ঈশ্বরের পথে - স্বামী নিরাকার

স্বামী নিরাকারের 'ঈশা যোগা'-র সাথে প্রথম পরিচয় সেই ১৯৯২ সালে, প্রায় ৩০ বছর আগে। এতগুলো বছর ধরে সদগুরুর কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা যে কেমন,তা অনুভব করাতে তিনি আমাদের বেশ সুন্দর ভাবে সেই পুরনো দিনে ফিরিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
ঈশ্বরের পথে - স্বামী নিরাকার
 

একটি সুখী জীবন

স্বামী নিরাকার : প্রায়ই আমার বাবা বাড়িতে সাধু সন্ন্যাসীদের আমন্ত্রণ করতেন, তাদের খাওয়াতেন এবং শ্রদ্ধা করতেন। আমিও তাঁদের পায়ে সাষ্টাঙ্গ প্রণাম করতে এবং শ্রদ্ধা- ভক্তি করতে শিখেছিলাম। সুতরাং ১৯৮৯ সালে যখন আমার ছোট ভাই রামকৃষ্ণ মঠের সাধু হবার জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে গেল, আমার এটা স্বাভাবিক মনে হ'ল - না এটা আমায় উৎসাহিত করেছিল, নাই আমি সংবিগ্ন হয়েছিলাম। আমার কেবল মনে হয়েছিল- এটাই তার পথ। কিন্তু আমি তখন কল্পনাও করিনি যে একদিন আমিও একই পথে হাঁটব। কিভাবে এসব ঘটলো? এটা কি পূর্ব নির্ধারিত ছিল? যখনই আমি এটা নিয়ে ভাবতে যাই, মাঝে মাঝে এখনও অবাক লাগে। 

আমি তিরুচেনগোড়ের একটি ব্যাঙ্কে চাকরি করছিলাম, যেটা আমার বাসস্থান নামাক্কাল থেকে এক ঘন্টার দূরত্ব/দূরত্বে ছিল। এটা একটা ভাল, আরামদায়ক এবং সুরক্ষিত চাকরি ছিল এবং আমি বেশ খুশিতে ছিলাম। তার সাথে সাথে আমি নানারকম সমাজসেবা মূলক কাজ করতাম এবং একটি যুব- সংঘের ( ইয়ুথ ক্লাব) সদস্যও ছিলাম। মাঝে মাঝেই নামাক্কাল ও তিরুচিনাগোড়ের বিভিন্ন আধ্যাত্মিক সংগঠনের সহযোগিতায় 'যোগা' এবং 'ধ্যান' শিবিরের আয়োজন করতাম। আমার কাছে যোগ এবং ধ্যান ছিল এমন কিছু যা লোকে সুস্থ থাকার জন্যে করে থাকে। শুধুমাত্র এটুকুই। এইসমস্ত আয়োজনের কাজে আমি এত সন্তুষ্ট ছিলাম যে বিয়ে করার ব্যাপারটাও আমার কাছে আকর্ষণীয় মনে হয় নি। 

করুনার স্পর্শ

এটা ছিল ১৯৯২ সাল। একদিন আমি জানতে পারলাম যে একটি যোগা ক্লাসে আমার নাম নথিভূক্ত করা হয়েছে এবং আমাকে এটাতে উপস্থিত থাকতেই হবে। এটা কয়েকজনের বিশেষ অনুরোধ ছিল, ওঁরা ঐ শহরে আমার আয়োজিত অন্য সংগঠনের 'হঠ যোগ ' ক্লাস করেছিলেন। যেহেতু তারা খুবই স্নেহ- ভালোবাসার সাথে এটা করতে অনুরোধ করেছিলেন, আমি তিরুচেনগোড়ের শহরে অনুষ্ঠিত সর্বপ্রথম 'ঈশা যোগা' ক্লাসে গিয়ে বসলাম। তখন আমি জানতাম না যে এটা আমার জীবনের নির্ণায়ক মোর হয়ে দাঁড়াবে - এমনকি ক্লাসটা করার পরও আমার মনে হয় নি যে 'ঈশা যোগা'- র সাথে এই সংযোগ আমাকে এতদূর নিয়ে যাবে। স্বামীনাথন দাদা ক্লাসটা পরিচালনা করলেন এবং সদগুরু দীক্ষার দিন এলেন। সেটাই প্রথম আমি সদগুরুকে দেখলাম। দীক্ষার সময় অংশগ্রহণকারীরা কাঁদছিলেন, গড়াগড়ি খাচ্ছিলেন এবং নানা রকম জিনিস করছিলেন। এ সব কিছুই আমার কাছে নতুন ছিল, কিন্তু আমি ঘাবড়ে যাই নি । আমি বুঝলাম যে তাদের উপর ঈশ্বরীয় কৃপার স্পর্শ ঘটেছে এবং জানলাম যে সদগুরু কেবলমাত্র একজন যোগ- শিক্ষক নন। সেই সময় ব্যক্তিগত ভাবে আমার সেরকম কোন অসাধারণ অনুভূতি হয় নি, তবে সদগুরুর প্রতি আমি গভীর ভক্তি শ্রদ্ধা অনুভব করেছিলাম।  

