আগামী ১৫ থেকে ৩০ বছর মানব জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ

সদ্গুরু ব্যাখ্যা করছেন, যদি আগামী ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে প্রাচীন যোগ পদ্ধতি প্রভূত হারে মানুষের কাছে না পৌছায়, তাহলে মানব জাতির কর্ম-ক্ষমতা একেবারেই তলিয়ে যেতে পারে।
আগামী ১৫ থেকে ৩০ বছর মানব জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
 

সদগুরু: মানুষ হওয়ার সুবাদে, আমরা নানা ধরনের কাজ করতে পারি। কিন্তু আমাদের কাজের প্রকৃতি যাই হোক না কেন, আজকের পৃথিবীতে এমনকি একজন লক্ষ্যে স্থির ব্যবসায়ী পর্যন্ত তার মুনাফার চেয়ে মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তারের কথাই বেশি ভাবছে। এই কথাটা বোঝানোর জন্য ‘প্রভাব’ একটা খুব কঠিন শব্দ, আসল উদ্দেশ্যটা বলতে গেলে এটা বলতে হয় “আমরা মানুষের জীবনকে স্পর্শ করতে চাই”। এটা ব্যবসায়ীদের বক্তব্য হোক বা আপনার কোনো ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ার চেষ্টাই হোক, মূলত, আপনি আপনার ও অন্য কারোর মাঝে থাকা সীমানাগুলো কিচ্ছুক্ষণের জন্য ভেঙ্গে ফেলতে চাইছেন।

যোগী হওয়ার অর্থ আপনার স্বতন্ত্রতার পরিধিগুলো ভেঙ্গে ফেলার জন্য বদ্ধপরিকর হওয়া। কোনো না কোনো ভাবে, যে সীমারেখাগুলো আপনাকে বাকি মহাবিশ্বের থেকে পৃথক করে রেখেছে, তাকে আপনি মুছে ফেলতে চাইছেন। যোগের অর্থ হল বিজ্ঞানভিত্তিক উপায়ে এর দিকে এগিয়ে যাওয়া। আপনাকে তার জন্য বিরাট কিছু কাজকর্ম করতে হবে না, আপনাকে যৌনতায়ও লিপ্ত হতে হবে না, আপনাকে কোনো কিছুর মধ্যে জড়িয়ে পড়তেও হবে না। যদি সচেতনভাবে এই সীমারেখাগুলো মুছে ফেলেন, তাহলে শুধুমাত্র এখানে স্থির হয়ে বসেই কাজ করার অনুভূতির থেকেও সহস্র কোটি গুণ বেশি কিছু উপলব্ধি করতে পারবেন, এবং তা অত্যন্ত চমৎকার! যোগের অর্থ আপনার সীমানাগুলোকে মুছে ফেলা। 

মরিয়া প্রচেষ্টা

এই পৃথিবীর বুকে মানুষের যাবতীয় অর্থহীন কার্যকলাপ যে দেখেন, তার কারণ সীমানাগুলি জমাট বেঁধে যাওয়া। তারা তাদের প্রাচীর এত দৃঢ় করে তুলেছেন যে দুটো মানুষের সাক্ষাৎ হলেই ঠোকাঠুকি লেগে যায়। যোগ মানে শরীরটাকে দোমড়ানো মোচঢ়ানো নয়, ওজন কমানোর বা মানসিক চাপ কমানোর পদ্ধতিও নয়। এর অর্থ হল, আপনি ‘আমি বনাম মহাবিশ্ব’ এই মনোভাবের নির্বুদ্ধিতা বুঝতে পেরেছেন। যা আপনার জীবনের উৎস, তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাটা পুরদস্তুর মূর্খামী। যখন আপনি সেটা উপলব্ধি করেন, তখনই আপনি যোগের দিকে অগ্রসর হন। 

যখন দুটি মানুষ প্রেমে পড়েন অথবা পরিণয়ে আবদ্ধ হন, তখন তাঁদের অনেকটা যোগের মতই অনুভূতি হয়, তারা তাদের গণ্ডি ভেঙ্গে দেন, কিন্তু কিছু সময় পর দেখেন, সেটা আর ব্যর্থতা-মুক্ত থাকে না।

