২০১৯ এর মহাশিবরাত্রিতে সাধনাপদ কাৰ্যক্রমের সমাপন হল

প্রায় ৭ মাসের কঠোর সাধনার পর, প্রথম সাধনাপদ কার্যক্রম মহাশিবরাত্রিতে এসে শেষ হয়। সদগুরু অভ্যন্তরীন বিকাশের জন্য সময় দেওয়া কতটা প্রয়োজনীয় সে কথা আলোচনা করলেন এবং অংশগ্রহণকারীরা তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানালেন।
 

প্রথম সাধনাপদ কার্যক্রম, যেটা ২০০-র বেশি অংশগ্রহণকারী নিয়ে ২০১৮ র গুরু পূর্ণিমা তিথিতে ঈশা যোগ কেন্দ্রে শুরু হয়েছিল, তা ২০১৯-র মহাশিবরাত্রিতে এসে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা ঈশা যোগ কেন্দ্রে আত্মরূপান্তরের এই ৭টি মাস কাটিয়েছেন এক কঠোর সাধনা কার্যসূচীর মধ্যে, যার মধ্যে ছিল যোগ অনুশীলন ও সেবাদান।

 

ফেব্রুয়ারী মাসে অংশগ্রহণকারীরা সদগুরুর সাথে বহু-প্রতীক্ষিত এক সৎসঙ্গে যোগ দিতে পেরে হাসি ও আনন্দের অশ্রুতে আপ্লুত হন।

সদগুরু: আপনারা প্রত্যেকেই এই সাধনাপদ অত্যন্ত ভালো ভাবে করেছেন। আমি আন্তরিক ভাবে তার প্রশংসা করি। আজকাল অল্পবয়সিরা যখন এমন সব কাজে জড়িয়ে পরছে যেসবের ধারেকাছে তাদের থাকা উচিত নয়, তখন আপনাদের বয়সি এতজনকে এখানে দেখাটা অসাধারন। আমি যখন বড় হচ্ছিলাম, আমার চারপাশে প্রত্যেকেই বিভিন্ন রকম জিনিসের মধ্যে ছিল। আমিই একমাত্র পাগল ছিলাম যে নিজের ভিতরে কিছু করতে চেয়েছিলাম। প্রত্যেকেই কিছু করতে চেয়েছিল অন্য কারও সাথে। সেজন্য আপনাদের সকলকে এভাবে এখানে দেখে আমি অভিভূত।

আপনারা যদি নিজেদের মানুষত্বকে জাগিয়ে রাখেন, আমি প্রতি মুহূর্তে আপনাদের জীবনে আসব - কিন্তু আপনাকে মনুষ্যত্বকে উদ্দীপ্ত রাখতে হবে। অন্য সমস্ত জীবই সহজাত প্রবৃত্তির দ্বারা বেঁচে থাকার জন্য প্রস্তুত। তারা প্রত্যেকেই, সব সময়, নিজেদের মতো করে নিজেদের সীমারেখা বেঁধে নিচ্ছে তাদের সহজাত প্রবৃত্তি অনুযায়ী । একজন মানুষ হবার অর্থ হল, সে সচেতনভাবে তার সীমারেখাটাকে অতিক্রম করতে পারে - সে কোনো সীমারেখা ছাড়াই বাঁচতে পারে। বাস্তব কারণে এবং যে পৃথিবীতে আমরা বাস করি তার নিয়মে, হয়তো চারপাশে একটা বেড়া বেঁধে দিতে পারি। কিন্তু আমাদের হৃদয়ে কোনো সীমারেখা নেই।