এটা একমাত্র ১৯৯৪- এর 'হোলনেস' প্রোগ্রামের সময়- যখন আমরা কিছুটা বুঝতে পারলাম যে তিনি কে এবং তাঁর আসল কর্মসূচি কি, আমি আরও বুঝলাম যে বাইরে ‌তিনি কি করছেন তা দিয়ে তাঁকে বিচার করা অর্থহীন।

কাজেই এক বছরের মধ্যে আমি সদগুরুর সাথে 'ভাবস্পন্দন' প্রোগ্রাম করে ফেললাম এবং তারপর 'সম্যামা'। 'সম্যমা' প্রোগ্রামের সময় অংশগ্রহণকারীদের উচ্চ তেজস্বী অবস্থা দেখে আমার উপলব্ধি হল সদগুরু কত উচ্চ স্তরের একজন অস্তিত্ব। ওখানে যাকিছু ঘটছিল আমিও তার কিছুটা স্বাদ্ পেলাম। একদিন এরকম ঘটল যে বিরতির সময় আমি একটা লজেন্স ( ক্যান্ডি) চিবোতে শুরু করলাম। আমার মনে হয় এটা 'ভিকস্' ধরনের কোন লজেন্স হবে যেটা আমার গলা ব্যথায় আরাম পাবার জন্য নিয়েছিলাম। এটা পুরোপুরি চিবোনোর আগেই বিরতি শেষ হয়ে গেল এবং আমরা সবাই হলঘরে ফিরে এলাম। আমার মুখে তখনও লজেন্সটা ছিল, সদগুরু ভেতরে এলেন এবং ক্লাস শুরু করলেন। আমি বুঝতে পারলাম না যে লজেন্সটা নিয়ে কি করব। আমি ভাবলাম, "আমি এটা গিলতে চাই না, আবার এখানে এটা মুখ থেকে বের করে ফেলাও যাবে না।" আমি ঠিক করলাম যতক্ষণ না এটা পুরোপুরি গলে যায়, এটাকে চিবোতে থাকব। সঙ্গে সঙ্গে লজেন্সটা এত অবিশ্বাস্য ভাবে তেতো লাগতে শুরু করলো যে পর মূহুর্তেই আমাকে সেটা কার্পেটের উপর মুখ থেকে বের করে ফেলতে হল।

সেই সময় 'সম্যমার হলঘর যা ঘটতো,তা সদগুরু দ্বারা পরিচালিত 'হঠ যোগা' ক্লাসেও প্রত্যক্ষ করা যেত। আমি তিরুচেনগোড়ের 'হঠ যোগা' ক্লাসে এটা দেখেছি - মানুষজন সাধারণ সূর্য- নমস্কার করার সময়ও মানুষজন পরমানন্দে কাঁদছে, গড়াগড়ি দিচ্ছে এবং চিৎকার করছে। এমনকি মাসিক সৎসঙ্গ গুলোতেও মানুষজন এমন সব নানা অবস্থাতে চলে যেতেন যে এসব সামলাতে শিক্ষকদের রীতিমতো হিমসিম খেতে হতো। ধ্যানলিঙ্গ প্রতিষ্ঠার আগে সদগুরুর চারপাশের পরিস্থিতি অত্যন্ত এক তীব্রতার রুপ নিয়েছিল। 

মুখের কথার চেয়ে বেশি কিছু

আমি চাইছিলাম নামাক্কালেও একটা 'ঈশা যোগা' ক্লাস হক। যেহেতু সেই সময় সদগুরু নিজে ক্লাসের সূচী তৈরী করতেন, আমার শহরেও একটা ক্লাস করার কথা বলতে একদিন সিঙ্গানাল্লুরে, ১৫ গোবিন্দস্বামী নাইডু লেনে তাঁর বাড়িতে গেলাম। আমি যখন ঢুকলাম, সদগুরু এবং ভিজ্জীমা আমাকে সম্ভাষণ করলেন এবং সদগুরু আমাকে বাড়ির-নাম ধরে ডাকলেন। " আমার বাড়ির-নাম উনি জানলেন কি করে?" আমি অবাক হলাম, কারণ যেসব প্রোগ্রামে আমি অংশগ্রহণ করেছি তার কোন রেজিস্ট্রেশন ফর্মেই আমি এর উল্লেখ করিনি। তবে আমি খুব বেশী আশ্চর্য হই নি, কারণ সদগুরুর চারপাশে এই ধরনের ঘটনা দেখতে আমি তখন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। 

