ধ্যানের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া এবং কেন তা আদেও গুরুত্বপূর্ণ নয়!

ধ্যানের উপকারিতাগুলির বিষয়ে একটি প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে সদগুরু জানাচ্ছেন, কীভাবে শারীরিক এবং মনস্তাত্ত্বিক উপকারিতাগুলি কেবল ধ্যানের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া মাত্র। তিনি বলেন, "আসল জিনিসটিতো ধীরে-ধীরে গড়ে উঠছে।"
The Side-Effects of Meditation & Why They Don’t Matter Much!
 

প্র: সদগুরু, কেউ যদি ঠিক করেন ধ্যান করবেন, কী করে সেই মানুষটি বুঝবেন যে সব ঠিক দিকে এগোচ্ছে? এর কি কোনো মনস্তাত্ত্বিক বা শারীরবৃত্তীয় প্রকাশ আছে?

সদগুরু: সম্ভবত শারীরিক প্রকাশগুলো সবচেয়ে স্পষ্ট করে বোঝা যায় সব সময়। এমন অনেক শারীরিক ও মনস্তাত্ত্বিক প্রকাশ আছে, আবার শরীর আর মনের ঊর্ধ্বেও অন্যান্য আরো অনেক প্রকাশ রয়েছে। এই সবকিছুকেই প্রশ্ন করা যায়,কিন্তু করবেটা কে? যে-সব মানুষজন জানেন কেবল শরীর আর মন, যাঁরা বেশি আস্থা রাখেন যন্ত্রপাতিতে, যাঁরা মনে করেন যন্ত্রকেই বেশি ভরসা করা যায় যে-সব মানুষ সেগুলো বানিয়েছেন তাঁদের থেকে, সে-সব মানুষেরাই এটাকে প্রশ্ন করেন সবসময়।

মৃত না মৃত-মস্তিষ্ক?!

একটা ঘটনা বলি আপনাকে, যেটা বছর কয়েক আগে ঘটেছিল। আমি এমন একটা জায়গায় গিয়েছিলাম যেখানে তাঁরা যোগ ও যোগীদের ওপরে সব রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছিলেন। ওনারা ভাবলেন, আমি একটা দারুণ বিষয়বস্তু — একটা গিনিপিগ। সাধারণত আমি নিজেকে এসব অবমাননার পাত্র করে তুলি না তবে সেই মুহূর্তে তাঁরা অনেক অনুরোধ করছিলেন, তো আমি হ্যাঁ বলি।

পৃথিবীতে আপনার কাজ করার ক্ষমতা দারুণভাবে বাড়ানো যেতে পারে-প্রায় অতিমানবীয় মাত্রায়। শারীরিক ও মানসিকভাবে, এটা আপনাকে লোকজনের যে-কোনো ভিড় থেকে আলাদা করে দেবে, আপনি যদি অভ্যাসের প্রতি নিজেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎসর্গ করেন।

ওনারা বললেন, ওনারা আমার মস্তিষ্কে গামা তরঙ্গ পরীক্ষা করে দেখতে চান। আমি জানতাম না এ-সব তরঙ্গ আদৌ আমার আছে বলে! ওনারা আমার শরীরের নানা জায়গায় আর বিশেষ করে মাথার অংশে চোদ্দটি ইলেকট্রোড লাগিয়ে বললেন, "এবার ধ্যান করুন।" আমি বলি, "আমি কোনো ধ্যান জানি না।" ওনারা বললেন, "না, না, আপনিতো সবাইকে ধ্যান শেখাচ্ছেন।" "আমি লোকজনকে ধ্যান শেখাই কারণ তাঁরা এক জায়গায় বসতে পারেন না। তাঁদের বসাতে গেলে আপনাকে কিছুতো শেখাতে হবে।" তখন তাঁরা জিজ্ঞাসা করলেন, "আচ্ছা,আপনি কী করতে পারেন?" আমি বলি, "আপনারা যদি চান, আমি শুধু স্থির হয়ে বসে থাকব।" ওনারা বললেন,"আচ্ছা, তাই করুন।" তো, আমি বসে রইলাম।