আপনি এটা কীভাবে করবেন সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। এটাকে আপনি ‘প্রভাব’ বলতে পারেন, আপনি একে সেবা বলতে পারেন, আপনি একে আপনার যা মন চায়, বলতে পারেন। আসল কথা হল, যখন আপনি উপলব্ধি করেন যে ‘আমি বনাম বাকি মহাবিশ্ব’ এই প্রতিযোগীতায় নামাটাই বোকামি, তখনই আপনি আপনার সীমানাগুলোকে শিথিল করতে শুরু করেন – এটাই হল যোগ। যার অর্থ ব্যর্থতার ঝুঁকি রহিত হয়ে এর দিকে এগিয়ে যাওয়া। যখন দুটি মানুষ প্রেমে পড়েন অথবা পরিণয়ে আবদ্ধ হন, তখন তাঁদের অনেকটা যোগের মতই অনুভূতি হয়, তারা তাদের গণ্ডি ভেঙ্গে দেন, কিন্তু কিছু সময় পর দেখেন, সেটা আর ব্যর্থতা-মুক্ত থাকে না। 

যেহেতু আপনি প্রাচীরটা ভেঙ্গেছেন কিছু সময়ের জন্য, তার ফলও পেতে হবে আপনাকে। এটা নাও হতে পারে যা, কিছু দিন পর দুটো মানুষ একে অপরের বিরুদ্ধেই যাবে। একটা সাচ্ছন্দ বোধও তৈরী হতে পারে। দুর্লভ কিছু মুহুর্তে, তারা তাদের সীমারেখা মুছেও ফেলতে পারেন। বাকি সময়ে সম্পর্কটা যেন পারস্পরিক ফায়দার ছকে বাধা। যে রূপেই হোক না কেন, আসলে যোগ মানে এই - প্রথমত আপনারা নিজেদের গণ্ডীগুলোকে মুছে ফেলতে চান। আর তার যে আনন্দ, তাকে যদি আপনারা উপলব্ধি করতে পারেন, তাহলে আপনারা চাইবেন আপনাদের চারপাশে সর্বত্র এমনটাই ঘটুক।  

জীবনের প্রহসন

জীবনের আসল প্রহসন হল, এর প্রধান হাতিয়ারগুলিই আমাদের বিরুদ্ধে চলে যাওয়া। এই দেহটিকে ছাড়া কীভাবে এখানে বাঁচতে হয় তা আমরা জানিনা। এই মন ছাড়া, কী করে বাঁচতে হয় আমরা জানিনা। দেহ এবং মন হল প্রধান দুটি সরঞ্জাম আমাদের জীবনের, অথচ এই দুটিই মানুষের বিরুদ্ধে চলে গেছে। আপনারা একে কষ্ট, দুর্দশা, অসুখ অথবা আরও যত খুশি নাম দিতে পারেন। মূল ব্যপারটা হল, জীবনের এই প্রধান দুটি যন্ত্র আপনাদের বিরুদ্ধে চলে গেছে। 

এই দুটি জিনিসকে আমাদের বিরুদ্ধে যেতে না দিয়ে, আমাদের সহায় হিসেবে ধরে রাখাটা আমাদের প্রধান দায়িত্ব। শরীর এবং মন আমাদের বিরুদ্ধে গেলে মানবিক সম্ভাবনাগুলি বাস্তবায়িত হয় না। ধরা যাক আপনার মাথাব্যাথা আছে। বড় কিছু নয়, কোন ক্যানসার নয় - শুধুমাত্র মাথাব্যাথা আপনার জীবন শেষ করে দেবে। অথবা ধরা যাক আপনার নাক সব সময় বন্ধ থাকে – বড় কিছুই নয়, শুধু একটু ঠান্ডা লাগা। প্রথমে আপনি বলবেন, “এ আর এমন কি?” কিন্তু ধরা যাক এটা কয়েক বছর ধরে চলল, আপনি দেখবেন জীবন শেষ হয়ে যাবে। ক্যান্সারের কারণে নয়, ভগ্ন হৃদয়ের কারণেও নয়, শুধুমাত্র একটু ঠান্ডা লাগার জন্য – জীবনটা শেষ হয়ে গেল। এই শরীর, এই মন যদি আপনার বিরুদ্ধে চলে যায়, তাহলে মানুষ হয়ে ওঠাকে তার পূর্ণ গভীরতা ও ব্যাপকতায় আবিষ্কার করতে পারবেন না। 