সদগুরু আমার অনুরোধ শুনলেন এবং বললেন, "ঠিক আছে, সকালের ক্লাসের জন্য তুমি ৫০ জন্ জোগাড় কর।" পঞ্চাশ জন জোগাড় করা আমার পক্ষে ঠিক ছিল কিন্তু তিরুচেনাগোড়েতে সকালে ক্লাস করার আমার যে অভিজ্ঞতা তাতে আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে সকালে আসার জন্য আমরা এতগুলো মানুষকে রাজী করাতে পারব কিনা। কাজেই তাঁকে আমি এগুলো সব ব্যাখ্যা করতে লাগলাম কিন্তু তিনি আমাকে আর কোন বিকল্প দিলেন না। তিনি আমাকে বুঝিয়ে ছাড়লেন যে সকালটাই যোগা করার শ্রেষ্ঠ সময়। 

ততদিন পর্যন্ত কেবল মুখের কথাতেই ”ঈশা যোগ” ক্লাসের কথা প্রচার করা হত। কিন্তু আমি কিছু বিজ্ঞপ্তি/ঘোষণা-পত্র ছাপালাম এবং জনগনের মধ্যে সেগুলো বিলি করলাম, যেভাবে আমি অন্যান্য সমাজসেবা মূলক কাজের জন্য করতাম আগে। ক্লাসটি সদগুরু নিজেই পরিচালনা করলেন এবং ৫০ জন লোকই ক্লাস করার জন্য এলেন। এটা কেবলমাত্র ঘটনাচক্রের চেয়ে বেশি কিছু বলেই মনে হল। এই পঞ্চাশ জনের মধ্যে দুজন পরে ব্রহ্মচর্য নিয়েছিলেন। 

প্রত্যেক দিন সকালে ক্লাস করার পর বিকেলের ক্লাসের জন্য সদগুরু ভেলায়ুথামপালায়াম রওনা হয়ে যেতেন, এবং সেখান থেকে সন্ধ্যের ক্লাসের জন্য কারুর যেতেন। একদিন সন্ধ্যেবেলা আমিও কারুর গেলাম, স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সেখানে বসব বলে। যখন আমি হলঘরে ঢুকলাম, সদগুরু তখন ক্লাস শুরু করে দিয়েছেন। কিন্তু যেইমাত্র আমি ভেতরে ঢুকলাম, সদগুরু আমাকে স্বাগত করলেন এবং আমাকে (বাস্তবে আমার সঙ্গে কথা বললেন) সামনে গিয়ে বসতে বললেন। বসার পরে আমি বুঝতে পারলাম যে সদগুরু অংশগ্রহণকারীদের সাথে ক্লাসের ব্যাপারে কথা বলার সাথে সমান্তরাল ভাবে আমার সঙ্গে কথা বললেন, যাতে করে ক্লাসের কোন ব্যাঘাত না ঘটে। অন্য কথায় এর মানে হল যে তিনি একই সঙ্গে আমাকে এবং অংশগ্রহণকারীদের সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি জিনিস বলেছেন, আমাদের কাউকেই এটা বুঝতে না দিয়ে। পরে সদগুরু যথার্থ করে বলেছিলেন যে এটা এভাবেই ঘটেছিল। 

প্রথমবার ১০০ জনের ক্লাস

কয়েকমাস পর আমি সদগুরুকে নামাক্কালে আর একটি ক্লাসের জন্য বললাম। এবার তিনি সকাল এবং বিকেল দু'বেলাতেই ক্লাস করতে চাইলেন, এবং আমাকে বললেন যদি আমি ১০০ জন লোককে অংশ নেওয়াতে পারি। প্রতিটি ক্লাসের জন্য ১০০ জন ধরে নিয়ে আমি সাধারন বিজ্ঞপ্তি ছাড়াও ছোট ছোট পোস্টার ছাপালাম এবং এই ক্লাসের জন্য নিজে গিয়েও প্রচার করলাম। আমার দেখে খুব খুশি লাগছিল যে প্রারম্ভিক সেশনের জন্য ক্লাসে লোকে ভরে যাচ্ছিল। প্রারম্ভিক বৈঠকের পর অনেকেই ক্লাসের জন্য নাম নথিভুক্ত করাতে লাইনে দাঁড়িয়ে পড়লেন। যেইমাত্র সকালের ক্লাসের জন্য ৫০ জন হয়ে গেল,সহ- শিক্ষক আমাকে রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করতে বললেন। তখন আমি বুঝলাম সদগুরু আসলে সব মিলিয়ে একশো জনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আমি রেজিস্ট্রেশন বন্ধ করতে অস্বীকার করলাম এবং শেষ পর্যন্ত আমদের সকালের ক্লাসের জন্য ১০০ জন এবং বিকেলে ৫০ জন অংশ নিয়েছিলেন। অংশগ্রহণকারীরা‌ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে এসেছিলেন - তার মধ্যে রাজনীতিবিদ এবং অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিরাও ছিলেন এবং তাঁরা খুবই প্রানবন্ত এবং আগ্রহীও ছিলেন। ক্লাসটা সদগুরুও খুবই উপভোগ করছিলেন বলে মনে হল । আমার মনে হয় এটাই প্রথম 'ঈশা যোগা' ক্লাস যেখানে ১০০ জন মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