সুতরাং অবশ্যই দেখবেন কীভাবে এটিকে নিজের জন্য সত্যি করে তোলা যায়। সাধনাপদ শেষ হয়ে গেছে, তার মানে এই নয় যে এটা শেষ। গোটা জীবনটাই হলো সাধনা ...আর সাধনা হল একটি উপায়। এই শরীর ,মন, ও প্রাণশক্তি হল আমাদের সরঞ্জাম এবং এগুলিই একমাত্র সরঞ্জাম যা আমাদের আছে। যদি এগুলো কার্যকরী ও ধারালো না হয়, তাহলে এ এক শোচনীয় জীবন হয়ে ওঠে। হয়তো আপনার অর্থ, সম্পদ ও আরো অনেক কিছু আছে কিন্তু এই জীবন যদি প্রাণবন্ত না হয় তাহলে ওই সমস্ত কিছুই উপদ্রব হয়ে দাঁড়ায়। সাধনা মানে হল - শরীর ,মন, ও প্রাণশক্তিকে একটি প্রবল সরঞ্জাম বা যন্ত্র বানিয়ে তোলা। আর আমাদের এই যন্ত্রের ব্যবহার জানতে হবে। আপনি যদি এই সরঞ্জামের ব্যবহার জানেন তাহলে স্বাভাবিকভাবেই নিজের সীমাবদ্ধতাকে মুছে ফেলতে পারবেন। শক্তিশালী সরঞ্জামের সাথে যদি সীমাহীন হতে পারেন, তবে এই পৃথীবিতে আপনি এক দুরন্ত শক্তি হয়ে উঠবেন । আমরা ঠিক এটাই দেখতে চাই। আসুন, এটা সম্ভব করে তুলি।

সর্বপ্রথম সাধনাপদ শেষ হতে চলেছে, আসুন আমরা অংশগ্রহণকারীদের এই সফরের দিকে একবার ফিরে তাকাই, বিশেষত শেষ কয়েকটি মাস যেখানে তারা মহাশিবরাত্রি আর সম্যামার জন্য তৈরি হয়েছেন।

sadhanapada-2019-collagepic

কৈবল্যপদে উপনীত হয়ে, অংশগ্রহণকারীরা ফিরে দেখেন কীভাবে বিগত এই ৭টি মাস তাদের একটি আনন্দময় জীবনযাপনের এক দৃঢ় ভিত্তি তৈরী করেছে। যখন ঈশার সকলে ২৫তম মহাশিবরাত্রি পালনের জন্য উদগ্রীব, এদের মধ্যে অনেকেই মহাশিবরাত্রি মহোৎসবটি সবচেয়ে ভালো ভাবে সম্পন্ন করার জন্য সক্রিয়ভাবে কাজ করছিল।

সঙ্কেত, ভারত - মহাশিবরাত্রি কর্মসমিতি দলে যোগদান করছেন

প্রচন্ড ক্রিয়াশীলতা এবং চরম স্থিরতা! সাধনাপদে থাকাকালীন এই দুরকম অভিজ্ঞতা অর্জন করা ছিল আমার স্বপ্ন। অবশেষে আমি নিজেকে ঠিক সেই দিকে অগ্রসর হতে দেখে অত্যন্ত খুশি, বিশেষত মহাশিবরাত্রির সেবাদান উপলক্ষ্যে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে। পরম্পরাগত যোগ কর্মশালার অংশগ্রহণকারীদের সাথে পরিচিত হতে পেরে, তাদের বুঝতে পেরে এবং সাহায্য করতে পেরে আমি অভিভূত।

স্টিভেন ,জার্মানি - আমি কেন সাধনাপদে এলাম

বাকি সকলেরা একটা কিছু করছে বলেই যে আমাকেও করতে হবে, সেটা আমি চাইনি। এমন কিছু করতে চেয়েছিলাম যেটা সত্যিই পরিবর্তন আনে। এবং সাধনাপদে এনারা সেই অবকাশ দিচ্ছেন যেখানে আপনি শুধুই নিজেতে থাকতে পারেন, খাদ্য, দৈনন্দিনের সামগ্রী বা অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে হবে না। আপনি এমনিই এখানে থাকতে পারেন, সেবাদান করতে পারেন আর আনন্দে থাকতে পারেন।