সব কিছু নিজের অনুকূলে ঘটান

কিছু মানুষের এই সমস্যা আছে – তাদের মনে হয় এই ব্রহ্মান্ডটাই যেন তাদের বিরুদ্ধে, যার কারণ, শুধুমাত্র তাদের জীবনযাপনের ধরন। যখন আপনার এই রকম প্রতিকূলতা থাকে, আপনি বাঁচতে পারবেন না। যোগ মানে – শরীর, মন, সমগ্র অস্তিত্ব - সব কিছুকে আমাদের অনুকূলে রাখা। অথবা আরও ভালো হয়, যদি আমরা এদের অনুকূলে কাজ করি। তারপর, যদি কিছু ঘটে, তাহলে ভাল হয়; যদি কিছু না ঘটে, আরো ভালো হয়। আজ খুব গুরুত্বপূর্ণ কিছু করার আছে – দারুণ! আজ কিছুই করার নেই - চমৎকার! কিন্তু বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে ব্যপারটা এই রকম, যদি কিছু ঘটে, তা হলে সমস্যা, যদি কিছু না ঘটে সেটা আরও গভীর সমস্যা। 

যোগ মানে আপনি সব কিছুর অংশ হয়ে ওঠেন। আপনার স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে, কিন্তু সে অস্তিত্বের পরিধি অবারিত, উন্মুক্ত। এই কারণে, এক ভাবে বলতে গেলে আমরা সবকিছু হয়ে উঠেছি, আর আমরা যে কোন অবস্থাতেই স্বচ্ছন্দ। যদি সত্যিই আপনার সীমাকে উন্মুক্ত করেন এবং এই অস্তিত্ব ও তার উৎস আপনার সহায় থাকে, তাহলে যা ঘটবার, তা ঘটবে। যোগ মানে এটাই - সবকিছুর সঙ্গে ঐক্যে থাকা, কারণ আপনি আপনার সীমানাকে শিথিল করে দিয়েছেন। আপনার সীমানা করে তুলেছেন অবারিত। যাতে জীবন প্রবেশ করতে পারে, যাতে আপনি আপনার নিজের দেহ আর মনের মধ্যে বন্দী না হয়ে পড়েন। 

 

বেশিরভাগ মানুষই তাদের নিজের দেহ আর মনের খাঁচায় বন্দী। আপনার শরীর ও মন হল সেই আধার, যেখানে জীবন আশ্রয় নেয়। কিন্তু তা না হয়ে আপনার শরীর আর মন হয়ে ওঠে জীবনের কারাপ্রাচীর। যাতে মনে হয় বেঁচে থাকাটা সার্থক, তার জন্য আপনাকে সব সময় উজ্জীবিত থাকতে হবে। আর শুধু আপনিই নন, আরও কিছু মানুষের কাছেও আপনার প্রত্যাশা থাকবে যে তারাও আপনার সঙ্গে সহযোগিতা করবে। যোগীরা সব সময় একাই থেকেছেন, তার কারণ এই নয় যে তাঁরা কারও কথা ভাবেননি। কারণ তাঁরা নিজেদের মধ্যে নিজেরা ভালই থাকতেন। যদি তৎকালীন সমাজ সঠিক ভাবে আগ্রহ দেখাত, তা হলে হয়ত তারা হস্তক্ষেপ করতেন। 

দেউলিয়া প্রজন্ম

আজ আমরা ইতিহাসের এমন এক সময়ে আছি যেখানে আমরা এক দেউলিয়া প্রজন্ম। উদাহরণ স্বরূপ, আমার বাবার সময়ে, তাঁদের জীবনে কোনও ব্যক্তিগত ঘটনা ঘটলে তারা কখনই সে ব্যাপারে কাউকে কিছু বলতেন না, তাঁরা নিজেরাই সামলে নিতেন সেসব এবং জীবনের পথে এগিয়ে যেতেন। তারপর আমার প্রজন্ম এল। আমি যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম, আমি বাইরের বাগানে বসে থাকতাম। প্রতিদিন কেউ না কেউ আসত আর তাদের সমস্ত জীবন কাহিনী বলত আমায়। কোনও আকর্ষণীয় জীবন ছিল না, কিন্তু তারা বলতে চাইত। যত অর্থহীন গল্প – কিভাবে তারা কষ্ট পেয়েছে তাদের মা বাবা, পড়াশোনা, তাদের বন্ধু বা বান্ধবীদের কাছ থেকে, অন্তহীন ভাবে। সে সময়, আমি শুধু সেই সব শুনতাম – সবারই কিছু না কিছু সমস্যা ছিল। মনে হত আমিই খাপছাড়া, কারণ আমার কোন সমস্যাই ছিল না।