সদগুরু আর আচার-অনুষ্ঠান?

যেহেতু আমি কিছুটা যুক্তিবাদী ধরনের মানুষ ছিলাম, আমি যেকোনো রকমের আচার-অনুষ্ঠানের বিরোধী ছিলাম। আমার বিশ্বাস ছিল, আগে যে সমস্ত সিদ্ধপুরুষদের কথা পড়েছি তাদের মত সদগুরুও আচার-অনুষ্ঠান এবং মূর্তি পূজার বিপক্ষে থাকবেন। সদগুরুর প্রতি আমার আকর্ষণের এটাও একটা অন্যতম কারণ ছিল। ১৯৯৩ সালে আশ্রমের জমিতে ভূমি পূজার সময় আমি সদগুরুকে এই ধরনের একটি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে দেখেছিলাম। পূজার জন্য একজন পুরোহিতকে ডাকা হয়েছিল, এবং অনুষ্ঠান চলাকালীন তিনি সদগুরুকে একটি চালকুমড়ো দিলেন, আর তাঁকে আচার সংক্রান্ত কিছু নিবেদন করতে বলেন। "প্রথমত, এক পুরোহিত এখানে উপস্থিত, তার উপর সদগুরুরও হাতে একটি চালকুমড়ো? " এসব দেখে তো আমি বিভ্রান্ত হয়ে পড়লাম ।ঠিক সেই মুহূর্তে সদগুরু আমার দিকে ফিরলেন, এবং একটু হাসলেন, যেন বলতে চাইলেন, "অন্যদের জন্য আমাকে কত কি যে করতে হয়!" ওই অবস্থায় তাঁকে হাসতে দেখে আমিও আমোদিত হয়েছিলাম। ১৯৯৪ সালের হোলনেস প্রোগ্রাম এর সময়, যখন আমরা তাঁর গুপ্ত বিষয়সূচি এবং তিনি আসলে কে সে ব্যাপারে সামান্য কিছুটা বুঝতে পারলাম, আমি চিরদিনের জন্যে বুঝে গিয়েছিলাম, তিনি বাইরে কি করছেন তা দেখে তাঁর সম্পর্কে বিচার করা বৃথা।  

চলার পথে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস ত্যাগ করা On the Way

১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত ৯০ দিন ব্যাপী হোলনেস প্রোগ্রামের প্রথম ৩০ দিন আমি অংশগ্রহণ করেছিলাম। বাকি ৬০ দিনের প্রোগ্রাম মূলত ছিল সেইসব মানুষের জন্য যারা, ইশা যোগ কার্যক্রমে শিক্ষকতা করতে আগ্রহী কিংবা পুরো সময়ের জন্য আশ্রমে চলে আসতে চান, তবে আমাকে এটা অতটাও আকর্ষণ করেনি। এবং আমি মাত্র এক মাসেরই ছুটি পেয়েছিলাম। ঠিক তার পরদিনই, ৩০ দিন হোলনেস প্রোগ্রামে কাটানোর পর যখন আমি আশ্রম থেকে চলে আসি, আমি আমার অন্য গুরুর কাছে দেখা করতে যাই, যিনি অনেক বছর আগে আমাকে দিক্ষা দিয়েছিলেন। ঐদিন তাঁর আশ্রমে একটি নতুন ভবন উদ্বোধনের জন্য প্রকাশ্য জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। প্রায় তিন হাজার লোক ওই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আমার পৌঁছাতে একটু দেরি হয়েছিল, আমি সেখানে প্রবেশ করেই একটা বসার জায়গার জন্য শেষের সারির দিকে হাঁটা শুরু করা মাত্রই দেখলাম যে, গুরুজী যিনি তখন বেদির উপরে ছিলেন মাথা উঠিয়ে আমাকে লক্ষ করলেন। আমি দেখতে পেলাম তিনি আমার চারপাশে এক নিশ্চিত উপস্থিতি অনুভব করলেন। সেইদিনই আমি নিশ্চিতভাবে জানলাম সদগুরুই আমার একমাত্র গুরু - আমার একমাত্র পথ । 