প্রায় পনেরো থেকে কুড়ি মিনিট পরে, আমার মনে হল যে কেউ ধাতব কিছু দিয়ে আমার হাঁটুতে আঘাত করছেন। তারপর তাঁরা আমার কনুই আর গোড়ালিতে আঘাত করা শুরু করলেন_ সবচেয়ে ব্যাথা লাগে সে-রকম জায়গাগুলোতে। আমি বুঝতে পারছিলাম না আমার গাঁটগুলোতে তাঁদের এত কীসের আগ্রহ। এরকম চলতেই থাকল তারপর তাঁরা আমার পিঠের দিকে স্পর্শ করলেন। আমার মেরুদন্ড সব সময়ই মারাত্মক সংবেদনশীল আর যেই তাঁরা আমার পিঠের দিকটা স্পর্শ করলেন, আমি ভাবলাম এখন হয়তো এটা তাঁদের বলে দেওয়ার সময় এসেছে। ওনারা যদি চাইতেন আমি উঠে পড়ি, ওনারা যদি এমনিই বলতেন যে, "উঠে পড়ুন। " আমি মিনিটখানেক সময় নিয়ে উঠে পড়তাম। এই সব টোকা মারা আবার কেন?

যখন আমি চোখ খুলি দেখি যে, তাঁরা আমার দিকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে তাকাচ্ছেন। "আমি কি ভুল কিছু করেছি?", আমি জিজ্ঞাসা করি। ওনারা বলেন, "না, আমাদের যন্ত্র বলছে আপনি মারা গেছেন। আমি বলি, "আচ্ছা, এটা তো দারুণ রোগ নির্ণয়।" তখন তাঁরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে বললেন, "হয় আপনি মৃত নয় আপনার মস্তিষ্ক মৃত। আমি বলি, "দ্বিতীয় নির্ণয়টি বেশ অপমানজনক। আমি প্রথমটাই বেছে নেব। আপনার যা ইচ্ছা বলুন। আমি জীবিত, আর এতে আমার কোনো অসুবিধা নেই। মৃত-মস্তিষ্ক, পাওয়ার মত দারুণ কোনো শংসাপত্র নয়।"

যখন আপনি নিজের জোড়াতালি দেওয়া তথ্য আর জ্ঞান দিয়ে জীবনকে এভাবে পরীক্ষা করতে যান, অবশ্যই আপনি ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হবেন। কিন্তু যাই হোক, এটা গুরুত্বপূর্ণ কারণ পৃথিবীটা আজকে এভাবেই চলছে। যেহেতু আমি আর এর গবেষণার পাত্র হতে ইচ্ছুক ছিলাম না, আমাদের কয়েকজন অনুশীলনকারীদের আমি বলেছিলাম যে তাঁদের মাথার স্ক্যান করার অনুমতি দিতে। পরীক্ষাটি দেশের এক প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানে করা হয়েছিল আর তাঁরা যা পেলেন তা হল ডান এবং বাম মস্তিষ্কের মধ্যে এক বিস্ময়কর সংহতি। যাঁরা এই বিষয়টি দেখছিলেন তাঁরা বলেন যে, "আমরা জীবনেও এ-রকম কিছু দেখিনি।" এনারা সেই সব লোকজন ছিলেন যাঁরা এই অভ্যাসগুলো কেবল তিন মাস কী তার চেয়ে খানিক বেশি সময় ধরে করছিলেন।

ডান এবং বাম মস্তিষ্কের সংহতি

জীবনের ভাষায় ব্যাখ্যা করতে গেলে এর মানে হল এই যে, আপনি পাঁচটা ইন্দ্রিয় দিয়ে যা-কিছু তথ্যই গ্রহণ করে প্রক্রিয়াকরণ করেন তা চলে যায় সাধারণত বাম মস্তিষ্কে। যাই তথ্য বাকি শরীর দিয়ে অনুভূত হয়, যেটা যুক্তিসম্মত নয়, যেটা টুকরো-টুকরো নয়, যেটা আরো সমসত্ত্ব তথ্য এবং যা আপনার জীবনের জন্য অত্যন্ত জরুরি তার প্রক্রিয়াকরণ ঘটে আপনার ডান মস্তিষ্কে যেটা যৌক্তিক নয়। আপনি এর বিষয়ে হয়তো সচেতন না-ও হতে পারেন কিন্তু আপনি সব সময় এই তথ্যগুলি ব্যবহার করছেন। নইলে আপনি এখানে থাকতে পারতেন না। বাম মস্তিষ্ক এবং ডান মস্তিষ্কের সক্রিয় সংহতি ছাড়া, আপনি এই তথ্যগুলি সচেতনভাবে অধিগত করতে পারেন না। আপনার ভিতরে জীবনের সেই অংশটাকে সচেতনভাবে অধিগত করতে পারা, আপনার ভিতরে তথ্য ও জ্ঞানের সেই অংশটা আপনাকে এমন জায়গায় নিয়ে যেতে পারে যা আপনি কল্পনাও করেননি। আপনি নিজের জীবনে যেটা এত খাটুনি করে করে আসছিলেন, সেটা অনায়াসেই করে ফেলতে পারবেন।