আমার বাবার প্রজন্ম দিনপঞ্জী লিখতেন। এমন কি আমার প্রজন্মেও বহু মানুষ দিনপঞ্জী লিখেছেন, তাদের জীবনের সব কিছু লিখতেন তাতে, এবং তারা চাইতেন না কেউ তা দেখুক। যদি কেউ মলাটটাও খুলতেন, তারা সাংঘাতিক বিচলিত হয়ে পড়তেন। “আমাকে না বলে আমার ডাইরী খুলেছ” – সেটা একটা অপরাধ ছিল। কিন্তু আজকের প্রজন্ম তাদের জীবনের প্রতিটি ঘটনাই ফেসবুকে দিয়ে দেন, “ আমি ব্রেকফাস্ট করছি”- তার ছবি !“ আমি আইস্ক্রিম খাচ্ছি”- তার ছবি!প্রতিটি জিনিস...।

এক অর্থে, এ এক দেউলিয়া প্রজন্ম। যখন কোনও প্রজন্ম এরকম দেউলিয়া হয়, সেটাই রূপান্তরের শ্রেষ্ঠ সময়। এমন অনেক জিনিস আছে যা এখনই আমার পক্ষে বলা সম্ভব নয়। যদি এই পৃথিবীতে মানবজাতিকে সত্যিই রূপান্তরিত করতে হয়, তার জন্য কেবল পনের থেকে খুব বেশি হলে তিরিশ বছর আপনি তাদের পাবেন। তারপর, তাদের স্পর্শ করাটা খুব কঠিন হয়ে উঠবে। অবশ্য, কিছু মানুষ চিরদিনই আগ্রহী থাকেন, অন্যেরা কোনোদিনো আগ্রহী হবেন না, কিন্তু সাধারণভাবে, বেশিরভাগ মানুষই বিশেষ ভাবে আগ্রহী হবেন এই পনের থেকে তিরিশ বছরের মধ্যে। তারপর, নানা কারণে কঠিন হয়ে উঠবে সেটা। 

শুধু স্বল্প সময়ের এক সম্ভাবনা

সুতরাং, আমরা এখানে এখন একদম উপযুক্ত সময়ে আছি। যদি আমরা সঠিক কাজগুলো করতে পারি, সবথেকে বেশি সংখ্যক মানুষকে ছুঁতে পারব আমরা। কিন্তু যদি সময়টা চলে যায়, এই প্রজন্ম চলে যায়, আর একবার যদি তারা ফেসবুক ইত্যাদি থেকে সরে যায়, সেটা খুব কঠিন হবে। সর্বপরি, যদি আমরা এই পৃথিবীকে যথেষ্ট জোরালোভাবে যোগ না শেখাই, আর পচিশ তিরিশ বছরের মধ্যে এই পৃথিবীর নব্বই শতাংশেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন রসায়নিক দ্রব্যের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে। আর একবার যদি তা হয় তাদের সাথে কথার আদান প্রদানই সম্ভব হবে না। এই বিশ্ব খুব দ্রুত সেদিকেই যাচ্ছে। শুধুমাত্র এক জায়গায় বসে নিজেদের সীমারেখাকে উন্মুক্ত করার অন্য উপায় যদি তাদের দেখান না হয়, তারা এমন পদ্ধতিতে বেছে নেবে যেটা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেটা কাজ করবে মাত্র কয়েক মিনিট বা কয়েক ঘন্টার জন্য – কিন্তু পরবর্তীকালে সেটা তাদেরকেই আত্মসাৎ করবে। 