কিন্তু তা সত্ত্বেও ১৯৯৫ সালে প্রথম অভিষিক্ত ব্রহ্মচারীদের দলটিতে আমি সামিল হইনি । একটা কারণ ছিল যে, সন্ন্যাস-ই আমার জীবনের পথ কিনা কিংবা আত্মজ্ঞান লাভই আমার লক্ষ্য কিনা সে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত ছিলাম না। আমার কাছে মানুষের সেবা করতে পারাই যথেষ্ট ছিল। দ্বিতীয় কারণ ছিল সদ্য, আমার বড় ভাই একজন যুবতী স্ত্রী এবং ১০ বছরের কম বয়সের দুটি শিশুকে রেখে একটি দুর্ঘটনায় গত হয়েছিলেন। আমার পিতা-মাতা তার মৃত্যুশোক তখনও পুরোপুরি কাটিয়ে উঠতে পারেননি। মাত্র কয়েক বছর পূর্বে আমার ছোট ভাইও সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন, আমি নিশ্চিত ছিলাম না যে, তাদের শোকগ্রস্ত অবস্থায় ফেলে আমার যাওয়া ঠিক হবে কিনা। কিন্তু বেশি দিনের জন্য আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি।

পরের বছরও যখন ব্রহ্মচর্যের জন্য আবেদন করার সুযোগ এলো, আমি আমার মন তৈরি করতে পারিনি, এবং আবেদনের শেষ দিন পেরিয়ে গেল। আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু পরেই আমি উপলব্ধি করলাম যে আমি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারছিনা। সেই সময় আমি একটি কার্যক্রম উপলক্ষ্যে আশ্রমে ছিলাম। সুতরাং ঐদিন, যখন আমি সদগুরুকে কৈবল্য কুটিরের দিকে যেতে দেখলাম, আমি তাঁর কাছে গিয়ে আমার অনুরোধ জানালাম। সদগুরু আমাকে পুনর্বিবেচনা করতে বললেন, পিতা-মাতার অবস্থা পুনরায় স্মরণ করালেন, এবং সে সম্পর্কে আমার ভাবনা আমি তাঁর কাছে ব্যক্ত করলাম। ওই কথোপকথনের সময় আমি তাঁকে যা বলেছিলাম, আমাকে অবাক করে, কুড়ি বছর পর এক সৎসঙ্গের সময় সদগুরু সেটা বর্ণনা করেন- আমি আসলে সেটা ভুলে গিয়েছিলাম। দু'দশক পূর্বে যা আমি বলেছিলাম, সদগুরুকে অক্ষরে অক্ষরে তার পুনরাবৃত্তি করতে দেখে আমি অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু সদগুরু এমনই!

পরের বছরও যখন ব্রহ্মচর্যের জন্য আবেদন করার সুযোগ এলো, আমি আমার মন তৈরি করতে পারিনি, এবং আবেদনের শেষ দিন পেরিয়ে গেল। আবেদনের সময়সীমা শেষ হওয়ার কিছু পরেই আমি উপলব্ধি করলাম যে আমি আর নিজেকে আটকে রাখতে পারছিনা। সেই সময় আমি একটি কার্যক্রম উপলক্ষ্যে আশ্রমে ছিলাম। সুতরাং ঐদিন, যখন আমি সদগুরুকে কৈবল্য কুটিরের দিকে যেতে দেখলাম, আমি তাঁর কাছে গিয়ে আমার অনুরোধ জানালাম। সদগুরু আমাকে পুনর্বিবেচনা করতে বললেন, পিতা-মাতার অবস্থা পুনরায় স্মরণ করালেন, এবং সে সম্পর্কে আমার ভাবনা আমি তাঁর কাছে ব্যক্ত করলাম। ওই কথোপকথনের সময় আমি তাঁকে যা বলেছিলাম, আমাকে অবাক করে, কুড়ি বছর পর এক সৎসঙ্গের সময় সদগুরু সেটা বর্ণনা করেন- আমি আসলে সেটা ভুলে গিয়েছিলাম। দু'দশক পূর্বে যা আমি বলেছিলাম, সদগুরুকে অক্ষরে অক্ষরে তার পুনরাবৃত্তি করতে দেখে আমি অত্যন্ত আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলাম। কিন্তু সদগুরু এমনই!. 