 

অগুণতি লোকের জন্য, জীবনযাপন ও কাজের দিক দিয়ে, এটা তাঁদের জীবনে কার্যকরী হয়ে উঠেছে। আমি বলব, আপনি যদি নির্দিষ্ট কোনো ধরণের কাজ করছেন, ধরুন আজকালকার সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, তাঁরা তিরিশ দিনে যেটা করছেন,সম্ভবত খুব অনায়াসে, ছ'মাস অভ্যাসের মধ্যেই তাঁরা আরো কম সময় এটা করতে পারবেন। কিন্তু চুক্তির মতলবে তাঁরা যদি এটাকে টেনেটুনে বাড়ান; সেটা তাঁদের ব্যাপার; আমার ব্যাপার নয়! পৃথিবীতে আপনার কাজ করার ক্ষমতা দারুণভাবে বাড়ানো যেতে পারে - প্রায় অতিমানবীয় মাত্রায়। শারীরিক ও মানসিকভাবে, এটা আপনাকে লোকজনের যে-কোনো ভিড় থেকে আলাদা করে দেবে, আপনি যদি অভ্যাসের প্রতি নিজেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে উৎসর্গ করেন। আর স্বাস্থ্যের দিক থেকেও, আজকে আপনাকে জানান দিতে এমন প্রচুর মেডিক্যাল গবেষণা রয়েছে যে এটা বিস্ময়কর কিছু ঘটায় আপনার মধ্যে।

আসল জিনিসটি ধীরে-ধীরে গড়ে উঠছে

 

পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া মাত্র। আসল জিনিসটি ধীরে-ধীরে গড়ে উঠছে। যেটা আপনি কেবল তখনই জানতে পারবেন যখন এটা প্রস্ফুটিত হবে। ততক্ষণ অবধি,আপনি ভাবেন কিছুই হচ্ছে না। এটা এরকম যে আপনি বাড়িতে একটা ফুলের গাছ লাগিয়েছেন। গাছটা যত বড় হয়, শুধু পাতাই গজাতে থাকে। আপনার প্রতিবেশী এসে আপনাকে বললেন, "এ কোনো কাজের না। আপনি বলেছিলেন যে ফুল হবে, কিন্তু খালি পাতাই গজিয়ে চলেছে। তার চেয়ে বরং চলুন এটাকে কেটেকুটে আমরা জ্বালানির কাঠ বানিয়ে ফেলি।" আপনি বললেন, "দাঁড়ান দেখি। হয়তো কাল সকালে এটা কার্যকরী হবে।" আগামীকাল সকালে - কিছুই হল না। আপনি আবার বললেন, "দাঁড়ান দেখি, আরেকটা দিন," একদিন, একদিন করে… কেটে গেল বছরের পর বছর। আপনি যদি না জানতেন যে এই গাছে ফুল ফুটতে কত দিন সময় লাগে, সম্ভবত আপনি গাছটাকে একশো-বারখানেক কেটে মুড়িয়ে ফেলতেন। কিন্তু আপনি যদি এর পরিচর্যা করে যেতে থাকেন, যেদিন এতে ফুল ফোটে, যখন গাছটি ফুলে-ফুলে পুরো ভরে ওঠে, আপনি তখন উপলব্ধি করেন যে এই গাছটা পাতার জন্য ছিল না, ছায়ার ছিল না, একটুখানি অক্সিজেনের জন্যও ছিল না। গাছটিতে, যখন ফুল ফোটে, সে হয়ে ওঠে অসম্ভব সুন্দর।

Editor’s Note: Here’s a list of the “side-benefits” as per medical research on the Shambhavi Mahamudra kriya offered by Isha Foundation. You can also try out these free 5-minute Upa-Yoga practices.