অনুরুদ্ধ ,রাশিয়া - কৃতজ্ঞতার অর্থ বুঝলাম

আমার সেবার একটা অংশ ছিল রাশিয়া থেকে আগত বড় একটি দলের দক্ষিন ভারত যাত্রায় সঙ্গ দেওয়া। ওনাদের সাথে এই সফর আমাকে আরও বেশি উৎফুল্ল করে তুলেছিল, কারন আমার নিজের খাওয়া, ঘুম নিয়ে আমার চিন্তা ছিল না, সবসময় একটাই চিন্তা ছিল, ওনাদের এই অভিজ্ঞতাকে আরও সুন্দর করার জন্য আমি আর কী করতে পারি। আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ এই সুযোগ পাবার জন্য। যদি ফেরার সময় সঙ্গে কিছু নিয়ে যেতে চাই, তা হল এই কৃতজ্ঞতা শব্দটির সঠিক অর্থ।

পাউলিনা ,মেক্সিকো - আনন্দঅনুষ্ঠান এবং পুরোনো পথকে ভোলা

আমি ভারতীয় সংস্কৃতির এমন এক গুণমুগ্ধ ভক্ত যে আমি নিশ্চিত আগের জন্মে আমি ভারতীয় ছিলাম! ভারতবর্ষে একটি দেশ হিসেবে মানুষ এখানে এত ভাবে জীবনের উৎসব পালন করে - প্রত্যেক ঋতু, আপনার ব্যাবহারের জিনিস্পত্র, প্রতিটি দেবদেবি, প্রত্যেক প্রাণী, প্রত্যেক গাছপালা, সবকিছুর জন্য! আমার জন্য সাধনাপদ হল মুক্তি - পুরোনো পন্থা থেকে মুক্তি। আগে আমি সবসময় মানসিক চাপের মধ্যে থাকতাম, না হয় বিষন্ন বা ক্রুদ্ধ বা চিন্তিত থাকাতাম - আমি সবকিছু নিয়ে সবসময় চিন্তিত থাকতাম। সাধনপদ আমাকে ওই সবকিছু থেকে, ওই একটানা উদ্বেগ থেকে মুক্ত করেছে ।

নোরা , জার্মানি /আয়ারল্যান্ড : বিরক্তি থেকে সোভাগ্য

আমি দেশবিদেশে বিভিন্ন রকম কাজ করছিলাম। সেইজন্য সবসময় একটা অস্থিরতা ছিল। আমার মনে হয় অন্যতম বড় জিনিস যেটা আমি আগে বুঝিনি যে আমি কত উদ্বিগ্ন ছিলাম। তাই এই সাত মাসের সাধনাপদ আমার জন্য সত্যি বিস্ফোরক ছিল এবং যে পরিমান আনন্দ, স্বচ্ছ দৃষ্টি আর ভারসাম্য আমি এখানে পেয়েছি সেটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

এর পর সাধনাপদ ২০১৮ এর অংশগ্রহণকারীদের কী করনীয়

তাদের এখানে কাটানো সময় থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে কিছুজন আশ্রমেই পূর্ণসময়ের সেচ্ছাসেবক হিসেবে থেকে যেতে পারেন - সদগুরুর কথা ও সপ্নকে সত্যি করবার জন্য এবং সাধনাপদে অর্জিত অনুভবকে গভীরতর করে তোলার জন্য । বাকিরা নিজেদের শহর বা গ্রাম থেকেই আশ্রমের কাজে সহযোগিতা করবেন, বা সাধনাপদ ২০১৯ এ সাহায্য করতে ফিরে আসবেন।

সাধনাপদ ২০১৯ এর নিবন্ধীকরণ চলছে !

সদগুরু এই বছর আরো বড়ো মাত্রায় সাধনাপদের সুযোগ প্রদান করছেন জাতে আরো বেশি মানুষের কাছে এই সম্ভাবনা পৌছে যেতে পারুক । এই কার্যক্রম গুরু পূর্ণিমায় (জুলাই , ২০১৯) শুরু হয় এবং মহাশিবরাত্রিতে (ফেব্রুয়ারী ২০২০) এর সমাপন হয়।

আরও জানতে যোগাযোগ করুন : +91-83000 98777

এখনই নাম লেখান

 
 
  0 Comments
 
 
Login / to join the conversation1