এটাই সঠিক সময়, আর এই পৃথিবীর বুকে এটা আমাদের সময়। যদি আমরা সমর্পিত এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হই, তাহলে একে মানবজাতির ইতিহাসে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সময় করে তুলতে পারি আমরা। কারণ আমরা এখন আগের থেকে অনেক বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন। মানুষের বেঁচে থাকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগুলি আগে কখনও এত সুলভ হয়নি। অবশ্য, অন্য জীবদের জন্য সুলভ নয়, দুর্ভাগ্যবশত। এর আগে কখনও মানুষ এত বেশি সুবিধা এবং স্বাচ্ছন্দপ্রাপ্ত হয়নি। এখনই যদি আমরা যথোপযুক্ত কাজ না করি, পরে অনেক দেরি হয়ে যাবে। কারণ পরে পরিস্থিতি হবে অন্যরকম। হিসেব করে দেখা গেছে যে (যান্ত্রিক) কৃত্রিম বুদ্ধির (artificial intelligence) উত্থানের সাথে সাথে, সম্ভবত সত্তর বছরের মধ্যে জনসংখ্যার চল্লিশ থেকে পঞ্চাশ শতাংশ মানুষ আত্মহননের পথ বেছে নিতে পারে। এর কারণ শুধুমাত্র এটাই যে, যদি তাদের করার মত কিছু না থাকে, বেঁচে থাকার কোনও অর্থই খুঁজে পাবে না তারা। 

যোগঃ রূপান্তরের অনুঘটক

সুতরাং এই পৃথিবীতে যোগ শিক্ষা প্রদান করা অন্য যে কোনও কাজের মতো নয় – এটা একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকান্ড। সকলে এখন এটা বুঝতে নাও পারেন। কিন্তু যদি আমরা সবাই সঠিক কাজটা করি, যথেষ্ট তীব্রতার সাথে, তাহলে আপনারা দেখতে পারবেন আর পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে যোগ কতটা প্রয়োজনীয় হয়ে উঠবে পৃথিবীতে। ইতিমধ্যেই বছর পাঁচেক আগের তুলনায় আজ এর চাহিদা চোখে পড়ার মত বেড়েছে। একটাই সমস্যা হল, যখন কোন কিছুর চাহিদা খুব বেশি বেড়ে যায়, তখন হঠাৎ করেই সব রকমের কৃত্রিম জিনিস উঠে আসে, কারণ একটা বাজার তৈরী হয়ে যায়। আর যখন ভাল মানের পণ্য পাওয়া যায় না, মানুষ তখন বিভিন্ন রকমের কৃত্রিম জিনিস বানাতে থাকে। 

সনাতন (classical) যোগ একটি অনন্য পদ্ধতি। হয়ত এটা জুম্বা বা অন্য কিছুর মতো মনরঞ্জন করে না, কিন্তু যদি মানুষ যোগ পদ্ধতির কাছে সমর্পণ করেন, তাহলে এ এমন কিছু করতে পারে যা কল্পনারও অতীত। যোগ একটি অসাধারণ পদ্ধতি – এটা আপনার অস্তিত্বের সংগঠন বদলে দিতে পারে। আমি যখন বারো বছর বয়সে সাধারণ কয়েকটি যোগ অভ্যাস করা শুরু করি, শারীরিকভাবে এটা আমার সবকিছু পালটে দিয়েছিল। এটা নির্ভর করে আপনি কতটা একাগ্রতার সাথে অনুশীলন করছেন এটা। 

যোগ শিক্ষাদানঃ কে করছেন এবং কীভাবে করছেন

যোগ বিজ্ঞান চিরকালই ছিল, কিন্তু কে এবং কীভাবে একে বহন করছে, সেটাই বিশাল তফাত করে দেয়। নির্দেশিকার মাধ্যমে যোগ শেখানো ছাড়াও যোগ শিক্ষাদানের অন্য পদ্ধতি আছে। এর অর্থ বুঝতে পারবেন যদি আপনি কখনো ধ্যানলিঙ্গয় গিয়ে থাকেন – সেখানে এক যোগী বসে আছেন, যোগ সম্পর্কে যা কিছু জ্ঞান, সবই তাঁর আছে। তিনি কথা বলতে পারেন না, কিন্তু তার মানে এই নয় যে তিনি কিছু কম কার্যকরী। 

আমি যা করতে চাই তা করার জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত শক্তি আমার আছে, কিন্তু কখনো কখনো শরীর ক্লান্ত হয়ে পড়ে। যদি আপনি উঠে দাঁড়াতে চান, এবং নিজের থেকেও বৃহৎ কিছু করতে ইচ্ছুক থাকেন, বিশেষত তরুণ তরুনীরা, তাহলে এক বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। আপনাদের মধ্যে যারা এ পথে আসতে চান, আপনাদের ইচ্ছের কথা জানান। তারপর যা করনীয় আমরা করব।

 
 
 
 
  0 Comments
 
 
Login / to join the conversation1