লাকি ডিপস্

১৯৯৬ সালে আমার ব্রহ্মচর্য গ্রহণ করার পর, আমাকে সৎসঙ্গগুলো পরিচালনা করার এবং ধ্যানলিঙ্গ নির্মাণের জন্য সারা তামিলনাড়ুতে তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে "লাকি ডিপস্" প্রোগ্রামগুলো করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। লাকি ডিপস্ হল "পট লাক" খেলারই একটি পরিবর্তিত রূপ । এই খেলায় লোকজনকে একটি চিরকুট তুলতে হতো এবং তাতে উল্লিখিত অংক অনুযায়ী অর্থ দান করতে হতো। চিরকুটগুলোতে ১ টাকা থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত সংখ্যা লেখা থাকতো। এইভাবে আমি পুরো রাজ্য ঘুরলাম, এবং আমরা রীতিমতো ভাল অংকের টাকা তুলতে সক্ষম হয়েছিলাম ।

একটি নির্দিষ্ট শহরে, যখনই আমি সৎসঙ্গ অথবা 'লাকি ডিপস্’-এর জন্য যেতাম, সব কিছুর সামলানোর দায়িত্বে বা কোঅর্ডিনেটর ছিলেন, তিনি যেকোনোভাবে, আমার খাবার ইত্যাদি ব্যাপারে খেয়াল রাখতে ভুলে যেতেন। কোনওভাবে, সদগুরু সেটা জানতে পারেন। একদিন যখন আমার সেই শহরে যাওয়ার কথা, সদগুরু আশ্রম থেকে সিঙ্গানাল্লুর দপ্তরে এলেন, এবং সেই কোঅর্ডিনেটর-কে ডাকলেন সেখানে বিকেলে তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্যে । আমি জানি না সেই সাক্ষাতে তারা কি আলোচনা করেছিলেন, কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় যখন আমি সেখানে গেলাম, আমার খুব যত্ন নেওয়া হল। এটা আমার কাছে নেহাত ঘটনাচক্রের থেকে বেশি কিছু বলেই মনে হয়েছিল। আমার সময়তালিকা আমি নিজেই ঠিক করতাম, এবং সেদিন সন্ধ্যেবেলা আমি যে ওই শহরে যাচ্ছি সেকথা কাউকেই বলিনি।  

রান্নার আনন্দ

শুরুর দিকে ব্রহ্মচারী হবার পর, আমি সিঙ্গানাল্লুর দপ্তরে থাকতাম। আমি একেবারেই রান্না করতে জানতাম না, এবং অন্য কেউ আমাদের জন্য রান্না করে দিতেন। যখনই খাবার কিছুই থাকত না, আমি শুধুমাত্র ভাত রান্না করতাম এবং সেটা ঘোল বা চাটনির সাথে খেয়ে নিতাম । একদিন, আমি একটু বেশি উৎসাহিত হয়ে গিয়ে একজনের থেকে শিখলাম কিভাবে ধোসার গুঁড়ি তৈরি করতে হয় এবং মিক্সিতে সেটা বানালাম! সেই রাতে রাধেকে নিয়ে সদগুরু দপ্তরে এলেন এবং আমাদের জিজ্ঞেস করলেন যে খাবার জন্য কিছু আছে কিনা। আনন্দের সঙ্গে, আমি তাঁদের ধোসা এবং চাটনি পরিবেশন করলাম। আরও একদিন যখন আমি রান্নার বই থেকে প্রণালী দেখে প্রথমবারের জন্য রসম বানিয়েছিলাম, সদগুরু ভিজ্জি মার সাথে এসেছিলেন এবং পুনরায় খাবার জন্য কিছু আছে কিনা জানতে চেয়েছিলেন। তিনি শুধুই যে রসম ভাত খেলেন তাই নয়, তিনি রান্নার প্রশংসাও করেছিলেন, যেটা আমার আহ্লাদের কারণ হয়েছিল।  

হিমালয়ের সাথে এক বিপজ্জনক সংস্পর্শs

যখন সদগুরু দ্বিতীয়বারের জন্য সাতজন স্বামীর একটি দলকে অমরনাথের তীর্থযাত্রায় পাঠিয়েছিলেন, সেখানে কিছু হিংস্রতার খবর থাকায় আমাদের মাঝ রাস্তা থেকে ফিরতে হয়।  

পরিবর্তে সদগুরু আমাদের হিমালয় যেতে বললেন। সফরকালে একদিন, আমরা সদগুরুর নির্দেশ অনুযায়ী ভিক্ষা প্রার্থনার জন্য সবাই ভিন্ন ভিন্ন দিকে গেলাম। সন্ধ্যাকালে যখন আমরা একসাথে ফিরে এলাম, আমরা প্রত্যেকে ভিক্ষা হিসেবে সবাই আলাদা আলাদা জিনিস পেয়েছিলাম- কেউ ফল পেয়েছিলেন, কেউ চকলেট পেয়েছিলেন, ইত্যাদি। যে ধরনের জিনিস আমাদের প্রত্যেককে দেওয়া হয়েছিল, মনে হচ্ছিল যে আমরা যা চেয়েছিলাম তাই পেয়েছিলাম, অথবা যা আমরা পছন্দ করতাম, অথবা যা আমাদের স্বভাব ছিল। আমি কাঁচা ময়দার গুড়ো পেয়েছিলাম। হ্যাঁ, আমার স্বভাব বা আগ্রহ ছিল নিজের খাবার রান্না করে খাওয়া। সুতরাং বিভিন্নভাবে, সদগুরু আমাদের নিজেদের প্রকৃতি চিনিয়েছিলেন।  

