এই মনকে এক কল্পবৃক্ষে পরিণত করা

সদগুরু বলেন, যদি যন্ত্রের কথা ধরা হয়, তাহলে তার মধ্যে সবথেকে বিস্ময়কর জিনিস কিন্তু কম্পিউটার, গাড়ি বা মহাকাশ যান নয়, তা হল মানুষের মন।
এই মনকে এক কল্পবৃক্ষয়ে পরিণত করা
 

সদগুরু: যদি যন্ত্রের কথা ধরা হয়, তাহলে তার মধ্যে সবথেকে বিস্ময়কর জিনিস কিন্তু কম্পিউটার, গাড়ি বা মহাকাশ যান নয়, তা হল মানুষের মন তবে যদি আপনি একে সচেতনভাবে ব্যবহার করতে পারেন।

আপনার মন পাঁচ রকম অবস্থায় থাকতে পারে। সে নিষ্ক্রিয় ভাবে থাকতে পারে। অর্থাৎ এ একেবারেই সক্রিয় নয়, একদমই প্রাথমিক স্তরে রয়েছে। নিষ্ক্রিয় মনকে নিয়ে সমস্যা নেই। কেউ যদি খুব সরল মনের মানুষ হন এবং তার অতিরিক্ত বুদ্ধি না থাকে, তার কোনও সমস্যা নেই। সে খায় দায়, ভাল ঘুমোয়। শুধুমাত্র তাদেরই ঘুমের সমস্যা হয়, যারা চিন্তা করেন । সহজ সরল মনের মানুষেরা সমস্ত শারীরিক কাজকর্মগুল চিন্তাশীল মানুষদের থেকে অনেক ভালোভাবে করতে পারে, কারন বিঘ্ন ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার জন্যেও কিছুটা বুদ্ধির দরকার হয়। কিন্তু একটা নিষ্ক্রিয় মনের সাথে মনুষ্য প্রকৃতির তুলনায় পশু প্রকৃতির সাদৃশ্যই বেশি।

যে মুহুর্তে আপনি নিষ্ক্রিয় মনে কিছুটা শক্তি সঞ্চার করেন, সেটা সক্রিয় হয়ে ওঠে, তবে সেটা বিশৃঙ্খল ভাবে থাকতে পারে। এরপর যদি আপনি মনে আরও কিছুটা শক্তি প্রদান করেন, মন এমন একটা যায়গায় পৌছয় যেখানে মনটা আর সেই মাত্রায় বিশৃঙ্খল থাকে না। কিন্তু সে তখনও দোদুল্যমান - একদিন সে এক রকম, তো আর একদিন আর একরকম। প্রতি মুহুর্তে বিশৃঙ্খল হয়ে থাকার থেকে এটা বেশ কিছুটা উন্নত অবস্থা। আপনি যদি একে আরও শক্তি প্রদান করেন, ধীরে ধীরে এ একাগ্র হয়ে ওঠে - সেটা অনেকটাই ভাল। কিন্তু সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল আপনার মনকে হয়ে উঠতে হবে একটা সচেতন প্রক্রিয়া।

 

যে কারনে সাফল্য একজনের ক্ষেত্রে অনায়াস এবং স্বাভাবিক আর অন্য একজনের ক্ষেত্রে কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠে তা হল, একজন ভাবে তাঁর নিজের অনুযায়ী, সে যেভাবে চায়ে, আর অন্য জন তার নিজের বিরুদ্ধে ভাবে।

মনের সেই বাঁদর

যৌগিক লোককথায় একটা সুন্দর গল্প আছে। একটি লোক হাটতে বেরিয়ে আচমকা কোন ভাবে স্বর্গে ঢুকে পড়েছিল। অনেকটা হাটার পর সে একটু ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল তাই ভাবছিল, “যদি কোথাও বিশ্রাম করতে পারতাম!” সে একটি গাছ দেখতে পেল যার নিচে সুন্দর, নরম ঘাস। সুতরাং সে গিয়ে ঘাসের উপর ঘুমিয়ে পড়ল। কয়েক ঘন্টা পর তার ঘুম ভাঙল, ততক্ষনে তার ভাল করে বিশ্রাম নেওয়া হয়েছে। সে ভাবল, ” ওহ! ক্ষিদে পেয়েছে, যদি কিছু খাবার পাওয়া যেত।” যে সব ভাল ভাল খাবার তার খেতে ইচ্ছে করছিল, সে সবের কথাই সে ভাবতে লাগলো আর সেই সব খাবারগুল সত্যি সত্যিই তার সামনে চলে এল। সেই সব রাজকীয় খাবার খেয়ে তার মনে হল, “ওহ! যদি কোন পানীয় থাকত!” সে সব রকম পানীয়ের কথা ভাবতে লাগল এবং সে সবই তার সামনে চলে এল।

যোগশাস্ত্রে, মানুষের মনকে তার স্বভাবের জন্য মর্কট, অর্থাৎ বাঁদর বলে উল্লেখ করা হয়েছে। "বাঁদর” শব্দটা “অনুকরনের” সমার্থক হয়ে দাড়িয়েছে। যদি আপনি বলেন আপনি কারুর সাথে “বাঁদরামি” করছেন, তার অর্থ হল আপনি কাউকে নকল করছেন - আর এটাই আপনার মনের সর্বক্ষনের কাজ। তাই, একটি অস্থির মনকে বাঁদর বলা হয়।

যখন সেই স্বর্গে উপস্থিত হওয়া লোকটির মধ্যে এই “বাঁদর” সক্রিয় হয়ে উঠল, সে ভাবল, “ এসব কি ভুতুড়ে ব্যাপার ঘটছে এখানে? আমি খাবার চাইছি, খাবার চলে আসছে। পানীয় চাইছি, পানীয় চলে আসছে। মনে হচ্ছে এখানে ভুত আছে, এবং সে দেখল ভূতেদের সেখানে দেখতে পেলেন, ভুতেদের দেখে তিনি আঁতকে উঠলেন এবং তিনি ভাবলেন এখানে ভূত আছে, বোধহয় এরা এবার আমায় অত্যাচার করবে।” সঙ্গে সঙ্গে ভুতেরা অত্যাচার শুরু করল, আর সে যন্ত্রনায় চিৎকার শুরু করল। এবার সে বলল, “ ওহো, ভুতগুল আমায় অত্যাচার করছে, এরা বোধ হয় এবার আমায় মেরেই ফেলবে।” সঙ্গে সঙ্গে সে মরে গেল।

আসলে সমস্যাটা ছিল, যে সে একটি ইচ্ছাপুরনের গাছ অর্থাৎ কল্পতরুর নীচে বসেছিল। তাই সে যাই চাইছিল সত্যি হয়ে যাচ্ছিল। একটি সুস্থিত মানব মনকে বলা হয় “কল্পবৃক্ষ”। এই মনে আপনি যা চাইবেন, সত্যি হবে। বাস্তব জীবনেও আপনি সর্বক্ষনই একটি কল্পবৃক্ষের নীচে বসে আছেন। সুতরাং আপনার মনকে এমন পর্যায়ে উন্নত করে তৈরী করতে হবে যে, তা এক কল্পবৃক্ষ হয়ে ওঠে, এক পাগলামোর উৎস নয়।

 
 
 
 
  0 Comments
 
 
Login / to join the conversation1