশলগুলো চমৎকার - আমি জৈব যোগান রূপে কেবল গোবর আর গোরুর মূত্র ব্যবহার করি আর কেবলমাত্র এক একর জমি থেকে গত মাসে আমরা ২.১ টন মুলো, ৬৫০ কেজি ধনে পাঠিয়েছি আর শীঘ্রই টমেটো আর ওকরাও তোলা হবে। আমি হাতে- কলমে একজন চাষী হওয়ার গৌরব অনুভব করতে পারি।

ভিতরের শক্তি নির্মাণের যাত্রা

আমি যেরকম ন্যাওটা, ছেলেমানুষ মেয়ে ছিলাম - এখন আমি সামাজিক পরিস্থিতি থেকে দূরত্ব অনুভব করি অথচ ২৫ বছর আগে যেমন ছিলাম ততটাই জড়িত থাকি।

on-the-path-of-the-divine-maa-chandrahasa-meditating-under-tree

একসময় একটা আঘাতের ফলে আমার ডান হাতে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছিলাম। আমি ছিলাম এরকম: যদি ডাক্তারকে একটা ক্ষততে কোনো জ্বালা করে এমন মলম দিতে হত, তাহলে আমাকে চারজন মিলে ধরে রাখতে হত। আমার যন্ত্রণার সহ্যক্ষমতা এত কম ছিল। তো স্বাভাবিকভাবে আমার হাতের এই ব্যথাটা যখন বাড়ে আমি সদগুরুর কাছে গিয়ে সাহায্যের জন্য মিনতি করি। তিনি এটা নিয়ে পুরোপুরি ঠাট্টা করেন আর আমায় বলেন কোনো ওষুধ না নিতে, এমনকী ব্যথা কমানোর ওষুধও না। অবস্থাটা বেড়ে ঘাড়ের স্পন্ডিলাইটিস হয়ে যায় এবং যন্ত্রণাটা সত্যিই অসহ্য হয়ে ওঠে। ডাক্তাররাও হতভম্ব হয়ে যায় যে এটার জন্য আমি কেন কোনো ওষুধ নিচ্ছিলাম না। যখন আমি আর এটা সহ্য করতে পারিনি, তৃতীয় বারের জন্য আমি সদগুরুর কাছে যাই। সদগুরু আবার হাসেন কিন্তু এবার ভিজ্জি দিদি আমায় সমর্থন করেন এবং সদগুরু আমাদের আবেদন মেনে নেন। তিনি আমাকে কিছু সাধনা দেন আর কিছুদিন পরে ঐ ব্যথাটা সম্পূর্ণ উধাও হয়ে যায়। পরে আমি অবাক হয়ে গিয়েছিলাম যে কেন তিনি এই সাধনাটা আগে আমায় দেননি। কিন্তু পরে আমি উপলব্ধি করেছিলাম যে ঐ ঘটনার পর থেকে আমার ব্যথার সহ্যক্ষমতার একটা পরিবর্তন ঘটেছে। এরকমভাবে তিনি আমায় অনেক সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করেছেন যেগুলো সচরাচর আমায় আটকে রাখত।

আমার রূপান্তরের আসল পরীক্ষা ছিল যখন আমি আমার মায়ের মৃত্যুসংবাদ পেয়েছিলাম। আমি আহত হয়েছিলাম, তাও এটা থেকে দূরত্ব বোধ করছিলাম এবং আমার নিয়মমাফিক শিক্ষাদানের সূচি সুন্দর ভাবে অব্যাহত রেখেছিলাম। তখনই আমি এটা উপলব্ধি করি যে আমার মধ্যে কতটা পরিবর্তন হয়েছে। আমি এখন অনেকরকম ভাবেই একজন আলাদা মানুষ। যেমন ন্যাওটা, ছেলেমানুষ মেয়ে আমি ছিলাম - আমি এখন আমার সামাজিক পরিস্থিতি থেকে দূরত্ব বোধ করি অথচ আমি ২৫ বছর আগে যেমন ছিলাম, ততটাই জড়িত থাকি। কীভাবে সদগুরুর কাছে আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবো? যখনই আমি আমার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছি, তিনি আমায় ফিরে যাওয়ার সময় ও অবলম্বন দিয়েছেন। আমার জন্য আমার সবকিছুই হল সদগুরু। 

কীভাবে আমি কখনো তাঁর কাছে আমার ঋণশোধ করবো?

Editor's Note: Watch this space every second Monday of the month as we share with you the journeys of Isha Brahmacharis in the series, "On the Path of the Divine."

 
 
  0 Comments
 
 
Login / to join the conversation1