আর একবার এই সফরকালে ভোজবাসা’র দিকে আমাদের যাত্রার সময়, আমি একটি অস্থায়ী কাঠের গুঁড়ি -র সাঁকো থেকে গঙ্গায় পিছলে গিয়েছিলাম, নদী তখন প্রবলভাবে নিচের দিকে বইছিল। কয়েকজন ব্রহ্মচারী, ঠিকভাবে সাঁতার না জানা সত্বেও আমাকে সাহায্য করার জন্য ঝাঁপ দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু স্বামী নিসর্গ বিজ্ঞতার সঙ্গে তাদের থামিয়েছিলেন। আমাদের গাইড-ও কিছু করতে পারেননি। কিছুক্ষণের জন্য আমি কাঠের টুকরোটিকে হাত-পা দিয়ে জড়িয়ে ধরেছিলাম, যদিও আমার পিছনের ব্যাগ আমাকে নিচের দিকে টানছিল। কিছুক্ষণ পর, আমি আর সেটা ধরে রাখতে না পেরে নদীতে পড়ে গিয়েছিলাম। যাই হোক আমি যা সামান্য সাঁতার জানতাম, তাতেই পাড়ে পৌঁছে গিয়েছিলাম। এমনকি সেই গাইডটিও বুঝেছিলেন, ঐশ্বরিক করুণা সেদিন আমাকে বাঁচিয়েছিল। 

ম্যারাথনে অংশগ্রহণ

একবছর সিঙ্গানাল্লুরে থাকার পর, আমি আশ্রমে ফিরে এসেছিলাম, এবং অফিসের রিসেপশনে কাজ করছিলাম । এছাড়াও আমি নির্মাণ কাজের টাকাকড়ি সংক্রান্ত ব্যাপারের দেখাশোনা - রসিদ তৈরি করা এবং অনুমোদন দেওয়া, সরবরাহকারী ও সেবাদারদের অর্থ বাটোয়ারা করা, অর্থ সুরক্ষিত রাখা- এইসব করতাম । এটাই পরবর্তীকালে হয়ে ওঠে ইশার 'ক্যাশ পয়েন্ট’। প্রায় ১০ বছর আগে, এমন একটি অবস্থা তৈরি হয়েছিল যখন আমাকে তামিল প্রকাশনার ভার নিতে হয়েছিল, এবং তখন থেকে আমি তামিল প্রকাশনা বিভাগের অংশ হয়ে গেছি।  

আশ্রমে চলে আসার কিছুদিন পরে, পারিপার্শিক প্রকৃতি দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে, আমি এমনিই জগিং করা শুরু করি- আমি ক্রীড়াবিদ ছিলাম না বা কোন ধরনের খেলাধুলার সাথে কখনো যুক্ত ছিলাম না। একবার সদগুরু আমাকে জগিং করতে দেখেন এবং এটা চালিয়ে যেতে বলেন। সেই সময় আমার বয়স চল্লিশ পেরিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু সদগুরুর উৎসাহের পর ,জগিং আমার দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হয়ে গেল। পরবর্তীকালে, তিনি আমাকে ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করারও অনুমতি দেন। আজকাল আশ্রমের অনেকেই এই ধরনের ম্যারাথনে অংশগ্রহণ করে দেখে আমি খুবই আনন্দিত হই।

সেই সৌভাগ্য

আমি বলতে চাই যে আমি ভাগ্যবান কারণ আমি ধ্যানলিঙ্গের প্রাণ-প্রতিষ্ঠার সময় এখানে উপস্থিত থেকেছি এবং একই সময়কালে সদগুরুর সঙ্গে বাস করেছি । আমি নিশ্চিত, ধ্যানলিঙ্গ সদগুরু ছাড়া অন্য কিছু নন । ধ্যানলিঙ্গের পাথরটি সরিয়ে আভুদাইয়ারে বসানোর আগের দিন, সদগুরু একটি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন আমি অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে গেছিলাম এটা দেখে যে, ধ্যানলিঙ্গের চারিদিকে হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টির মত দেখা যাচ্ছিল- মনে হল যেন দেবতারা ধ্যানলিঙ্গের ওপর আশীর্বাদ বর্ষণ করছিলেন। এটা ঠিক একটি রূপকথার দৃশ্যের মত ছিল।  

এত বছর ধরে আমি একজন যুক্তিবাদী প্রকৃতির মানুষ ছিলাম। কদাচিৎ আমাকে কিছু বিরক্ত করে, কারণ আমি সবকিছুর পেছনে যুক্তি খুঁজে পাই। যখন আমার বড় ভাই একটি দুর্ঘটনায় হঠাৎই মারা যান, আমি ব্যাপারটা এভাবে নিয়েছিলাম, "ঠিক আছে, এরকম ঘটেছে," এবং একটুও কাঁদিনি। কিন্তু সম্প্রতি একদিন গুরু পূজার সময়, আমি গালে অশ্রুধারা অনুভব করলাম। আজকাল স্বেচ্ছাসেবকদের গভীর অনুরাগের সাথে, স্বার্থহীনভাবে কাজ করতে দেখে আমি আবেগপীড়িত হয়ে পড়ি এবং আমার ভেতরটা গলে যায়। হোলনেস প্রোগ্রাম-এর অনেক আগে, সদগুরু একদিন আমাকে বলেছিলেন, ভবিষ্যতে লক্ষ লক্ষ লোক ঈশা আন্দোলনে যোগদান করবে, তাদের অন্তরে পরম সম্ভাবনাকে উপলব্ধি করার জন্য। এখন সেটা বাস্তবায়িত হচ্ছে দেখে আমার অন্তরটা জুড়িয়ে যায়।  

মাত্র কয়েকটি প্রজন্মেরই, সদগুরুর মত মাত্রার একজন গুরুকে পাওয়ার ভাগ্য হয় শুধু কয়েকটি প্রজন্মেরই সদগুরুর মত একজন বিশাল মাপের গুরুকে পাওয়ার সৌভাগ্য হয় সদগুরু ক্রমাগত চেষ্টা করছেন কিভাবে সবার উন্নয়ন ঘটানো যায়- এমনকি রাস্তার ভিক্ষুককেও বাদ না দিয়ে। যখন সদগুরুকে দেখি গ্রাম্য হতদরিদ্র মানুষদের সাথে নিরহঙ্কার ভাবে মিশে যেতে, আমিও আবেগপীড়িত হয়ে পড়ি আর বিনীত বোধ করি । সদগুরু সবথেকে বড় মহাসাগরের মতই সুবিশাল, কিন্তু তাঁর অসীম করুণার কারণে তিনি আমাদের মধ্যে আছেন এবং কাজ করে চলেছেন, আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য পরিশ্রম করছেন, আমরা যেরকমই হই না কেন। শুধুমাত্র বইয়ে আমি “নায়ানমার” এবং “আলোয়ারদের” সম্পর্কে পড়েছি, যারা এই ধরনের অলৌকিক ঘটনা ঘটাতেন, কিন্তু এখানে আমার চোখের সামনে এমন একজন আছেন, যিনি আমার পড়া সব মহৎ সত্ত্বাদের মধ্যে মহত্তম ।  

যদিও আমি অনুভব করেছি যে আমি কয়েকটি সুযোগ হারিয়েছি যা সদগুরু আমাকে দিয়েছিলেন, আমার জন্য এটাই যথেষ্ট যে আমি তাঁর শিষ্যদের মধ্যে একজন। আমার আত্মজ্ঞানলাভ? এটা তাঁর সমস্যা। সত্যিই, আমি এটা নিয়ে ভাবিই না। তিনি জানেন কি, কখন এবং কিভাবে, আমি যেসবের যোগ্য তা আমাকে দেওয়া হবে। যেহেতু, তিনি আমাকে আমার নিজের থেকে বেশি ভালো চেনেন।

 

বিশেষ দ্রষ্টব্য[১]: স্বামী সম্পর্কে সদগুরু সৎসঙ্গে যা স্মরণ করেছিলেন: " স্বামী হঠাৎ করে বললেন, 'সদগুরু, আমি ব্রহ্মচার্য নিতে চাই এবং আপনার সাথে আসতে চাই।' আমি বললাম, 'তুমি নিশ্চিত? তোমার একটি চাকরি আছে, তোমার বৃদ্ধ পিতা-মাতা আছেন। ভালো কথা, তুমি অবিবাহিত, কিন্তু তোমার অন্যান্য জিনিসও আছে, তাই না?' সে বলল, 'ইল্লা নাদুলে ভানধাধু ধানে, সদগুরু,' তার অর্থ, ' এই সব জিনিসই আমি চলার পথ থেকেই কুড়িয়ে নিয়েছি, তাই না?' অর্থাৎ সে বলতে চায়, 'চলার পথে, কোথাও না কোথাও, আমাকে তা ফেলতেও হবে। এটাই আমার সময়। '"